সরষে কাতলা রেসিপি।
হ্যালো বন্ধুরা,,
সবাইকে আমার নমস্কার,আদাব।আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমিও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ভালো আছি।
আজ সকালে মাছ কেনার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লাম।ভেবেছিলাম চিংড়ি মাছ আর ইলিশ মাছ কিনবো কিন্তু বাজারে তেমন ভালো ইলিশ ছিলো না আর চিংড়ি তো কোনো দোকানেই ছিলো না তাই আর পছন্দসই মাছ কেনা হলো না।যদিওবা আমি চিংড়ি ইলিশ কোনটাই খাই না শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যই কিনতে চেয়েছিলাম।এক পরিচিত মাছ ওয়ালা খুব করে ধরলো বৌদি একটা কাতলা মাছ আছে নিয়ে যান।আমি তো কোনোভাবেই নিতে রাজি নই তার কারন হলো বড় মাছ খেতে একদম ভালো লাগে না। আর জ্বর হওয়ার পর থেকে মাছ মাংস একদম খেতে পারছি না।মাছ ওয়ালা নাছোড়বান্দা তার কাতলা মাছ নিতেই হবে কি আর করা এতো রিকোয়েস্ট করছিলো তাই আর কথা না রেখে পারলাম না।অবশেষে মাছ টা কিনতেই হলো।
বাজার থেকেই মাছ কেটে এনেছিলাম তাই বাসায় এসে তেমন কোনো ঝামেলা করতে হয়নি।বাজার ঘুরতে ঘুরতে বেলাও বেশ অনেকটা হয়ে গেছিলো তাই তাড়াতাড়ি করে রান্না চাপিয়ে দিলাম। অল্প উপকরণ আর খুব অল্প সময়ে রান্না করা যায় ঠিক সেরকম একটি রেসিপি করার চেষ্টা করলাম যাতে করে মেয়েরা তাড়াতাড়ি খেতে পারে।তাই একেবারে পেঁয়াজ রসুন মসলা ছাড়া শুধু সরষে ও পোস্ত বাটা দিয়ে ঝটপট একটি সুস্বাদু রেসিপি বানিয়ে ফেললাম।সেই রেসিপি এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
সরষে কাতলা
| উপকরণ |
|---|
| কাতলা মাছ |
| কালো সরিষা |
| পোস্ত দানা |
| কাঁচামরিচ |
| লবণ |
| হলুদ গুঁড়া |
| মরিচের গুঁড়া |
| কালোজিরা |
| সরিষার তেল |
কালো সরিষা পোস্ত দানা,কাঁচামরিচ সামান্য পরিমাণে লবণ দিয়ে শিলপাটায় মিহি করে বেঁটে নিয়েছি।
মাছ লবণ দিয়ে ভালো করে ধুয়ে জল ঝড়িয়ে লবণ হলুদগুঁড়া মেখে নিয়েছি।
চুলায় একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছি। তারপর পরিমাণমতো সরিষার তেল দিয়ে গরম করতে দিয়েছি।
তেল গরম হয়ে আসলে লবণ হলুদগুঁড়া মেখে রাখা মাছ গুলো তেলের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছি।কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর উল্টিয়ে দিয়েছি।দুপাশে ভেজে মাছ গুলো তুলে নিয়েছি।
মাছ ভাজার তেলের মধ্যে কালোজিরা ফোঁড়ন দিয়ে তার মধ্যে কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে লবণ হলুদগুঁড়া ও মরিচগুঁড়া দিয়ে দিয়েছি।
এবার সরিষা পোস্ত বাঁটা গুলো দিয়ে সামান্য পরিমাণে জল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়েছি।তারপর অল্প সময় কষিয়ে নিয়েছি।
এবার পরিমাণমতো জল দিয়ে ঝোল দিয়েছি।তারপর একটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিয়েছি।
কিছুক্ষণ পর ঢাকনা খুলে ঝোর ফুটে উঠলে ভেজে রাখা মাছ গুলো ঝোলের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছি।তারপর নেড়েচেড়ে আবারও ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিয়েছি যাদে করে মাছ গুলো সিদ্ধ হয় এবং তেল মসলা মাছের মধ্যে ঢুকে যায়।
কয়েক মিনিট ঢাকনা দিয়ে জ্বাল দেওয়ার পর ঢাকনা খুলে সামান্য পরিমাণে কাঁচা সরিষার তেল উপর থেকে ছড়িয়ে দিয়ে হালকা করে নেড়েচেড়ে চুলার আঁচ বন্ধ করে দিয়েছি।
