নির্বাসিত নক্ষত্র ( দশম পর্ব )!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
ছবিটি Pixabay নিয়ে নেওয়া এবং Canva দিয়ে এডিট করা
বাহ দারুণ। তুমি তো অনেক সুন্দর আবৃত্তি করো। তোমার কবিতা আবৃত্তির মধ্যে একটা প্রাণবন্ত ভাব লুকিয়ে রয়েছে। বলে তৃপা
কিছু টা হেসে কোন উওর দেয় না ম্রিয়মান। ঠিক আছে আরেকটা কবিতা শোনাও তোমার যেটা পছন্দের। খুব শুনতে ইচ্ছা করছে বলে তৃপা।
সুরঞ্জনা, ওইখানে যেওনাকো তুমি,
বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা:
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;
ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূরে— আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেওনাকো আর।
কি কথা তাহার সাথে? তার সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মতো তুমি আজ:
তার প্রেম ঘাস হ’য়ে আসে।
সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস—
আকাশের ওপারে আকাশ।
বাহ চমৎকার। এককথায় অসাধারণ। কী নাম এই কবিতা টার কে লিখেছে প্রশ্ন করে তৃপা।
এটাও জীবনানন্দের লেখা। এটা অনেক জনপ্রিয় একটা কবিতা। তবে কখনও ভাবিনি কাউকে এইরকম নক্ষত্রের আগুন ভরা রাতে এই কবিতা কখনও শোনাব। তুমি শুনতে চাইলে এইজন্যই বলা। কখন থেকে তো শুধু আমিই বলে যাচ্ছি তুমিও কিছু বলো।
কী বলব আমি। খুব ছোট করে বলে তৃপা।
তুমি একটা গোন শোনাও।
এই না আমি বাংলা গান একেবারেই শুনি না। কোন বাংলা গান আমার জানা নেই। বলে তৃপা।
বাংলা গানই গাইতে হবে ব্যাপার টা এমন না। তোমার যা ইচ্ছা শোনাও শুধু শোনা গেলেই হলো।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে তৃপা বলে ঠিক আছে আমি গান শোনাব কিন্তু এরপর তোমাকেও শোনাতে হবে গান।
ম্রিয়মান বলে ঠিক আছে। এরপর গুণগুনিয়ে একটা ইংলিশ গান গাওয়া শুরু করে তৃপা
If you miss the train I'm on, you will know that I am gone
You can hear the whistle blow a hundred miles
A hundred miles, a hundred miles, a hundred miles, a hundred miles
You can hear the whistle blow a hundred miles
Lord, I'm one, Lord, I'm two, Lord, I'm three, Lord, I'm four
Lord, I'm five hundred miles from my home
Five hundred miles, five hundred miles,
five hundred miles, five hundred miles
তৃপার শান্ত কন্ঠে গানটা অসাধারণ লাগল ম্রিয়মানের। তৃপার মধ্যে হাজার বছরের নীরবতা যেন বের হয়ে এলো এই গানটার মাধ্যমে। আহ কী অসাধারণ কন্ঠ। মেয়েটা তো ভালো গান গাই।
তোমার কন্ঠ তো অনেক ভালো। তুমি তো অনেক ভালো গান করেন। বলে ম্রিয়মান।
থাক আর মিথ্যা প্রশংসা করতে হবে না।
না সত্যি বলছি।
সেসব বাদ দাও। এবার তুমি শুরু করো
উপরে নক্ষত্ররা জ্বলজ্বল করছে পৃথিবীর মতো ছোট্ট একটা গ্রহের একটা দেশের একটা ছোট্ট দ্বীপে ওরা দুজন বসে। এই নিশুতি রাতের অন্ধকার যেন প্রকাশ করছে এক অসাধারণ সৌন্দর্য। তক্ষণাৎ ম্রিয়মান মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ড এর সবচাইতে জনপ্রিয় গানটা মুখে আওড়ানো শুরু করে হায় ভালোবাসি গানটা
ভালোবাসি জোছনায় কাশবনে ছুটতে,
ছায়াঘেরা মেঠোপথে ভালোবাসি হাটতে,
দূর পাহাড়ের গায়ে গোধুলীর আলো মেখে,
কাছে ডাকে ধানক্ষেত সবুজ দিগন্তে,
তবুও কিছুই যেনো ভালো যে লাগে না কেন,
উদাসী পথের মাঝে মন পড়ে থাকে যেন,
কোথায় রয়েছে ভাবি লুকিয়ে বিষাদ তবুও?
