বিকেল বেলা সবজি ক্ষেতে কিছু সময়।
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে মঙ্গলবার ,১৮ ফ্রেব্রুয়ারি ২০২৫
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকে আমি আবারো আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব সবুজের মাঝে কিছু সময়। অর্থাৎ আমাদের ফসলের মাঠে সবজি ক্ষেত দেখতে যাওয়ার কিছু মুহূর্ত। এর আগে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম সরিষা ফুল দেখতে যাওয়ার মুহূর্ত। সেই দিন সরিষা ক্ষেত দেখে আমরা চলে গিয়েছিলাম আমাদের সবজি ক্ষেতের মাঠে। আজকে সেই বিষয়ে আপনাদের মাঝে অনেক কিছু শেয়ার করব। সেদিন আমরা চারজন ছিলাম। আমি ,আমার ছেলে আবু রায়হান, আমার ফুফু ও আমার মা। চার জন অনেক সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছি। তবে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছিল আবু রায়হানের জন্য। কেননা ও নতুন নতুন গাছ দেখছিল আর ভীষণ খুশি হচ্ছিল। যেহেতু সবজি বাগান তাই সবগুলোই ছোট ছোট গাছ আর সুন্দর সুন্দর ফুল ফল।
সবজি বাগানে ঢুকতে না ঢুকতেই প্রথম দিকে রয়েছে ছোট্ট একটি মাচা তার ওপর রয়েছে দুইটা পুঁই শাকের ফল ও ফুল। সবজি বাগানে ঘোরাঘুরি করতে এমন ভীষণ ভালো লাগে। তাই বাবার বাড়িতে গেলে চেষ্টা করি একটু মাঠের দিকে ঘুরে বেড়াতে । আমরা বিকেলের দিকে গিয়েছিলাম তাই আবহাওয়াটা অনেক সুন্দর ছিল। অনেকদিন পর মাঠের দিকে যাচ্ছিলাম কেমন যেন অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছিল। আমাদের ফসলের ক্ষেতে গিয়ে পুঁই শাক গুলো দেখে আমার তো ভীষণ ভালো লেগেছিল। আমার মাকে বললাম কিছুটা পুঁইশাক কেটে নাও রান্না করে খাব। আমার মা বলল যাওয়ার সময় নিয়ে যাব। কিন্তু দুঃখের বিষয় যাওয়ার সময় আর মনে ছিল না। অনেকগুলো সবজি তুলেছিলাম তো। এরপর পুঁই শাকের নিচের দিকে একটু আগিয়ে রয়েছে মিষ্টি কুমড়া গাছ। মিষ্টি কুমড়া গাছ গুলোতে কোন মাচা দেওয়া হয়নি। এগুলো মাটির উপরেই হবে এবং মাটির উপরেই ফুল থেকে ফল হবে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় দেখা যায় এই মিষ্টি কুমড়া গাছে ফুল আসলে মাঠের ইঁদুরে ফুলগুলো কেটে দেয়। আর সেই জন্যই বিষ দিতে হয়।
কিন্তু এই সবজিগুলো যেহেতু আমরা বাড়িতে খায় তাই কোন রকম বিষ প্রয়োগ করা হয় না। সবগুলো সবজি একদম টাটকা বিষমুক্ত। এরপরে পুঁইশাক ও মিষ্টি কুমড়ার সামনের দিকে রয়েছে পেঁয়াজ ও রসুনের জায়গা। পেঁয়াজের থেকে অনেকগুলো রসুন লাগিয়েছে আমার আব্বু। এভাবে সবজি চাষ করলে সারা বছর নিজের চাহিদা মত সবজি পাওয়া যায়। তাই আমার আব্বু প্রতিবছর এভাবে অল্প অল্প করে সবজি চাষ করে। এর পরে রসুন এর পাশেই রয়েছে টমেটো, বেগুন, মরিচ, মুলা,পালং শাক ও লাল শাক। তবে আজকে আমি আপনাদের সাথে মুলা পালং