লাইফ স্টাইল: শিং মাছের সাথে আবু রায়হানের কিছু মুহূর্ত।
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমি আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকে আমি আবার আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব লাইফ স্টাইল সম্পর্কিত আবু রায়হানকে নিয়ে একটি পোস্ট। আজকে দুপুর বেলা আবু রায়হান শিং মাছ নিয়ে খেলা করছিল। আমি যেমন অবাক হই তেমন আনন্দ পায়। তাই ভাবলাম এই মুহূর্তটা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। ইতিমধ্যে আপনারা দেখতে পেয়েছেন কিভাবে বাবু শিং মাছ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি প্রথমে দেখে তো অবাক। আজকে দুপুর বেলা বাবুকে গোসল করিয়ে খাইয়ে আমার শাশুড়ির কাছে দিয়েছি ওনারা দুজন খেলা করছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আমার শ্বশুর তিনটা শিং মাছ নিয়ে আসে। আর আমার ছেলে তো মাছ ভীষণ পছন্দ। তার পছন্দের খাদ্যের মধ্যে হচ্ছে তেলাপিয়া মাছ ভাজা। তবে অন্য মাছ তেমন একটা খেতে চায় না। তাই আমিও বেশিরভাগ সময় ওকে তেলাপিয়া মাছ দেওয়ার চেষ্টা করি।
আবু রায়হান যে কোন জায়গায় মাছের ছবি দেখলে মাছ ,মাছ বলতে থাকে। তখন যদি ওকে বলা যায় মাছ কিভাবে খেতে হয় তখন খুব সুন্দর করে মুখ নাড়িয়ে দেখায়। আজকের মাছগুলো প্যাকেটের মধ্যে দেখে সে বুঝতে পেরে গেছে যে এর মধ্যে মাছ আছে। তখনই বলতে থাকে দাদা মাছ মাছ। তখন প্যাকেটের মধ্যে থেকে মাছগুলো বের করে একটি বালতিতে রাখি। মাছগুলো যেহেতু তাজা তাই বালতির মধ্যে কিছু পানিও দিয়ে দিই। এরপর পানির মধ্যে মাছগুলো ঘোরাফেরা করছিল দেখতে তো এমনিতেই ভালো লাগে। আর বাবু এটা দেখে একদম ওর মধ্যে হাত দিয়ে দেয়। আমরা প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম যে হয়তোবা শিং মাছ এ কাটা ফুটিয়ে দিবে। কিন্তু যখন আমার শ্বশুর বলে এই মাসে কাটা ফুটায় না। এগুলো শিং মাছ কিন্তু আমাদের এলাকাতে এগুলোকে মাগুর মাছ বলে।
এরপর আবু রায়হান বালতির মধ্যে থেকে একটি করে মাছ তুলছে আর বাইরে ফেলছে। এরপর বারবার সে মাছগুলো তুলছিল আর ফেলছিলো এটা দেখে আমার শ্বশুর আবার শিং মাছের কাঁটা গুলো কেটে দিল। কেননা যতই মাছগুলো কাটে না ফোঁটায় তারপরেও বাচ্চাদের জন্য একটু সাবধানে থাকা জরুরী। এরপর সে এভাবে প্রায় অনেকক্ষণ খেলা করছিল। যেটা দেখে আমরা সবাই অনেক হাসাহাসি করছিলাম। আবু রায়হান বারবার বলছিল মাছ মাছ। আর তখন আমরা জিজ্ঞেস করছিলাম এই মাছ কিভাবে খাবা তখন বাবু মুখ নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলছিল। সব থেকে বেশি অবাক হই পানির মধ্যে থেকে মাছগুলোর হাত দিয়ে তোলার বিষয়টা। শিং মাছ আপনারা সবাই জানেন অনেকটা পিচ্ছিল। আর পানির মধ্যে থাকলে আরো পিচ্ছিল হয়ে যায়। যার কারনে হাত দিয়ে ধরাই যায় না পিছলে পিছলে হাত থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু আবু রায়হান কত সুন্দর ভাবে একবার এই ধরে ফেলছে মাছগুলো।
মনে হচ্ছিল ভয় বলে ওর মধ্যে কিছুই নেই। তবে মাছের প্রতি ওর এত পছন্দ টা আমার বেশ ভালো লেগেছে। কেননা আমারও ছোট থেকে মাছ খেতে ভীষণ ভালো লাগে। এখন পর্যন্ত দিন একটি করে হলেও আমি মাছ খাই। কেন জানিনা মাছের প্রতি আমার আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করে। যাই হোক অনেক কথা আপনাদের মাঝে বলে ফেলেছি। সবার সুস্থতা কামনা করে আজকে এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আবারো আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবার চেষ্টা করব। সবাই ভালো ,সুস্থ ও সাবধানে থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ছেলের তো দেখতে আসলেই অনেক বেশি সাহস হয়ে গিয়েছে। মাগুর মাছ এইভাবে হাতে ধরেছে কাটা ফুটিয়ে দেয়নি এটাই তো ভাগ্য ভালো। আমিও লক্ষ্য করে দেখেছি ছেলে মাছ দেখলে অনেক বেশি পরিমাণে খুশি হয়ে যায়।
হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন বাবুর মাছ অনেক পছন্দ। আর মাগুর মাছ এভাবে হাত দিয়ে ধরতে দেখে আমিও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম প্রথমে।
আমি তো বাবুর সাহস দেখে অবাক হয়ে গেলাম আপু। এভাবে মাছ হাতে নিয়েছে যদি কাঁটা ফুটিয়ে দেয় তাহলে কি হবে। বাচ্চার সাহস আছে বলতে হয়। তারপরও আপু একটা কথা বলব ওকে বিপদজনক জিনিসগুলো থেকে দূরে রাখাই ভালো। ওর জন্য শুভকামনা রইল।
হুম আপু ওকে বিপদ জনক জিনিসগুলো থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি। ধন্যবাদ আপু।