রেসিপি: জামাই পিঠা বা নকশি পিঠা তৈরি।
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধুগন
আমি @fatema001 বাংলাদেশ থেকে
আজকে শনিবার,২৬ অক্টোবর ২০২৪
আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গণ আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করছি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমি আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মতো আজকে আমি আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব মজাদার একটি রেসিপি পোস্ট। পিঠা খেতে সবাই অনেক ভালোবাসে। আর শীতকাল মানেই পিঠা পুলির ধুম। নতুন ধান উঠতে না উঠতেই পিঠা পুলির ধুম পড়ে গেছে গ্রাম অঞ্চলে। কিছুদিন আগে আমি মায়ের বাসায় ছিলাম তার মধ্যে এই পিঠা তৈরি করা হয়েছিল। তবে ব্যস্ততার কারণে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারিনি। তাই আজকে আমি আপনাদের মাঝে নকশি পিঠা বা জামাই পিঠা নিয়ে হাজির হলাম। বিভিন্ন অঞ্চলে পিঠা পুলির নাম ভিন্ন ভিন্ন। তবে আমাদের এলাকাতে এই পিঠা কে সবাই জামাই পিঠা নামে চেনে। তবে নকশা করা বিভিন্ন ধরনের ছাঁচের মধ্যে দিয়েও এই পিঠা তৈরি করে তাই অনেকের নকশী পিঠা বলে। তবে এই পিঠা গুলো তৈরি করার পর খেতে ভীষণ মজা লাগে। আমার কাছে তো পিঠা গুলো তৈরি করতে সব থেকে বেশি ভালো লাগে। আমি অনেকগুলো পিঠা তৈরি করেছিলাম আর সবগুলো নিজের হাতে। অল্প উপকরণ দিয়ে পিঠা গুলো তৈরি করা হলেও ভীষণ মচমচে হয়। আর এক সপ্তাহেরও বেশি সংরক্ষণ করা যায়।যাইহোক আমি কিভাবে পিঠা গুলো তৈরি করলাম সেটা এখন শুরু করছি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
| ক্রমিক নম্বর | নাম |
|---|---|
| ১ | ডিম |
| ২ | চিনি |
| ৩ | দুধ |
| ৪ | তেল |
| ৫ | ময়দা |
| ৬ | নকশি পিঠার ছাঁকনি |
ধাপ-১
প্রথমে আমি পাত্রে একটি ডিম ভেঙ্গে দিলাম। এরপর ডিমটি ভালোভাবে গলিয়ে নিলাম। আপনারা চাইলে আরো একটি ডিম ব্যবহার করতে পারেন।
ধাপ-২
ডিমটা ভালোভাবে গলানো হয়ে গেলে এর মধ্যে আমি দিয়ে দিলাম এক কাপ চিনি। এরপর আমি স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিলাম। তারপর ভালোভাবে নাড়াচাড়া করে সবকিছু মিশিয়ে নিলাম।
ধাপ-৩
এরপর আমি দুই কাপ ময়দা দিয়ে দিলাম। এরপর অল্প অল্প করে দুধ দিয়ে ভালোভাবে সম্পূর্ণ ডো তৈরি করে নিলাম। প্রথমে শক্ত করে মাখাতে হবে তারপর আস্তে আস্তে পাতলা করে নিতে হবে। হাত দিয়ে আমি দেখিয়ে দিয়েছি কেমন ঘনত্বটা হবে।
ধাপ-৪
এরপর আমি কড়াইয়ের মধ্যে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে দিলাম। তেলটা গরম হওয়ার পর নকশি পিঠা তৈরি করার ছাঁকনি তেলের মধ্যে দিয়ে দিলাম।
ধাপ-৫
ছাঁকনি গরম হয়ে গেলে আমি তেল সহ ছাঁকনি টা ময়দার ডো এর মধ্যে দিয়ে দিলাম। এরপর ময়দা মাখিয়ে আবার গরম তেলের মধ্যে দিয়ে দিলাম। দু এক সেকেন্ড পর এমনিতেই পিঠা ছাঁকনি থেকে ছুড়ে যাবে । তারপর এপাশ-ওপাশ করে ভালোভাবে ভেজে নিতে হবে।
ধাপ-৬
আর এভাবে আমি অনেকগুলো পিঠা তৈরি করে নিলাম। তারপর একটু পরিবেশন করে নিলাম। আপনাদের কাছে আমার আজকের জামাই পিঠা বা নকশি পিঠা রেসিপি কেমন লেগেছে সেটা অবশ্যই জানাবেন। আশা করছি আপনাদের সবার কাছেই বেশ ভালো লাগবে। আজকে এখানে শেষ করছি। পরবর্তীতে আবারো আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হওয়ার চেষ্টা করব। আল্লাহ হাফেজ।
আমি মোছাঃ ফাতেমা খাতুন। আমি এই প্লাটফর্মে ২০২৩ সালের জুন মাসের ২৩ তারিখে যুক্ত হয়েছি। আমি বিবাহিত। আমার একটি ছেলে আছে। আমার শখ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রেসিপি এবং রঙিন কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের জিনিস তৈরি করতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে।প্রাকৃতিক সৌন্দর সহ বিভিন্ন ধরনের আর্ট করতে ও আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত।।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
এই পিঠার স্বাদের কথা পরে বলব তবে দেখতে বেশ দারুণ লাগছে। জামাই পিঠা বা নকশি পিঠা টা দারুণ তৈরি করেছেন আপু। বেশ দারুণ লাগছে দেখতে। পাশাপাশি চমৎকার উপস্থাপন করেছেন পোস্ট টা। ধন্যবাদ আপনাকে।।