শাক ও লাল শাক এর কয়েকটা ফটোগ্রাফি ও মুহূর্তটা শেয়ার করব। এবং পরবর্তী সপ্তাহের টমেটো এবং বেগুন আবু রায়হান নিজের হাতে তুলেছিল সেই মুহূর্তটা তুলে ধরব। মুলা গাছগুলো অনেক বড় বড় হয়েছিল আর অনেক সুন্দর মুলা হয়েছিল। এই মুলা গুলো যেহেতু কোন সার ,বিষ দেওয়া না তাই রান্না করলে এর স্বাদটাও অন্যরকম। মুলা ও পালং শাক একসাথে রান্না করলে খেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে।
এরপর আমরা কিছু মুলা ও পালন শাক তুলে নিলাম। সবজি ক্ষেতের মাটি খুব বেশি নরম না তাই মুলা তুলতে গিয়ে তিনটা মুলা গাছ আমার কাছে অর্ধেক করে ভেঙে গেছে।। আর মাটির নিচে থাকা মূলক গুলো তোলার মতো আমরা কোন কিছু নিয়ে আসছিলাম না। তাই আর সেগুলো তোলা হয়নি। তারপর অনেকগুলো পালং শাক তুলে নিলাম। এরপর আমার ফুফু বলল কিছু লাল শাক তুলে নিতে। তারপর আমরা কিছু লাল শাক তুলে নিলাম। এরপর দেখি গাছে অনেকগুলো মোটা মোটা বেগুন। তার সাথে টমেটো ধরেছে একদম থোকা থোকা। কিন্তু আজকে আর নয়। পরবর্তীতে অন্য কোন পোস্টে আপনাদের মাঝে টমেটো ও বেগুন সবজি নিয়ে হাজির হব। সবার সুস্থতা কামনা করে আজকে এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে নতুন কোন পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে হাজির হবার চেষ্টা করব। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলে আপনি কিন্তু মায়ের কথা ভুলে যাওয়ার জন্য এত সুন্দর একটা সবজি বাড়িতে নিয়ে যেতে পারলেন না। আসলে এই ধরনের সবজি ক্ষেতে ঘুরতে কিন্তু আমার খুব ভালো লাগে। দারুন দারুন কতগুলো ফটোগ্রাফি কিন্তু আজ আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। এত সুন্দর একটা পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ভাইয়া পুঁই শাক গুলো সত্যিই আনতে ভুলে গিয়েছিলাম ।কিন্তু পরবর্তীতে আমার আব্বু গিয়ে নিয়ে এসেছিল।
আপনারা চারজন মিলে সবজি বাগানে গিয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। নিজেদের এরকম একটা সবজি বাগান থাকলে সত্যিই ভালো লাগে। অনেক রকমের শাকসবজি হয়েছে দেখছি। আপনার ফুফুর জন্য লাল শাক তুলেছিলেন। বেগুন এবং টমেটোর ফটোগ্রাফি দেখতে পারলে আরো ভালো লাগতো। মুহূর্তগুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
আপু সামনের সপ্তাহে বেগুন এবং টমেটোর ফটোগ্রাফি তার সাথে সুন্দর মুহূর্ত গুলো শেয়ার করব। ধন্যবাদ আপু।
আজকাল বাজার থেকে কেনা সমস্ত সবজিতে বিষ মেশানো থাকে। অথচ আমরা শহরের মানুষেরা সেই সবজি কিনে খাই। আসলে আমাদের হাতে তো কোন উপায় নেই। তাই আপনি যে সুন্দর সুন্দর মাচার পুঁইশাক বা কুমড়োর ব্যাখ্যা করেছেন তা পড়ে বেশ লোভ লাগলো। সবজি বাগানের বর্ণনা এবং ছবিগুলি অসাধারণ হয়েছে। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছেন জেনে ভালো লাগলো।
