আবু রায়হানের ছবি তুলতে ব্যর্থ হলাম

in আমার বাংলা ব্লগlast year

IMG-20250331-WA0029.jpg

আসসালামু আলাইকুম/আদাব
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনাদের সবাইকে জানাই ঈদুল ফিতরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা করছি আপনারা সবাই ভাল ও সুস্থ আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকে আবারো আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব বাচ্চাদের সুন্দর সুন্দর ছবি তোলার পিছনের কাহিনী নিয়ে। আগে আমি সত্যিই ভাবতাম যে বাচ্চাদের এত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলতে কি আসলেই সময় লাগে ‌। আমার বাচ্চা হবার পর এই বিষয়টা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছি। ঈদ উপলক্ষে সবাই অনেক জায়গায় ঘুরতে যাচ্ছে বিভিন্ন ভাবে ছবি তুলছে। আসলে ছবিগুলো আমাদের স্মৃতি হয়ে রয়ে যায়। তাই আমরা সবাই চাই সুন্দর মুহূর্তগুলো ফটোগ্রাফির মাধ্যমে সারাজীবন ধরে রাখতে। বিয়ের পর বেশিরভাগ সময় ঈদ করা হয় শ্বশুর বাড়ি। তবে গতবছর রমজান মাস এবং এবছর ঘর রমজান মাস ঈদুল ফিতর আমার বাবার বাড়িতেই পালন করা হচ্ছে। কেননা আবু রায়হান ছোট তাই রমজান মাসটা আমি আমার বাবার বাড়িতেই কাটায়। যেহেতু সামনে বছর এখানে কি ওখানে ঈদ করা হবে তার কোন ঠিক নেই তাই ভাবলাম আমার আব্বু এবং আমার দুই চাচা সহ আমার ছেলেকে নিয়ে সুন্দর করে ছবি তুলে নেই। কিন্তু ছবি তুলতে গিয়ে যে এমন কাণ্ড ঘটবে আমার ছেলে এটা জানা ছিল না। সেটাই আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।

IMG-20250331-WA0024.jpg

IMG-20250331-WA0025.jpg

ঈদের আগের দিন যখন বাবু ঘুমিয়ে থাকলো তখন আস্তে আস্তে ওর হাতে মেহেদি দিলাম তবে অনেক সময় ধরে। একবার হাত এদিকে নাড়াই একবার ওদিকে নাড়াই একবার মুখে লাগাই বিভিন্ন সমস্যা। তারপরেও এই প্রথমবার ওর হাতে মেহেদি দিচ্ছি আনন্দটা অন্যরকম ছিল। ঈদের দিন খুব সকালেই দেখি বাবু উঠে পড়লে ঘুম থেকে। ও ঘুম থেকে উঠে পড়লে আমি ওর হাতমুখ ধুয়ে নতুন জামা পরিয়ে দিয়ে একটা। এবার বাবুর জন্য অনেক বেশি জামা কেনা হয়ে গিয়েছিল ঈদে। তাই ভাবছিলাম সকাল থেকেই একটার পর একটা পড়াবো। নতুন জামা পড়ে সে তো অনেক খুশি। ভাবলাম কয়েকটা ছবি তুলে আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। কিন্তু কিছুতে এক জায়গায় দাঁড়াবেন না ছবি তুলতেই দিচ্ছে না। বিরক্ত হয়ে আর ছবি তুললাম না। এরপরে মসজিদে আমার আব্বু টাকা তুলছিলেন। আর মাইকে বিভিন্ন ধরনের গজল সূরা এগুলো বলছিলে। নানার কথা শুনে সে চারদিকে খুঁজছে। তাই ওর হাতে কিছু টাকা দিয়ে আমার চাচাতো বোনদের কে দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম মসজিদে। সেখানে গিয়ে নাকি সারা মসজিদ ঘুরে বেড়াচ্ছে আনন্দের সাথে। এ কথা শোনার সাথে সাথে আমার বোনকে পাঠিয়ে দিলাম ওর কিছু ভিডিও করার জন্য। সব সময় চেষ্টা করি আবু রায়হানের সুন্দর মুহূর্তগুলো ধরে রাখার জন্য।

