লাইফস্টাইল: সবজি বাগানে একদিন
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে বুধবার ,২৭ নভেম্বর ২০২৪
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করছি আপনারা সবাই আপনাদের পরিবারের সাথে সুস্থ ও ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকেও আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে ইতিমধ্যে একটি পোস্ট শেয়ার করেছি আবারো আরেকটি পোস্ট নিয়ে উপস্থিত। তবে এখন আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব বিকেলে আমাদের সবজি বাগানে একটু ঘোরাঘুরির কিছু মুহূর্ত। বাড়ির আঙিনায় অল্প একটু জায়গা থাকলেও চেষ্টা করি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করার জন্য। কেননা বাজারে বিক্রি করা সবজি সবগুলোই বিভিন্ন ফরমালিনযুক্ত। বিভিন্ন বিষয়ের ব্যবহার করে দ্রুত বৃদ্ধি করা হয় সবজি। চাষিরা দ্রুত লাভ হবার জন্য বিভিন্ন ধরনের সার ,বিশ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আমরা যদি বাড়িতে সবজি চাষ করি তাহলে একদম টাটকা সবজি খেতে পারবো। এর আগে আমি এই বিষয়ে আপনাদের সাথে পোস্ট শেয়ার করেছি। আজকে আবারো শীতকালীন সবজি নিয়ে হাজির হয়েছে। আমাদের বাড়ির পাশে দুইটি বড় বড় জায়গা খালি রয়েছে। আর সেখানে আমরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করার চেষ্টা। তবে এ বছর বেশি বৃষ্টি হওয়ার কারণে অনেকদিন যাবত বৃষ্টির পানিতে জায়গাতেই ডুবে ছিল। তাই খুব বেশি একটা সবজি চাষ করার সুযোগ হয়নি। তারপরেও অনেক ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছে। সেখানে বিকেলে আমরা কিছু সবজি লাগানোর জন্য। আর সেটাই আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
এখন অগ্রহায়ণ ন মাস চলছে। আর এই সময় কৃষকের ঘরে ঘরে নতুন ধান ওঠার ধূম পড়ে যায়। ঠিক একই রকম ভাবে আমাদের বাড়িতেও ধান কাটা নিয়ে সবাই অনেক ব্যস্ত। তাই এর মধ্যে খুব একটা সবজি বাগানে সময় দিতে পারছে না আমার শশুর আব্বু। তাই একদিন দুপুর বেলা আমরা কয়জন মিলে চলে গেলাম সবজি বাগানে কিছু সবজি লাগানোর জন্য। আমি বাবা-মা ও আমার ছেলে আবু রায়হান সবাই লাল শাক ও পালন শাক এর বীজ নিয়ে সবজি বাগানে চলে গেলাম। এর আগে আপনারা আমাদের বাগান টা দেখতে পেয়েছেন। সেখানে কয়েকদিন আগে লাগানো হয়েছে কিছু পেঁয়াজ ও রসুন। তাছাড়াও আগে থেকে ছিল কিছু ঢেঁড়স ও পুঁই শাকের গাছ। তাছাড়া অনেক গাছ লাগানো হয়েছিল কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে সবই মারা গেছে। তারপর এর মাঝে লাগিয়েছে সিমের বীজ। আর লাগিয়েছে টমেটো ও বেগুন গাছের চারা। টমেটো ও বেগুন গাছগুলো একদম ছোট চারা লাগানো হয়েছিল এখন অনেকটাই বড় হয়ে গেছে। আর পেঁয়াজ ও রসুনের ছোট ছোট বীজ লাগানো হয়েছিল। এগুলো আগের থেকে অনেক বড় হয়ে গেছে।
সবজি লাগাতে গেলে কিছু বেড করা লাগে। কয়েকদিন আগে আব্বু রায়হানের আব্বু এসে কয়েকটা বেড তৈরি করে রেখে গিয়েছিল। আজকে আমরা এসে সেখানে লাল শাক ও পালং শাকের বীজ বুনে দিলাম। বীজ বুনোনোর পর মাটি দিয়ে বীজগুলো একটু ঢেকে দিচ্ছিল আব্বু ঠিক সেই সময় আমি কিছু ফটোগ্রাফি ধারণ করে নিই। এরপর আমি পাশের পুকুর থেকে বালতি করে কিছু পানি এনে রসুন ও পেঁয়াজ চারা দিয়ে দিলাম। আবু রায়হান এগুলো দেখে ভীষণ আনন্দ পাচ্ছিল। ও সবকিছু দেখছিল আর হাততালি দিছিল আর কি যেন বলছিল। আব্বু ওর হাত দিয়ে কিছু লাল শাকের বীজ বুনে দিল। তারপর আমরা কিছু লাউয়ের বীজও নিয়ে গিয়েছিলাম সেগুলো লাগিয়ে দিলাম।
এগুলো করতে করতে প্রায় আমাদের এক ঘন্টার উপরে হয়ে গিয়েছিল। তাই আর বেশিক্ষণ বাইরে না থেকে আমরা দ্রুত কাজ সেরে বাড়ির দিকে রওনা দিয়ে। আমাদের বাসা থেকে সবজি বাগানে যেতে তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগে। এরপর আমি ও মা তার পরের দিন গিয়ে লাল শাক ও পালং শাকের বেডে পানি দিয়ে আসি। তবে যখন লাল শাক ও পালং শাক বড় হয়ে যাবে তখন এটা নিয়েও আপনাদের মাঝে একটি পোস্ট লিখব। আমার তো নিজের হাতে কোন গাছ বা যেকোনো ধরনের সবজি চাষ করতে ভীষণ ভালো লাগে। তাই মাঝে মাঝে চেষ্টা করি সবজি বাগানে গিয়ে সবজির পরিচর্যা করার জন্য। যাইহোক আজকে এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আবার আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হওয়ার চেষ্টা করব। সবাই ভালো সুস্থ থাকবেন, শুভকামনা রইল। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
অনেক ভালো লাগলো তোমাদের সুন্দর এই সবজি বাগান দেখে। এখন শীতের সময় সামনে এসেছে। তাই এই মুহূর্তে শীতকালীন বিভিন্ন শাকসবজি উৎপাদন করা সম্ভব।
হুম সেজন্যই কিছু সবজি লাগিয়ে রেখে আসলাম বাগানে।