খেজুরের গুড়
আজ - বুধবার
খেজুরের গুড়ের কথা বললে ছোটবেলার অনেক কথাই মনে পড়ে যায়। বিশেষ করে শীতকালে খেজুরের গুড় আমাদের গ্রাম অঞ্চলের অনেক বেশি বিখ্যাত কারণ ন্যাচারাল মিষ্টির দিক থেকে খেজুরের গুড় হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি যা আমাদের সবার চাহিদা পূরণ করে থাকে। খেজুরের গুড়ের অনেক ধরনের পিঠা পুলি পাওয়া যায় সেগুলো খেতেও বেশ মজাদার তবে খেজুরের গুড় সংগ্রহ করার প্রক্রিয়াটা একটু জটিল এবং অনেক রিস্কি বলা যায়। কেননা যখন শীতের সময় খেজুর গাছে উঠে কাঁটাযুক্ত ডালপালা কেটে খেজুর গাছ প্রস্তুত করা হয় তখন গাছীদেরকে অনেক গাছের অনেক উপরে উঠা লাগে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে খেজুর গাছ থেকে যদি পড়ে যাই সেই ক্ষেত্রে হাত ভেঙ্গে যাই আবার শরীরে কোন একটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়া রিস্ক তো থেকেই যায়। আমার মনে আছে আমি যখন ক্লাস এইটে পড়তাম তখন একবার খেজুরের রস গাছে লাগাতে গিয়ে পা ফসকে গাছ থেকে পড়ে গিয়েছিলাম তবে আমার তেমন একটা লেগেছিল না তবে পিঠের দিকে অনেক বেশি ব্যথা পেয়েছিলাম।
এ ঘটনাটি মূল কারণ হচ্ছে যখন প্রচুর পরিমাণে শীত পড়ত তখন সেই সাথে অনেক কুয়াশা পড়ে আর যখন কুয়াশা পড়ে তখন আশেপাশের পরিবেশটা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায় এবং সেই সাথে খেজুরের গাছও অনেক বেশি পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন যখন খেজুরের গাছে ওঠা যায় ওখান থেকে পা পিছলে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়। আমার সঙ্গেও ঠিক এমনটাই হয়েছিল যখন আমার পাটা পিছলে গিয়েছিল তখন আমি খেজুর গাছের একটা অংশ ধরে ফেলেছিলাম তবে দুর্ভাগ্যবশত ওই জায়গাটা ভেঙে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে আমি নিচে পড়ে যাই। তো যাই হোক গা তবুও খেজুরের রস সংগ্রহ করার নেশাটা কোনভাবেই কাটিয়ে তুলতে পারতাম না কারণ খেজুরের রস খেতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগতো। আর যখন খেজুরের রসের গুড় থেকে পাটালি তৈরি করা হতো এবং ঘন গুড় তৈরি করা হতো তখন সেগুলো খেতেও সত্যি অসাধারণ লাগতো। আর সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে যখন গাছিরা রস সংগ্রহ করত আমরা আগুন পোহানোর জন্য ওই রসের ওখানে গিয়ে আগুন পোহাতাম তখন সবাইকে এক গ্লাস করে গরম রস খেতে দিত যেটা অনেক বেশি সুস্বাদু ছিল।
