লাইফস্টাইল পোস্টঃ একটু কেনাকাটা এবং খাওয়া দাওয়া
আজ - সোমবার
সবাইকে সুস্বাগতম জানিয়ে আজকে আবারো নতুন একটি পোস্ট শুরু করছি। আমি প্রতি শুক্রবার অথবা শনি রবিবারের মধ্যে নিজেকে একটা ট্রিট দেওয়ার চেষ্টা করি আসলে আসলে সত্যি বলতে বেচেলর লাইফে তেমন কারো সঙ্গে মেশা হয় না তবে জীবনটা সুন্দরভাবে অতিবাহিত করার জন্য নিজের দিকে একটু খেয়াল রাখা জরুরী। সেদিন গিয়েছিলাম একটা টি-শার্ট ক্রয় করতে আসলে আমি টি-শার্ট পড়তে অনেক বেশি পছন্দ করি আর আমার সবগুলো টি-শার্ট প্রায় পূরনো হয়ে গেছে তাই ভাবলাম আজকে একটা টি-শার্ট ক্রয় করে ফেলি। তো প্রথমে একটু বাজারে গেলাম তারপরে ঘুরাঘুরি করলাম ঘোরাঘুরি করার পরে বেতিলের এইদিকে তেমন একটা ভালো টি শার্ট পেলাম না তারপরে একটা রিক্সা ডেকে রিক্সাতে চেপে চলে গেলাম বেলকুচি বাজারে। আমি যে টি শার্টটা খুজছিলাম সে টি শার্টটা সব দোকানে ছিল না আসলে আমি ড্রপ শোল্ডার শার্টগুলো নেওয়ার চেষ্টা চেষ্টা করছিলাম কারণ এই টি-শার্টগুলো পড়েও যেমন মজা তেমনি অনেক বেশি কমফোর্টেবল। তবে কয়েকটি দোকানে এই টি-শার্টগুলো পেলাম কিন্তু বিভিন্ন রকম স্টিকার করার ছিল আর স্টিকারগুলো আমি একেবারেই পছন্দ করি না। আপনারা হয়তো বা যারা এই ড্রপ সোল্ডার টি শার্টগুলো পড়েন বা ব্যবহার করেন তারা আমার কথাটা বুঝতে পেরেছেন।
তো ওই জন্য আমি এক কালারের মধ্যে মোটা কাপড়ের টি শার্ট গুলো খুজছিলাম। তো মোটামুটি খোঁজার পরে একটা দোকানে টি-শার্টটি খুঁজে পেলাম তবে দামে দরে ওই লোকের সঙ্গে আমার একেবারেই হলো না কারণ ওইটার দাম সাধারণত ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এর মধ্যেই পাওয়া যায়। তবে উনি হুট করে ৯৫০ টাকা বলে বসল যেটা মূল দাম থেকে অনেকটাই বেশি। আসলে দামাদামি করতে হলেও একটা নির্দিষ্ট দাম থাকা উচিত যদি ওইটার দাম ৬০০ টাকা কি ৫৫০ টাকা হতো তাহলে সেখানে দামাদামি করে ৪০০ টাকা করা যেত কিন্তু যেহেতু উনি অতিরিক্ত দাম চেয়ে বসল তাই ওনার সঙ্গে দামাদামি না করেই অন্য দোকানে আবার চলে গেলাম। তারপরে একটি আঙ্কেলের দোকানে গিয়ে মোটামুটি ওরকম একটা টি শার্ট পেলাম সেটি ওখান থেকে নিয়ে নিয়েছিলাম। তো আমি যা আশা করেছিলাম ওই আঙ্কেল এর কাছ থেকে তার চেয়ে কম দামে টি-শার্টটা পেয়ে গেলাম।তারপরে পকেটে দেখছি এক প্লেট বিরিয়ানি খাওয়ার টাকা এখনো অবশিষ্ট রয়ে গেছে। আর আমি এমনিতেই বিরিয়ানি খেতে অনেক বেশি পছন্দ করি তাই ভাবলাম যে যেহেতু এদিকে চলে এসেছি আজকে একটা নিজেকে ট্রিট দিয়ে দেই। বাইরে সাইনবোর্ড দেখলাম যে খাসির কাচ্চি ১৪০ টাকা প্লেট তাই প্রথমে ওটাই অর্ডার করে দিলাম।