ভালোলাগে ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে ভাসতে,
প্রজাপতি বুনোহাস ভালো লাগে দেখতে,
জানলার কোণে বসে উদাসী বিকেল দেখে,
ভালোবাসি এক মনে কবিতা পড়তে......
ম্রিয়মানের কন্ঠে এমন গান শুনে মূহুর্ত্তের মধ্যে তৃপা কোথায় যেন হারিয়ে যায় । এই গানটা যেন এইরকম একটা সময়ের জন্যই লেখা। কত হাজার বার ম্রিয়মান তার পছন্দের এই গানটা শুনেছে। কিন্তু ও কখনও চিন্তা করেনি এই সেন্ট মার্টিন এসে কাউকে শুনাতে হবে। এভাবেই বেশ অনেক টা দুজন কাটিয়ে দেয়। এমনভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যায়..... রাত শেষ হয়
পরের দিন সকাল সাড়ে নয় টাই সেন্টমার্টিন থেকে ওদের কক্সবাজার ফেরার জাহাজ। তৃপা নিজে থেকে গিয়ে রির্সোট এর সব বিল মিটিয়ে দেয়। যদিও ম্রিয়মান কন্ট্রিবিউট করতে চেয়েছিল কিন্তু তৃপা সেটা শোনেনি।
সাড়ে নয় টাই জাহাজ যাএা করে। আজকের দিনটা বেশ আলাদা। তৃপার শরীর টা কিছুটা খারাপ। ও কেবিনে গিয়ে শুয়ে রয়েছে এবং জাহাজের সামনের ফাঁকা জায়গাটাই একটা চেহার নিয়ে বসে ম্রিয়মান। তৃপার শরীর খারাপের ব্যাপার টা ম্রিয়মানকে বেশ কষ্ট দিচ্ছে পাশাপাশি ভাবাচ্ছে। আজ শেষ রাত থেকেই ওর এই অবস্থা। হয়তো পর পর দুইরাত এভাবে ঠান্ডায় সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকা ওদের ঠিক হয়নি। কিছুক্ষণ পরে জাহাজের একটা বয় আসে, ছেলেটার বয়স খুব একটা বেশি হবে না
স্যার আপনার কিছু লাগবে প্রশ্ন করে ম্রিয়মান কে
নাম কী তোমার?
আমার নাম মঞ্জু স্যার।
আচ্ছা মঞ্জু আমার কেবিন চেন তো। হ্যা স্যার আমি জানি আপনারা কোন কেবিনে উঠেছেন।
আচ্ছা গিয়ে দেখে আসো তো ম্যাডাম উঠেছে নাকী।
আচ্ছা স্যার বলে চলে গেল মঞ্জু। কিছুক্ষণ পর এসে বলল স্যার ম্যাম তো এখনও ঘুমিয়ে রয়েছে।
সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয়নি ম্রিয়মানের। আচ্ছা তোমাদের এখানে সকালের নাস্তা পাওয়া যাবে এখন
স্যার নাস্তার টাইম তো চলে গিয়েছে অনেক আগে। তবে আমি চাইলে ব্যবস্থা করতে পারি বলে মঞ্জু।
না থাক এক কাজ করো এক কাপ কফি নিয়ে এসো।
আচ্ছা স্যার বলে চলে গেল। বেশ কিছুক্ষণ পর কফি নিয়ে এলো মঞ্জু।
চলবে....
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Daily task
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
গল্পের শেষটা জানতে অপেক্ষায় আছি।আসলে শেষে কি হবে? তৃণার জীবনে কি নেমে আসবে? আর ম্রিয়মানের জীবনে নতুন কষ্টের অনুভূতি নেমে আসবে কি না? তাই ভাবছি।গল্পটি সুন্দর করে লিখে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।