আপনারা কি গরম রস খেয়েছেন? যদি টাটকা রসের কথা বলি তাহলে সকালবেলায় উঠে খেজুরের টাটকা রস খেতে বেশ মজা লাগে তবে যদি আপনি খেজুরের রস গরম করে খান তাহলে এটাও খেতে কিন্তু বেশ মজাদার। এটা সাস্বটি অন্যরকম হয়ে থাকে একটু বেশি মিষ্টি কারণ খেজুরের রস যখন হালকা আগুনে জাল দেওয়া হয় তখন খেজুরের রস এর ঘনত্ব বাড়তে থাকে এবং এর ভিতর মিষ্টির যেই ফ্লেভারটা এটা অনেকাংশ থাকে। আর আমার মনে হয় যে সকালবেলায় উঠে খেজুরের রস জাল দিয়ে খাওয়াটাই শ্রেয় কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে খেজুরের রস খাওয়ার জন্য অনেক ধরনের পাখি খেজুর গাছে বসে এবং তারা রস খাওয়ার পরে তাদের মুখে লালা হয়ত রসের সঙ্গে জড়িয়ে যায় যেটা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে অনেক সময় তাদের মলমূত্র এই রসের ভিতরে যেতে পারে তাই সবকিছু ভেবেচিন্তে যদি আমরা একটু ফুটিয়ে খেতে পারি তাহলে এই জীবনে গুলো ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এটা আমাদের জন্য আরো বেশি নিরাপদ হয়ে উঠবে। সবমিলিয়ে খেজুরের রস এখনো খাওয়া হয় নাই তবে এই বছরে শুরুতে অবশ্যই খেজুরের রস খাওয়ার চেষ্টা করব।
আমি যে এলাকাতে থাকি বর্তমানে এইদিকে খেজুরের রসটা অনেকটা দেখছি না শুনলাম নাকি খেজুরের রস এখান থেকে 15 কিলো দূরে পাওয়া যায় তবে অতদূরে গিয়ে আর রস খাব না এই তো আর ১০ থেকে ১২ দিন পরে বাড়িতে চলে যাব তখন আমাদের বাড়িতে গিয়ে পরিচিত যে গাছি ভাই রয়েছে তাকে আগে থেকে বলে ভালো মানের রস সংগ্রহ করে খাবো ইনশাল্লাহ। আপনাদের সবাইকে শীতেরা রস খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে রাখছি যদি আপনারা কেউ আমাদের এলাকার আশেপাশে হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমার সাথে দেখা করে খেজুরের রস খেতে পারেন। খেজুরের রসের পিঠাপুলির মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের পিঠা হচ্ছে ভাবা পিঠা। ভাপা পিঠার উপরে যখন পাটালির গুড় দেওয়া হয় বা শুকনো পিঠা যখন পাঠালে গুড়ের সঙ্গে খাওয়া যায় তখন খেতে অনেক বেশি মজা লাগে। আপনারা যদি এটি ট্রাই না করে থাকেন তাহলে এই বছরে ট্রাই করতে পারেন আমার মনে হয় আপনারা অনেক বেশি আনন্দিত হবেন। এছাড়াও খেজুরের এবং খেজুরের রসের অনেক ধরনের পিঠা বর্তমানে অ্যাভেলেবল রয়েছে আপনারা যেটি চান সেটি খেতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে এতক্ষন পাশে থেকে ব্লকটি উপভোগ করার জন্য আবারো খুব শীঘ্রই দেখা হবে নতুন কোন পোস্টে ধন্যবাদ।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
খেজুরের গুড় এবং রস আমাদের শীতকালীন ঐতিহ্যের অংশ, যা শুধু মিষ্টি স্বাদে নয়, আমাদের শৈশবের আনন্দদায়ক স্মৃতির সঙ্গীও। খেজুরের রস থেকে তৈরি পিঠাপুলি, বিশেষ করে ভাবা পিঠা, এক ধরনের অতুলনীয় স্বাদ দেয়। প্রকৃতিতে এমনকি খেজুর গাছের সংগ্রহও এক ধরনের সাহসিকতা, যা আমাদের গ্রামীণ জীবনযাত্রার একটি সুন্দর অংশ।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া খেজুরের টাটকা রস খাওয়ার স্বাদ এক রকম এবং রস একটু গরম করে খাওয়ার স্বাদ অন্যরকম। তবে আমার কাছে রস থেকে খেজুরের গুড় খেতে বেশি ভালো লাগে। আমি কিন্তু আপনার বাড়ির পাশের অবশ্যই আমাকে খেজুরের রস দিয়ে তারপরে খাবেন।