সত্যি ভাইয়া অন্য পিঠার থেকে এই পিঠা একটু বেশি সুস্বাদু। ধন্যবাদ ভাইয়া।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
অনেক সুন্দর হয়েছে পিঠা তৈরি করা। এর আগে দেখতাম জামাই পিঠে আমাদের গ্রামে বিক্রয় করতে আসে। খেতে বেশ ভালই লাগে। যাহোক কিন্তু কোনদিন এভাবে নিজের হাতে তৈরি করে খাওয়া হয়নি। সুযোগ বুঝে চেষ্টা করে দেখবে একদিন দুইজন মিলে।
অবশ্য এভাবে একদিন বাড়িতে তৈরি করবেন কম খরচেই অনেকগুলো পিঠা তৈরি করা যাবে। আর এই পিঠা গুলো খেতেও ভীষণ ভালো লাগে।
এমন নকশা আকৃতির পিঠাগুলো খেতে খুব ভালো লাগে। একটু সুন্দরভাবে তৈরি করতে পারলে নিজের যেমন খেতে ভালো লাগে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খাওয়াতে ভালো লাগে। যায় হোক দারুন তৈরি করেছেন। আশা করি খুবই সুস্বাদু ছিল এই রেসিপি।
আমার কাছেও আপু মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে পরিবারের সাথে খেতে ভীষণ ভালো লাগে ।
এই জামাই পিঠা বা নকশা পিঠা আমার খুব পছন্দের। খেতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে আমার মেয়েরাও খুবই পছন্দ করে। তবে কখনো এই পিঠা নিজের হাতে তৈরি করে খাওয়া হয়নি। কিন্তু অন্যদের তৈরি করা পিঠা অনেক খেয়েছি বেশ মজার।
আপু নিজের হাতে মেয়েদের তৈরি করে দিবেন দেখবেন বাচ্চারা অনেক খুশি হবে।
এই পিঠা খেয়েছি অনেক দেরি হয়েছে৷ তবে এখনো পর্যন্ত এই জামাই পিঠা রেসিপি দেখতে পারলাম না৷ আপনার কাছ থেকে আজকে এই রেসিপি দেখে খুবই ভালো লাগছে৷ যেভাবে আপনি আজকের এই রেসিপি এখানে শেয়ার করেছেন তা খুবই সুন্দর হয়েছে৷ একই সাথে এখানে আপনি রেসিপি তৈরি করার মাধ্যমে ধাপে ধাপে সবকিছু ফুটিয়ে তুলেছেন৷ ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷
আমার পোষ্টের মাধ্যমে আপনি জামাই পিঠার রেসিপি টা দেখতে পেরেছেন। খুবই ভালো লাগলো ভাইয়া। সব থেকে বেশি ভালো লাগছে যে আমি এই পোস্ট করে সফলতা পেয়েছি। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আজকে তো দেখছি আপনি আমার পছন্দের একটা পিঠা তৈরি করেছেন। এই পিঠা খেতে আমি অনেক বেশি পছন্দ করি। বিশেষ করে গরম গরম আর মুচমুচে হলে খেতে বেশি ভালো লাগে। আমার জন্য পিঠা কয়েকটা পার্সেল করে পাঠিয়ে দেন।
পিঠা গুলো তো কয়েকদিন আগে তৈরি করেছিলাম ভাইয়া ফুরিয়ে গেছে। তবে আপনার দাওয়াত থাকলো যখন যেদিন ইচ্ছা চলে আসবেন পিঠা তৈরি করে খাওয়াবো। আর শুধু জামাই পিঠা না তার সাথে আরও অনেক ধরনের পিঠা তৈরি করে খাওয়াবো।
আমাদের এদিকে এগুলো কিনতে পাওয়া যায়৷ কখনও বানাইনি। আমার মেয়ের খুব পছন্দ এই পিঠা৷ রেসিপিটা তো শিখলাম কিন্তু ওই নকসি ছাপটি কোথায় পাব আপু? পেলে অবশ্যই বানাবো৷
আপু এই নকশা ছাপটি বিভিন্ন বাসনালয়ের দোকানে পাওয়া যায়। বেশিরভাগ সময় মেলাতে আপনি পেতে পারেন। বাচ্চারা ছোট ছোট লোহার হাড়ি কড়া খেলনা পাওয়া যায় ওই ধরনের দোকানে এই নকশাগুলো বেশি পাওয়া যায়।
দেখি খুঁজব। দিলে বাড়িতেই বানাতে পারব। দোকানেরগুলো তো আর ভালো হয় না, কি তেলে ভাজে তার কোন ঠিক নেই।
আমাদের এই দিকেও এই পিঠা গুলো নকশি পিঠা ও জামাই পিঠা নামে পরিচিত।এই পিঠা গুলো গরম গরম খেতে অনেক ভালো লাগে। আপনার তৈরি করা রেসিপিটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে আপু।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্ট টি শেয়ার করার জন্য।
গরম গরম খেতে তো ভীষণ ভালো লাগে তবে সংরক্ষণ করার জন্য যে কোন কোটা বা টিফিন বক্সে রেখে দিলে বেশি ভালো হয়।
হ্যাঁ আপু পিঠা খেতে সবাই পছন্দ করে। তবে এই পিঠাগুলোকে আমরা নকশি পিঠা
বলি। তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে আপনারা জামাই পিঠা বলেন। তবে এই নামটি আমি প্রথম শুনেছি। এবং এই পিঠাগুলো দিয়ে নতুন মেহমান আপ্যায়ন করে। আর শীতকাল মানেই পিঠার উৎসব। নকশী পিঠার রেসিপি খুব সুন্দর করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।
ভাইয়া এরকম অনেক পিঠা আছে যেগুলো আমাদের অঞ্চলভেদে নাম এক এক রকম। তবে আমাদের এইদিকে বেশিরভাগ মানুষ জামাই পিঠা বলে।