তারপরে যখন অর্ডার করলাম উনি দেখি আমার প্লেটে একটা হাড্ডি দিয়েছে 😅😬 যে হাড্ডিতে কম পরিমাণ মাংস ছিল আসলে হয়তো বা উনি ভেবেছিল যে ইনি হয়তো এখানে নতুন আমি যা দিব সেটাই মেনে নিবে। তারপর যিনি এটা পরিবেশন করেছিল ওনাকে আমি ডেকে বললাম যে এই পাস টা পরিবর্তন করে দিন তারপর উনি কথা ছাড়াই পরবর্তীতে আমার একটা ভালো মানের রানের পিস দিয়ে দিল। তারপরে মোটামুটি ওখানে মজা করে বিরিয়ানি খেলাম। আসলে সত্যি বলতে কি আমাদের এলাকার বিরিয়ানি খেয়ে যেমন তৃপ্তি পায় এই এখানকার বিরিয়ানিতে সে তৃপ্তিটা নেই কারণ এখানকার মানুষ মসলা অনেক কম খায় কিন্তু আমাদের ওদিকের মানুষ প্রচুর পরিমাণে মশলা এবং তেল খায় আর ওগুলো খেয়ে আমরা অভ্যস্ত যার কারণে এখানকার খাবার গুলো আমাদের তেমন একটা ভালো লাগে না। তবে যাই হোক যেহেতু পছন্দের জিনিস তাই খেলেই অনেক ভালো লাগে। আমি ছোটবেলায় ভাবতাম যখন আমি সফল হয়ে যাব তখন সকাল বিকেল শুধুমাত্র বিরিয়ানি খাব অন্য কিছু আর খাব না হাহাহা, তবে বাস্তবতাটা একটু ভিন্ন কারণ আপনি যদি একটা জিনিস একটানা করে খেতে থাকেন আপনার যতই পছন্দ হোক না কেন ওটা কিন্তু একসময় অরুচি ধরে যাবে।
তাই আমাদের সবকিছুই নিয়ম করে খেতে হবে এবং নিয়ম করে চলতে হবে। জানিনা বাস্তবতা আর নিজেকে কতদূর নিয়ে যাবে তবে নিজের মতো করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি এবং বাকিটা মহান আল্লাহ তাআলার হাতে। আসলে আমার মনে হয় শুধুমাত্র পরিশ্রম করলেই জীবন সার্থক নয় যদি এখন কঠোর পরিশ্রম করা যায় তাহলে হয়তো বা একটা সময় পর আমরা ভালো কিছু একটা করতে পারব কিন্তু এই যে সময় গুলো চলে যাচ্ছে এই সময়গুলো কিন্তু আর ফিরে পাবো না। তাই আমার মনে হয় এই সময়গুলোকেই ভালো মুহূর্তগুলোতে আবদ্ধ করা উচিত যাতে পরবর্তীতে সফল হওয়ার পরেও এই সময় গুলো মিস করি আমরা। তো যাই হোক এটা আমার নিজস্ব ব্যক্তিগত মতামত ছিল আপনাদের কেমন মনে হয়ে চাইলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আর আমার মত কার কার বিরিয়ানি ভালো লাগে বিরিয়ানি তাদেরও আমি কমেন্ট বক্সে দেখতে চাই। যাইহোক আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত উপভোগ করার জন্য আবারো খুব শীঘ্রই দেখা হবে নতুন কোন পোস্টে ততক্ষণ সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন আল্লাহ হাফেজ।
| ব্লগার | @emonv |
|---|---|
| ডিভাইস | Tecno camon 20 |
| শ্রেণী | লাইফস্টাইল পোস্ট |
| লোকেশন | সিরাজগঞ্জ মৎস্য ডিপ্লোমা |
