আজ- ০৩ মাঘ | ১৪২৮ , বঙ্গাব্দ | সোমবার | শীতকাল |
আসসালামু-আলাইকুম।
কেমন আছেন বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। একটা সময় ছিল যখন শীতের এই সময়টাতে গ্রামবাংলায় পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যেত কিন্তু বর্তমানে মানুষের নানামুখী ব্যস্ততা ও বিবিধ কারণে যা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। শহুরে ব্যস্ত মানুষের যেমন নেই পিঠা বানানোর সময় তেমনি উপকরণগুলোও অনেক সময় হাতের কাছে পাওয়া যায় না। যাই হোক আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব খুব সহজে মাত্র ২/৩টি উপকরণ দিয়ে তৈরি করা যায় এমন একটি মজার পিঠার রেসিপি। আমাদের এলাকায় এই পিঠাটির নাম আনদোসা পিঠা। এলাকাভেদে পিঠাটির নাম ভিন্ন হতে পারে। আসুন তবে শুরু করা যাক।

প্রয়োজনীয় উপকরণ
| উপকরণের নাম | পরিমাণ |
| চালের গুঁড়া | আধা কেজি |
| চিনি/গুর | পরিমান মতো |
| লবণ | পরিমাণমতো |
| সয়াবিন তেল | ২ কাপ | |
প্রস্তুত প্রণালী
ধাপ ১ঃ
শুরুতেই আতপ চাল ঢেঁকিতে গুড়ো করে নিতে হবে। প্রয়োজনে মেশিনের সাহায্যেও গুঁড়ো করা যায়। চালের গুড়া তৈরি হয়ে গেলে ছাকনির সাহায্যে ভালো করে ছেঁকে নিতে হবে। যাতে বড় দানাগুলো এবং ময়লা আবর্জনা থাকলে তা আলাদা হয়ে যায়।

ধাপ ২ঃ
এবার একটি পরিষ্কার পাত্রে চালের গুড়া গুলোকে নিয়ে গরম পানি সেইসঙ্গে পরিমাণমতো লবণ এবং চিনি বা গুড় মেশাতে হবে। একটা ঘুটনির সাহায্যে সবকিছু ভালোভাবে মেশাতে হবে। যেন উপকরণগুলো ঘন তরল পদার্থের আকৃতি ধারণ করে। লক্ষ রাখতে হবে খুব বেশি ঘন বা খুব বেশি পাতলা যেন না হয়।

ধাপ ৩ঃ
একটি কড়াই বা ফ্রাই প্যানে ২ কাপ পরিমাণ সয়াবিন তেল দিয়ে গরম করতে হবে।

ধাপ ৪ঃ
তেল গরম হয়ে ফুটতে শুরু করলে একটি বড় টেবিল চামচ এর সাহায্যে তরল চাউলের গুলা হতে এক চামচ পরিমাণ নিয়ে গরম তেলের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে।

ধাপ ৫ঃ
এবার পিঠাটির একদিক ভাজা হয়ে গেলে পিঠাটি উল্টিয়ে দিতে হবে যাতে উভয় পাশ সমান ভাজা হয়। পিঠা বাদামী বর্ণের ধারণ করলে তেল থেকে উঠিয়ে ঝুড়ির মধ্যে রাখতে হবে। যাতে অতিরিক্ত তেল ঝরে পড়ে।আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে, এই পিঠাগুলো সবসময় ডুবো তেলে ভাজতে হয়। অল্প তেল দিলে ভাজা ঠিকমতো হবে না। হয়ে গেল আমাদের ঝটপট তৈরি আন্দসা পিঠা। এবার গরম গরম পরিবেশন এর পালা।