এবার চুলা থেকে নামিয়ে একটা পাত্রের মধ্যে ঢেলে নিয়েছি।আর এভাবেই তৈরি হয়ে গেলো অল্প উপকরণ ও অল্প সময়ে মজাদার সরষে কাতলা রেসিপি টি।
পরিবেশন
গরম ভাতের সাথে এরকম একটি সুস্বাদু রেসিপি থাকলে দুপুরের খাবারে আর কিছুই লাগবে না।সামান্য উপকরণে এতটাই টেস্টি হয়েছে যা বলে বোঝাতে পারবো না।অসাধারণ একটি রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন পরবর্তী সময়ে আবার নতুন কোনো রেসিপি নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়ে যাবো।
আপু আপনি আজকে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন সরিষা বাটা দিয়ে কাতলা মাছের রেসিপি। আসলে কাতলা মাছ যেকনো ভাবেই রান্না করলে খেতে বেশ মজা লাগে। কিছুদিন আগে আমাদের পুকুর থেকে আমিও কাতলা মাছ ধরে খেয়েছিলাম আসলে বেশ ভালো লেগেছিল। আসলে এই মাছ যত বেশি বড় হবে রান্না করলে খেতে তত বেশি সুস্বাদু লাগবে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর ভাবে রেসিপি তৈরির পদ্ধতি শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ বড় সাইজের কাতলা গুলো অনেক টেস্টি হয়।আর যদি নিজেদের পুকুরে মাছ হয় তাহলে তো কোনো কথায় নেই।ধন্যবাদ ভাইয়া।
বাচ্চারা মাছ খেতে তেমন পছন্দ করে না। কিন্তু ইলিশ আর চিংড়ি মাছটা পছন্দ করে। আপনার বাচ্চারাও হয়তো তেমনই। সরষে ইলিশ অনেক খেয়েছি কিন্তু সর্ষে দিয়ে কাতলা মাছ কখনো খাওয়া হয়নি। আপনার রেসিপিটি ইউনিক লেগেছে আমার কাছে। রান্নার পদ্ধতি দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। বেশী লোভনীয় লাগছে দেখতে।
ঠিক বলেছেন আপু বাচ্চারা মাছ খেতে খুব একটা পছন্দ করে না।ইলিশ চিংড়ি খেতে খুব পছন্দ করে।সরষে ইলিশ তো খেতে খুবই ভালো লাগে,সরষে কাতলাও খেতে খুবই টেস্টি হয়েছিলো আপু।ধন্যবাদ আপু।
এই সময়ে বাংলাদেশের বাজারে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না এটা কি বললেন দিদি। এখনই তো ইলিশ মাছের সময়। আমাদের এখানেও তো মোটামুটি সস্তা হয়েছে ইলিশ মাছ। যাইহোক মাছ রান্নায় পেঁয়াজ রসুন না দিলেই বেশি টেস্টি লাগে। পোস্ত বাটা এবং সরষে বাটা দিয়েও আমার কাছে অনেক ভালো লাগে মাছ রান্না। তবে কাতলা মাছের পরিবর্তে ইলিশ মাছ রান্না করলে আরো বেশি টেস্টি লাগে। যদিও আপনার রেসিপিটা দেখতে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়েছে।
বর্ষার সময়ে অনেক সস্তায় ইলিশ পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা লোকাল এরিয়ায় থাকি তো তাই সচারাচর ইলিশ পাওয়া যায় না।মাঝে মধ্যে পাওয়া যায় তাও খুব একটা ভালো না।এই জন্য গোটা বাজার ঘুরেও ইলিশ কিনতে পারিনি।😔মাছের মধ্যে পেঁয়াজ রসুন কম দিলেই মাছের টেস্ট টা ভালো পাওয়া যায়।সরষে ইলিশের সাথে কোনোকিছুরই তুলনা হয় না।কিন্তু সরষে কাতলা রেসিপি টিও কিন্তু খেতে খুবই টেস্টি হয়েছিলো।ধন্যবাদ।
এখন সবারই শরীর কম বেশি খারাপ হচ্ছে দিদি, একটু খেয়াল রাখবেন শরীরের দিকে। যাইহোক আমার কাছে পোস্ত বাটা বা সরষে বাটা দিয়ে ইলিশ মাছ এবং পাবদা মাছ বেশি ভালো লাগে। সম্ভবত কাতলা মাছ এভাবে রান্না করে কখনো খাওয়া হয়নি। এই দিক থেকে বিচার করলে রেসিপিটা আমার কাছে একবারেই ইউনিক। আর দেখতেও কিন্তু অসাধারণ লাগছে দিদি রেসিপিটা।
হ্যাঁ বনু এই সময়ে আবহাওয়ার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।আমি এখন আগের থেকে অনেকটা ভালো আছি।ইলিশ পাবদা সরষে দিয়ে রান্না করলে খেতে খুবই ভালো লাগে। কাতলা রেসিপি টিও বেশ চমৎকার লেগেছে আমার কাছে।অনেক অনেক ধন্যবাদ বনু।