আমার নাম মোঃ ইউনুস আলী ইমন। বর্তমানে আমি সিরাজগঞ্জ মৎস ইনস্টিটিউট এর একজন ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করছি। এছাড়া পরিচয় দেওয়ার মতো এখনো কিছু করে উঠতে পারেনি তবে নিজের ব্যক্তিত্ব এবং ক্যারিয়ারের উপরে কাজ চলমান......। আমি নিজেকে ভেঙে চুড়ে নতুন করে আবিষ্কার করতে অনেক পছন্দ করি এবং আমি মানুষকে সাহায্য করতে অনেক ভালোবাসি। আমি প্রায়শই নিজেকে আবিস্কার করি। কেননা এটা আমার কথায় এবং লিখাতে নতুন স্বাদ যুক্ত করে, যার ফলে আমি নিজের সবথেকে ভালো টুকু আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে পারি। আমি প্রতিদিন একবার নিজের সাথে কথা বলি, কারণ এটা আমার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেয়। আমি ভ্রমণ করতে এবং ফটোগ্রাফি করতে অনেক পছন্দ করি। আমি প্রতিনিয়ত নতুন ,নতুন মানুষদের সাথে মিশে তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার ভালোটুকু আমার জীবনে বাস্তবায়িত করতে পছন্দ করি। আপনাকে স্বাগতম আমার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হওয়ার জন্য। ভালোবাসা রইলো অবিরাম সবাইকে 💝।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy
![]()
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলেই এখন বেশির ভাগ দোকানেই জিনিসপত্রের দাম নির্দিষ্ট দামের চেয়ে এত বেশি চেয়ে বসে দোকানদারেরা! তবে শেষে যে পছন্দমতো ড্রপশোল্ডার পেয়ে গিয়েছেন, তাও আইডিয়ার চেয়ে কম দামে জেনে ভালো লাগলো। আর খাবার এ একটু কম মসলা খাওয়াই কিন্তু আমাদের শরীরের জন্য ভালো ভাই। হ্যা, মুখের স্বাদ একটু কম পাওয়া যায়, তবে লং টার্ম এর কথা ভেবে কম মসলা যুক্ত খাবার খাওয়াই ভালো।
আজকে আপনার কেনাকাটার অভিজ্ঞতা এবং খাওয়া-দাওয়ার দুটো অংশই আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আসলে বিরিয়ানিটা দেখে সব থেকে আমার লোভ হচ্ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
এটা ঠিক বলেছেন, যেকোনো ধরনের খাবার অনেক পছন্দ হলেও প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খেতে খেতে একটা অরুচি ধরে যায়। যাইহোক আপনার কেনাকাটা এবং খাওয়া-দাওয়া করার মুহূর্তগুলো দেখে ভালো লাগলো। মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
বাইরে গিয়ে ঘুরাঘুরি করতে আর খাওয়া-দাওয়া করতে কেনা পছন্দ করে। আমি তো অনেক বেশি ভালোবাসি এটা। আপনার খাওয়া দাওয়ার মুহূর্ত দেখে আমার নিজেরই তো খেতে ইচ্ছে করছে এখন। বিরিয়ানি দেখে লোভ সামলাতে পারছি না। নিশ্চয়ই খুব মজা করে খেয়েছেন। মুহূর্তটা সুন্দর করে ভাগ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া বেশিরভাগ দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে দাম অনেক থাকে। এবং অনেক সময় মুলামুলি করতেও খারাপ লাগে। যাহোক লাস্ট পর্যন্ত পছন্দের টি-শার্ট কিনেছেন। আর টাকা অবশিষ্ট থাকার কারণে খাসির কাচ্চি বিরিয়ানি ও
খেলে। তবে ১৪০ টাকা হলে আমার মনে হয় বিরিয়ানির দাম কম ছিল। ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে তাই ধন্যবাদ আপনাকে।