আজকের মত এ পর্যন্তই। আবার কথা হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনায় আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।
পিঠার রেসিপিটা দারুন হয়েছে।তবে,স্থানভেদে এটার নামের ভিন্নতা রয়েছে।আমাদের এলাকায় এটাকে তেলভাজা পিঠা বলি।আপনি যথার্থই বলেছেন,পিঠা বানানোর ধুম কিন্তু আগের মতো আর নেই।শীতকালে এই পিঠার প্রচলন আমাদের এলাকায় সচরাচর হয়ে থাকে।নিশ্চয়ই আপনার রেসিপিটি অনেক সুস্বাদু হয়েছে।ধন্যবাদ, আপনাকে।
পিঠাটি আসলে অনেক মজার ছিল। তবে অনেকেই এতে নারকেল মিশিয়ে দেয়। তখন খেতে আরো সুস্বাদু হয়। আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
জ্বি, ভাই।নারিকেলে টেস্টটা আমার ভালো লাগে।ধন্যবাদ
ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর করে পিঠা তৈরীর রেসিপি শেয়ার করেছেন। শীতকালে পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে। আমার অঞ্চলে এই পিঠাটি তেল পিঠা নামে পরিচিত। আনদোশা পিঠা এই নামটি আমার কাছে একদম নতুন। তবে যাই হোক অনেক সময় দেখা যায় অঞ্চলভেদে পিঠার নামের পার্থক্য হয়ে থাকে। মজাদার একটি পিঠার রেসিপি আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভাইয়া।
আপনি ঠিকই বলেছেন অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন রকম নাম হতে পারে। আমাদের এলাকাতে পিঠাটি আন্দোশা পিঠা নামেই পরিচিত। আপনার সুন্দর মতামতের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
শীতকালে পিঠা খেতে কার না ভালো লাগে। আমার তো খুবই ভালো লাগে। আপনার বানানো আনদোশা পিঠাটি আমার কাছে খুবই উনিক একটি পিঠা। আমি এর আগে এই পিঠাটি খাই নি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া এতো সুন্দর একটি পিঠার রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
পিঠাটি বানানো একেবারেই সহজ। চেষ্টা করে দেখুন আপনিও পারবেন। আশা করি ভালো লাগবে। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
বা ভিন্ন নাম তো বেশ। আমাদের এইদিকে অবশ্য এই পিঠাটি কে তেল পিতা বলা হয় কেননা তেলে ভাজা হয় এজন্য। ভালোই উপস্থাপন করেছেন আপনি। ধাপে ধাপে খুব সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন। শুভকামনা রইলো।
আমার পোষ্টে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
এই পিঠাকে আমাদের দিকে পাকোয়ান পিঠা বলা হয়ে থাকে। এটা আমার খুবই পছন্দের একটি পিঠা। এবং খুবই স্বল্প উপকরন দিয়েই এই মজাদার পিঠাটা তৈরি করা যায়। পিঠা তৈরি রেসিপি টা দারুণ ছিল। ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।।
জি ভাই পিঠাটি বানাতে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় না। একেবারেই সহজ। আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আনদোশা বেশ ভিন্ন পিঠার নাম শুনলাম। তবে পিঠা মানেই আনন্দ এবং খেতেও সুস্বাদু। তবে এই পিঠা আমাদের এদিকে তেল পিঠা বলা হয়। উপস্থাপনা এবং ফটোগ্রাফি গুলো অসাধারণ হয়েছে ধন্যবাদ আপনাকে শুভেচ্ছা রইল
আপনার মতামত জানতে পেরে অনেক ভালো লাগলো। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আমাদের এখানে এটাকে ভাজা পিঠা বলা হয়। খেতে বেশ মজাদার পিঠাটি। অনেক সুন্দর ভাবে প্রস্তুত প্রণালি উপস্থাপন করেছেন আপনি। পিঠা গুলো দেখতে বেশ ভালো লাগছে। খেতেও নিশ্চয়ই অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করবার জন্য। শুভকামনা রইল।
জি ভাই পিঠাটি অনেক মজার ছিল। তবে এর সাথে নারকেল যোগ করতে পারলে আরো বেশি মজা লাগতো। আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
এই পিঠাগুলো গরম গরম খেতে আসলে অনেক ভালো লাগে আর আপনার পিঠাগুলো খুব সুন্দর ফুলেছে দেখতে মনে হচ্ছে খুবই টেস্টি হয়েছে ।ঠিকই বলেছেন শীতের সময় গ্রামে গঞ্জে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায় আর আমরা যারা শহরে থাকি পিঠা তেমন একটা বানাতে পারি না বাইরে থেকে কিনে খাই। আর এই পিঠার নাম একেক জায়গায় একেক রকম আনদোশা পিঠা আমরা মাঝে মাঝে বলে থাকি। খুব সুন্দর একটি পিঠা রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপু আমার নিজের জানা নামটাই এখন অবিশ্বাস হচ্ছিল। আপনার মতামত জানতে পেরে আশ্বস্ত হলাম। সবাই যেভাবে বলছিল তেলে ভাজা পিঠা তাতে আমিও বেশ কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম। বেশ কয়েকজন কে জিজ্ঞেসও করেছিলাম। আমাদের এলাকাতে এটি আন্দোসা পিঠা নামেই পরিচিত। আর সত্যি বলতে কি পিঠা তৈরীর সময় আমার পাশে বেশ অভিজ্ঞ লোক সহায়ক হিসেবে ছিলেন। এত সুন্দর মতামত এর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
সত্যিই অনেক সুন্দর আনদোশা পিঠার রেসিপি টা আমাদের সাথে শেয়ার করলেন। পিঠা গুলো দেখে মনে হচ্ছে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। এই পিঠা আমি মনে হয় খেয়েছি কিন্তু পিঠার নামটা আমার কাছে খুবই নতুন লেগেছে। আসলেই অসম্ভব সুন্দর পিঠা তৈরি করলেন। আমার পিঠা গুলো দেখে খুবই ভাল লেগেছে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আপু আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
অসাধারণ একটা রেসিপি শেয়ার করেছেন। আমাদের এলাকায় এই পিঠাকে তেলের পিঠা বলে।আপনি খুব সুন্দর করে প্রতিটি ধাপ বর্ণনা করেছেন। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আমার পোস্টে মন্তব্য করার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে আপনার জন্যেও রইল শুভকামনা।