ছোট্ট একটা অনুষ্ঠান।
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটি বন্ধুরা
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগণ কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা করছি আপনারা সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকে আবারো আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আমার সুন্দর একটা মুহূর্ত। এই মুহূর্তটা কে ভালো নাকি খারাপ কোন ভাবে উপলব্ধি করব বুঝতে পারছি না। আজকে আমার মেজো চাচার বড় মেয়ে তার ছোট্ট সোনামণি আরিয়া জান্নাতকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি চলে গেল। আসলে মেয়েদের জীবনটা হয়তো এরকমই। বিয়ে হয়ে গেলে আর বাবা-মায়ের বাড়ি আগের মতো থাকে না। আপু এখানে এসেছিল বাবু হওয়ার জন্য। কয়েকদিন হল বাবুর বয়স তিন মাস পার হয়ে চার মাস পড়েছে। আর এর মধ্যেই তাকে বিদায় নিতে হলো বাবার বাড়ি থেকে। এখানে ছোট একটা অনুষ্ঠান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি যেমন আনন্দদায়ক তেমন একটু কষ্টদায়ক ও। কিন্তু এই কষ্টটার মধ্যেও যেন আনন্দ লুকিয়ে আছে এমন মনে হয়। আমরা সবাই জানি মেয়েরা যখন মেয়ে থেকে মা হতে যায় তখন তার বাবা-মায়ের বাড়িতে বেশিরভাগ সময় অবস্থান করে। আর ঠিক সেইরকম একটা মুহূর্ত ই আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। ছোটবেলা থেকে আমাদের যেখানে বেড়ে ওঠা যে পরিবেশে চলাচল করা বিয়ের পর ঠিক অন্যরকম আলাদা একটা পরিবেশের মধ্যে আমাদের যেতে হয়। এই আলাদা পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয় সবকিছু নিজের মতো করে নিতে হয়।
দিনশেষে এমন হয়ে যায় বাবার বাড়ি আর তেমন আশায় হয় না সেখানেই থাকতে হয়। এটাই মেয়েদের জীবনচক্র আর এর মধ্যে দিয়ে ভুল থেকে নতুন নতুন শিক্ষা অভিজ্ঞতা আমাদের অর্জন করতে হয়। তবে এর মাঝেও আমাদের আরেকটা জীবন আছে যেটাকে নিয়ে আমরা সবার সাথে সুখে শান্তিতে থাকতে পারি। আজকে আমার মেজো চাচার বড় মেয়ে তার শ্বশুর বাড়ি চলে গেল। ছোট্ট একটা অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে আপুকে নিতে ওর শ্বশুর বাড়ি থেকে চারজন মানুষ এসেছিল আর এদিকে আমাদের পরিবারের অন্যান্য বেশ কয়েকজনের দাওয়াত ছিল। মোটামুটি ছোটখাটো একটা আয়োজন করা হলো। তবে আয়োজনের প্রথম দিকে সবাই বেশ হাসি খুশি গল্প আড্ডায় ছিলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ওদেরকে বিদায় দেওয়ার সময় কেমন একটা সবার চোখে কষ্টের ছাপ মিলে এলো। কিন্তু এটা তো আমাদেরকে মেনে নিতেই হবে। নিজেদের জন্য আর সবথেকে বড় কথা আমাদের সন্তানদের জন্য। কেননা তারা দাদা-দাদী নানা-নানী সবার আদর তাদের দরকার।
আজকে এসে অনুষ্ঠান উপস্থিত হয়ে আমি কয়েকটা ফটোগ্রাফি ধারণ করেছিলাম। সেখান থেকে কয়েকটা ফটোগ্রাফি নিয়ে আপনাদের মাঝে এই পোস্ট লিখতে বসলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম এই অনুষ্ঠান নিয়ে আপনাদের মাঝে তেমন পোস্ট করব না কিন্তু ওরা চলে যাওয়ার পর মনের মধ্যে যেন কেমন অনুভূতি জাগলো বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি হতে থাকলে মনের মধ্যে। আর তখনই ভাবলাম আমার মনের এই অনুভূতিটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করি। সবাইকে নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে হলে জীবনের এই ধারাবাহিকতাটা বজায় রাখা খুবই জরুরী। এই যে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যাওয়া বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি আসা। এ যাওয়া সাজ যেমন আমাদের আনন্দ দেয় তেমন এই আনন্দের মধ্যে কষ্ট লুকিয়ে থাকে। কিন্তু যদি আমরা সবাই ভালো থাকি পরিবার নিয়ে তাহলে এই কষ্টটা কিছুই মনে হয় না। আজকে যখন আরিয়া চলে যাচ্ছিল দীর্ঘ তিন মাস পর আমাদের ছেড়ে তখন বেশ কষ্ট হচ্ছিল। কেননা আমরা যখন কোন জিনিস অনেকদিন কাছে রাখি তারপর দূরে চলে যায় তাহলে তো একটু কষ্টই হবে।
তাছাড়া বাচ্চা মানুষ একটু বেশি মায়াবী। তাছাড়া আগে থেকে এখন ও অনেকটা মানুষ চিনতে শিখে গেছে কথা বললেই কেমন শব্দ করে হাসি দেয় যেগুলো আরো বেশি মায়া বাড়িয়ে দেয়। যাইহোক আজকে আপনাদের মাঝে আমার মনের লুকিয়ে থাকা এই সুন্দর অনুভূতিগুলো শেয়ার করতে পেরে আমার এখন ভীষণ ভালো লাগছে। জীবনে চলার পথে পরিবারের এই ধারাবাহিকতা টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আপনাদের কাছে জানতে চাই। সবার সুস্থতা কামনা করে আজকে এখানে আমি শেষ করছি। পরবর্তীতে আবারো আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবার চেষ্টা করব। সবাই সুস্থ ও ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.