ঠিকই বলেছেন ভাইয়া বাজারে বিষ দেওয়া সবজি বিক্রি করে জেনেও আমাদের সেটা কিনে খেতে হয়। কেননা এছাড়া তো আর কোন উপায় নেই। ধন্যবাদ ভাইয়া।
বিকেল বেলা সবজি ক্ষেতে কিছু সময় অতিবাহিত করেছেন এটা জানতে পেরে খুবই ভালো লাগলো। আমাদের সকলেরই উচিত বাড়ির আশে পাশে থাকা ফাঁকা জায়গাতে এই ধরনের সবজি তৈরি করা। তাহলে আমরা কীটনাশক মুক্ত সবজি এখান থেকেই পেয়ে যাব।
চেষ্টা তো করি বাড়ির পাশে থাকা জায়গা বিষমুক্ত সবজি চাষ করতে ধন্যবাদ।
আমার দেশের বাড়িতেও এভাবে অল্প বিস্তার সবজি চাষ হয়ে থাকে যা দৈনন্দিন প্রয়োজনে কাজে লেগে যায়। কিন্তু আমি যেহেতু শহরে থাকি আর জায়গা জমি নেই বললেই চলে কারণ ফ্ল্যাট বাড়ি তাই এগুলো আমার কাছে অধরা থেকে যায়। আপনার সবজি বাগানে ঘোরাঘুরির মুহূর্ত পড়ে আমার ইচ্ছে করছিল ছুটে চলে যাই। কী মনোরম সময়।
সবুজ প্রকৃতির মধ্যে দারুন মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম আপু সেই দিন বিকেল বেলা। সত্যি গ্রাম আর শহরের মধ্যে অনেক পার্থক্য। ধন্যবাদ আপু ।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বিকেলের কিছুটা সময় সবজি ক্ষেতে কাটিয়েছেন শুনে সত্যিই খুব ভালো লাগলো।প্রকৃতির সাথে এমন সময় কাটানো শুধু মনকে শান্তিই দেয় না, পাশাপাশি বিশুদ্ধ ও কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষের গুরুত্বও বুঝিয়ে দেয়। আমাদের সকলেরই উচিত বাড়ির আশেপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগিয়ে তাজা ও স্বাস্থ্যকর সবজি উৎপাদন করা। এতে যেমন নিজের খাবারের মান ভালো থাকবে, তেমনি পরিবেশও আরও সবুজ হবে।
সবুজ প্রকৃতির মধ্যে এভাবে একটু ঘোরাঘুরি করলে মন ফ্রেশ থাকে তার সাথে শরীরের সতেজ হয়ে ওঠে মনে হয়। ধন্যবাদ আপু।
গ্রামে থাকার সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে এটাই।আপনি খুব সুন্দর ভাবে গ্রামের সবজির বাগান দেখালেন। সব থেকে ভালো লাগলো পুইশাকের ফল দেখে। শাকের ফল এত ভেজে খেতে মজা অনেকদিন খাইনি। তারপর টাটকা মুলা দেখলাম সব মিলিয়ে বেশ ভালো লাগলো ।
হ্যাঁ আপু আমরা সব সময় টাটকা সবজি খেতে পারি কেননা গ্রামে বসবাস করি। ধন্যবাদ আপু।
আপু আপনারা দেখছি চারজন ভালই সময় কাটিয়েছেন সবজি ক্ষেতে। আসলে সবজি ক্ষেত বা কোথাও ঘুরতে গেলে মন এমনিতে ভালো হয়ে যায়। তবে আমরা কিছু সবজি করি সেগুলোর মধ্যে কোন মেডিসিন ব্যবহার করিনা। আর নিজেরা খেলে মেডিসিন না ব্যবহার করলে উত্তম। তবে সবজি ক্ষেতে দেখতেছি বিভিন্ন ধরনের সবজিও আছে তাজা। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করেছেন তাই ধন্যবাদ আপনাকে।
ঘোরাঘুরি তো আমার ছোট থেকে ভীষণ পছন্দ। মাঝে মাঝে চেষ্টা করি ছোট বড় যে কোন জায়গায় একটু ঘোরাঘুরি করার জন্য।