এই ধরনের লোভনীয় রেসিপি দেখলেই তো খেতে ইচ্ছে করে। সরষে ইলিশ খেয়েছি কখনো সরষে কাতলা রেসিপি তৈরি করে খাওয়া হয়নি এক সময় ট্রাই করে দেখব কেমন সুস্বাদু লাগে খেতে।
জ্বি ভাইয়া অবশ্যই ট্রাই করে দেখবেন,আশাকরি অনেক ভালো লাগবে।অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আপনি দেখছি ঝটপট অল্প উপকরণের মাধ্যমে কাতলা মাছের রেসিপি তৈরি করেছেন। আমার তো মনে হচ্ছে আপনার তৈরি করা এই রেসিপিটা অনেক বেশি মজাদার এবং সুস্বাদু হয়েছিল। এরকম ভাবে রেসিপি তৈরি করলে আমার তো ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলতে। যেহেতু বাজার থেকে মাছটি কেটে নিয়ে এসেছিলেন তাই ঝামেলায় পড়তে হয়নি বুঝতে পারছি। পরিবেশনটা দেখে ইচ্ছে করছে গরম ভাত এনে খেয়ে ফেলি এক টুকরো মাছ। বাচ্চারা নিশ্চয়ই খুব মজা করে খেয়েছিল।
হ্যাঁ খুবই অল্প সময়ে এই রেসিপি টি করা যায়।তার কারন হলো সেরকম কোনো মসলা লাগে না তাই খুব অল্প সময়ে টেস্টি একটি রেসিপি করা যায়।কাছাকাছি হলে গরম ভাত দিয়ে খেতে পারতেন আপু।😁অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
ইউনিক একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন আপনি। সরিষা ইলিশ খেয়েছি। তবে সরিষা বাটা দিয়ে কাতলা মাছ কখনো খাওয়া হয়নি। আপনার রেসিপিটি দেখে লোভনীয় লাগছে। কালারটা দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। এভাবে একদিন রান্না করে খেয়ে দেখবো। সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
জ্বি আপু কালার যেমন সুন্দর হয়েছে খেতেও অনেক সুস্বাদু হয়েছিলো।খেয়ে দেখবেন অনেক ভালো লাগবে।ধন্যবাদ আপু।
আরে বাহ্ বেশ মজাদার ভাবে সরষে কাতলা রেসিপিটা তৈরি করেছেন তো। কাতলা মাছ এমনিতেই আমার অনেক বেশি পছন্দের। তবে এভাবে সরষে কাতলা রেসিপি কখনো খাওয়া হয়নি। এই রেসিপিটা আমার কাছে সত্যি অনেক বেশি ইউনিক মনে হয়েছে। তবে মনে হচ্ছে এটা খুব তাড়াতাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এবং এতে আপনি খুব অল্প উপকরণ ব্যবহার করেছেন দেখে মনে হয় খুব মজাদার হয়েছিল।
জ্বি ভাইয়া অল্প উপকরণ দিয়ে খুবই অল্প সময়ে দারুণ একটি রেসিপি হয়েছিলো।সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
বাচ্চারা মাছ তেমন খেতে চায় না।তবে মাছ আমার খুব পছন্দ।আর কাতলা মাছ আমার খুব প্রিয় একটি মাছ।বিভিন্ন ভাবে রান্না করা হলেও কখনো সরষে দিয়ে রান্না করা হয়নি।সরষে ইলিশ রান্না অনেক করেছি।আপনার কাতলা মাছের রেসিপি বেশ লোভনীয় হয়েছে আপু।আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। আপনি ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপু মজার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন আপু বাচ্চারা মাছ খেতে খুব একটা পছন্দ করে না।যদিওবা আমিও মাছ মাংস খুব একটা খেতে পছন্দ করি না। বেশিরভাগ সময় নিরামিষ খাবার গুলোই খেতে অনেক পছন্দ করি।সরষে কাতলা রেসিপি টি সত্যিই অনেক সুস্বাদু ও লোভনীয় হয়েছিলো আপু।আমারও ভীষণ ভালো লেগেছে।অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু।
আপনি আজকে খুব মজার সরষে কাতলা রেসিপি শেয়ার করেছেন আপু।রেসিপির রঙ দেখেই বুঝতে পারছি খেতে খুব সুস্বাদু ছিল।রান্নার প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থাপনা চমৎকার ছিল।রেসিপির পরিবেশনও সুন্দর হয়েছে।ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।