IMG-20250331-WA0028.jpg

IMG-20250331-WA0035.jpg

বাবু তো একদমই থেমে থাকে না তাই ধৈর্য ধরে আমার বোন আর তার ছবি তুলতে পারিনি। এরপরে দুইটা ভিডিও করে নিয়ে এসেছে। ভিডিওটা যদিও আমি ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছি তাই আর এখানে পোস্ট করা হবে না। এরপর এসে আমার আব্বুর সাথে মিষ্টিমুখ করলো। সেমাই মিষ্টি এগুলো তার খুব বেশি পছন্দ না তবে রসমালাই খেতে বেশ পছন্দ করে।সব সময় নানার পিছন পিছন মানে আমার আব্বুর সাথে থাকবে সে। আর আমার শ্বশুর বাড়ি গেলে ওর আব্বুর সাথে মানে আপনাদের ভাইয়ার সাথে। তারপর সবাই গোসল ছেড়ে নামাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। আমিও প্রথমে আবু রায়হানকে একটি পাঞ্জাবি পরিয়ে টুপি মাথায় দিয়ে রেডি করে দিলাম। কিন্তু পাঞ্জাবি সে পড়বে না সেই কান্না। তারপরে পাঞ্জাবি খুলে সাদা ও সবুজ রঙের রাম্পার পড়িয়ে দিলাম। এরপর ওকে নিচে দাঁড়িয়ে ছবি উঠানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু দৌড়ে একবার এদিকে একবার ওদিকে চলে যাচ্ছিল।

IMG-20250331-WA0031.jpg

IMG-20250331-WA0030.jpg

এটা দেখে আমার তো ভীষণ রাগ হয়ে যায়। তারপর আমার আব্বু আবু রায়হানকে কোলে তুলে নেয় আর ও কান্না শুরু করে দেয়। সে যে কান্না শুরু করল আর ছবি তোলার মতো কোনো অবস্থায় রাখলো না। আমার তো ভীষণ রাগ হয়েছিল। কারণ এই মুহূর্তটা আর কোনদিনই ফিরে পাবো না। কত সুন্দর করে ওকে রেডি করালাম সবাইকে একত্রে এক জায়গায় দাঁড় করালাম। কিন্তু অবশেষে একটি ছবি তুলতে পারলাম না। মনটাও খারাপ হয়ে গেল। এদিকে আমার আব্বু আর চাচারা নামাজে চলে যাচ্ছে আর বাবু যাওয়ার জন্য কান্না করছে। আবু রায়হানের বয়স মাত্র এক বছর ওকে নিয়ে ঈদগাহ ময়দানে যাওয়া ও যাবে না। কেননা নিয়ে গেলেও কান্না করবে আবার বাড়িতে থাকলেও কান্না করবে। তাই আমি একটু রাগে রাগে ওর জামা কাপড় খুলে বাড়ির মধ্যে নিয়ে চলে গেলাম। এরপরও আরো কান্না করছিল পরে এটা ওটা দেখিয়ে থামিয়েছি। সব মিলিয়ে বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারলাম একটি সুন্দর বাচ্চার ছবি তুলতে গেলে কতটা কষ্ট করতে হয়। আজকে এই পর্যন্ত আপনাদের মাঝে শেষ করছি। পরবর্তীতে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হবার চেষ্টা করব। আল্লাহ হাফেজ।

g6br9NKHvSo72r7xnHSpj1hkcv6csCddDyMEi1jUecgDw3N4Yfy6YpdUvdCyw6kiWy8pVjCrDNVML5aQoBLFZoYCEFX6JNcKgvs5UsgTeh...vc46UPdpEf1AVVuUWBn8RUMuwUdmFWuyrwZEyyuDTDyVbPcmkcnLzvaPhyPaKzykkdRpMiY3R5t15G2er9hQQRrN59nMWe2xMnGw1fVdX6StCUsD1ukGkadgPX.gif

5zGozCj1raAPxR2gxtAcC4PqrgwoJ7g4fhsaZBQiGiZqD8TG2URyGVeS9wfGC6bbv9GSFJJ7cs9hhhzg9bBWB2YWdJJwcvoKQM9J4d27PR...KPKF6zqAovEmYL1T3UophX8h4Vurjb89ULGf4rkgt5dtawbAQzfqC1a6RfjNVLwj8U29EuYyYkv5jrrkhKTV7iz4S2EEfCFWVMc9QFV9HDhKqYRqgectoFAwRP.gif

hPb2XtKwBGiwRzkrzveR1sSPznD4Wv2miQhHXdT4AQFLAHkykY3jBdZmCxJjk6ztifZuRFBV7zoGPBbLN7Lkye6VFmom81baPfeUCEyY7A...YVvDBETk3mJPgn7FZvEHUXrxkZzx8XXwvxZ1XaAXaUKMY1J4Jnwp1qFNdww2VMXKd9tbLkXzNUZiDGZRtCm2dynbYGBzJduBamEPX9ALJK2XX9TDqYeaKh8Gtd.gif

IMG_20230624_202025.jpg

আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

Sort:  
 last year 

Screenshot_20250331-210412.png

Screenshot_20250331-205517.png

Screenshot_20250331-205310.png

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.085
BTC 60371.10
ETH 1581.81
USDT 1.00
SBD 0.42