দুই বছর পর পুকুরে মাছ ধরতে দেখার অনুভূতি।
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে বুধবার , ১৯ মার্চ ২০২৫
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকে আবারো আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব পুকুরে গিয়ে খ্যাপলা জাল দিয়ে মাছ ধরার অনুভূতি। খ্যাপলা জাল মানে হাত দিয়ে ছড়িয়ে পুকুরে মাছ ধরে। অনেকেই খ্যাপলা জাল কে ঝাঁকি জাল বলে। কিছুদিন আগে আমরা রমজান মাসে যে পরিমাণ মাছ লাগবে সে অনুযায়ী মাছ ধরতে গিয়েছিলাম আমার আব্বু দের পুকুরে। আমার আব্বু জান দিয়ে মাছ ধরছিল। অনেকদিন হয়ে গেছে প্রায় দু বছর পুকুরে যাওয়া হয়নি। সেদিন আব্বু বলছিল তুমিও চলো পুকুরে। মাছ ধরা দেখতে এবং মাছ ধরতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। ছোটবেলায় আব্বুর সাথে চলে যেতাম পুকুরে মাছ ধরার জন্য । তবে আমি আবু রায়হানকে নিয়ে গিয়েছিলাম না। কেননা সময়টা ছিল দুপুর বেলা আর পুকুর তো সব মাঠের মধ্যে যার কারণে নিয়ে যাওয়া হয়নি। সেদিন অনেক সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলাম। সেই মুহূর্ত এবং অনুভূতি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।
প্রায় দুই বছরের বেশি হবে আমি অনেকগুলো পুকুর এভাবে একসাথে দেখলাম অর্থাৎ পুকুরে গিয়েছিলাম। পুকুরের একপাড়ে আমি যখন দাঁড়িয়ে অনেকগুলো পুকুর একসাথে দেখছিলাম আর প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম সেটা হয়তো আপনাদের বলে বোঝানো যাবে না। আমরা চারজন গিয়েছিলাম মাছ ধরতে। আমি আমার ছোট বোন, আমার আব্বু ও আমার বড় চাচা। পুকুরের মধ্যে আমার বড় চাচা নেমে চারিদিক থেকে পানি নাড়া দিয়েছিল যেন মাছগুলো একদিকে চলে যায়। এবার অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আমার আব্বু জাল পানির ভিতর ফেলছিলো। কিন্তু সময়টা শীতের সময় তাই তেমন একটা মাছ ওঠেনি। তারপরে অনেকগুলো মাছ উঠেছিল। বাড়িতে এনে আমি একটি গামলায় রেখে ফটোগ্রাফি ধারন করেছি। পরে আবার একদিন গিয়েছিলাম কিন্তু সেই দিন আর ফটোগ্রাফি ধারণ করা হয়নি। আমার আব্বু পুকুরে মাছের জন্য কিছু খৈল ভেজানো নিয়ে গেল একটি গামলায়। মাছ ধরা শেষ হলে খৈল গুলো পুকুরের ভিতর ছিটিয়ে দিয়ে আসবে।
আমার বোন এবং আমি অনেক সুন্দর মুহূর্ত অবিবাহিত করেছি। জাল থেকে যখন মাছ বের করছিল তখন আমিও একটু বের করলাম। তাজা মাছ গুলো নাড়তে ভীষণ ভালো লাগছিল। পুকুরে ছিল সিলভার, তেলাপিয়া, রুই , কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস ও পুঁটি মাছ। এছাড়াও তাকি ছোট ছোট মাছ এগুলো অনেক ছিল পুকুরের চারপাশে দেখা যাচ্ছিল। তবে ওই ছোট মাছ তো আর এই বড় জালে ধরা যায় না। ছোট মাছ ধরার জন্য আলাদা ছোট জাল রয়েছে। অনেকবার পুকুরে জাল ছড়ানোর পর কিছু মাছ উঠেছিল। আমার বড় চাচা বলছিল শীতের সময় নাকি তেমন মাছ ওঠে না এভাবে। আমরা প্রায় এক ঘণ্টার মতো ছিলাম পুকুরে। তবে এই এক ঘন্টায় অনেক সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছি। বুঝতেই পারছেন অনেকদিন পর পুকুরে গিয়েছিলাম আনন্দটা অন্যরকম। তবে আমার ছেলেকে নিয়ে গেলে হয়তো আরো বেশি আনন্দ পেতাম। কেননা আমার ছেলের মাছ অনেক পছন্দ।
মাছ ধরা শেষ হলে আমি আমার বোন ও আমার বড় চাচা চলে আসি বাড়িতে। আর আমার আব্বু পুকুরে মাছের খাবার দিয়ে কিছু কাজ ছিল সেগুলো সেরে কিছুক্ষণ পরে বাড়িতে এসেছিল। বাড়িতে এসে আমার ছেলে মাছগুলো দেখে তো ভীষণ খুশি। পরে টাটকা মাছ ভেজে বাবুকে খাওয়াই এবং আমরা অনেক মজা করে খেয়েছিলাম। ফুফুর বাড়ি গিয়ে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছিল মাছ ধরতে দেখতে এবং প্রকৃতির সুন্দর আবহাওয়ার সাথে নতুন করে পরিচয় হতে। কেননা অনেকদিন পর এরকম একটা পরিবেশের সাথে মিশতে অনেক বেশি ভালো লাগছিল। যাইহোক যতটুকু পেরেছে আমার অনুভূতি আপনাদের মাঝে শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। সবার সুস্থতা কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আবারো নতুন কোন পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে হাজির হবার চেষ্টা করব। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনাদের ওদিকে অনেক বড় বড় পুকুর এবং সেই পুকুরের মধ্যে মাছ চাষ করা হয় যা দেখতে খুবই ভালো লাগে। যদিও আমাদের এখানে এই ধরনের মাছ চাষ খুবই কম হয়। কিন্তু আপনাদের গুলো দেখলে অনেক বেশি ভালো লাগে মন চায় যে সেগুলো দেখতে চলে যায়। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মাছ ধরার মুহূর্তকে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আমাদের এলাকাতে অনেক বড় বড় পুকুর। আর যে যার মত পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করে।
দুই বছর পর পুকুরে মাছ ধরা দেখার অনুভূতি শেয়ার করেছেন।দুই বছর পর পুকুরে মাছ ধরতে দেখার অনুভূতি সত্যিই অনন্য। প্রকৃতির সাথে এই সংযোগ আমাদের মনে শান্তি আনে এবং ছোটবেলার স্মৃতিগুলোকে ফিরে আনে।পুকুরে মাছ ধরা শুধু আনন্দের বিষয়ই নয়, এটি আমাদের পরিবেশের সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষারও একটি উপায়। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে পারি।
ভাইয়া পুকুরে মাছ তো আমরা নিজেরা নিজেদের মতো করে চাষ করে। আর দুই বছর পর পুকুরে যাওয়ার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। ধন্যবাদ ভাইয়া।
পরিবারের লোকজন সমেত বেশ সুন্দর মাছ ধরার অভিজ্ঞতা হলো আপনাদের। আপনার বাবা এবং কাকা সবাই মাছ বিষয়ে বেশ পারদর্শী। শীতকালে সাধারণত মাছ পড়তে চায় না কারণ মাছগুলো জলের একদম নিচের দিকে চলে যায়। আপনার মাছ ধরার গল্প পড়ে আমার খুব ভালো লাগছে।
একদম ঠিক বলেছেন আপনার শীতকালে মাছ একদম পানির নিচে চলে যায়। তাই জাল দিয়ে সেভাবে মাছ ধরা যায় না। ধন্যবাদ আপু।