ব্লাড কিলার — পর্ব ৮ : অদৃশ্য লেনদেন
ব্লাড কিলার — পর্ব ৮ : অদৃশ্য লেনদেন
সকাল ঠিক ৯টা। থানার করিডোরে তখনও পুরো ভিড় জমেনি—নরম আলো, চায়ের গন্ধ আর দূর থেকে শোনা টাইপিংয়ের শব্দ মিলেমিশে একটা শান্ত পরিবেশ । হঠাৎই সেই পরিবেশ ভেঙে গিয়ে দরজা ধাক্কা খেয়ে খুলে গেল ।
আবিদ ছুটে ঢোকে, চোখে উত্তেজনার ঝিলিক ।
আবিদ — স্যার! একটা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি!
বখতিয়ার কাগজপত্র থেকে চোখ তুলে তাকায় । তার চোখে সেই পুরনো শান্ত ভাব, কিন্তু ভ্রু সামান্য কুঁচকে গেছে ।
বখতিয়ার — বলো, কী পেয়েছো?
আবিদ গভীর শ্বাস নিল । যেন শব্দগুলো তার মুখেই আটকে যাচ্ছিল ।
আবিদ — স্যার… আফিয়া গত ৪–৫ মাস ধরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ট্রানজেকশন করছিলো । আর খুব চালাকি করে—একটু একটু করে, পিটুপি ব্যাবহার করে, যাতে ব্যাংক স্টেটমেন্টে বড় কোনো সন্দেহ না দেখা যায় ।
বখতিয়ার চেয়ারে হেলান দিলো, চোখ অন্ধকার হয়ে এলো ।
বখতিয়ার — বাংলাদেশে তো ক্রিপ্টো অবৈধ, আর জানতে পারলে কীভাবে?
আবিদ — জ্বি স্যার বাংলাদেশে ক্রিপ্টো কারেন্সি অবৈধ, কিন্তু দেখুন স্যার ক্রিপ্টো কারেন্সি এর মধ্যে কয়েন বা যেকোনো কিছু কিনতে হলে বর্তমানে পেপার কারেন্সির মাধ্যমেই সেখানে টাকা ক্যাশইন করতে হবে । আর এই ক্যাশইন পদ্ধতির জন্য প্রতিটি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জারের মধ্যে পিটুপি ব্যবস্থা থাকে । বিগত ৪-৫ মাসের মধ্যে আফিয়া বেশকিছু ট্রানজেকশন করে, ট্রানজেকশন গুলোকে দেখে এমন মনে হয় সে ব্যবসায়িক কাজে লেনদেন করছে কিন্তু আমি যখন কিছু ট্রানজেকশনের উপর নজর দেই এবং অপর পাশে থাকা মানুষের সাথে যোগাযোগ করি তখন জানতে পারি তারা পিটুপিতে লেনদেন করার জন্য এই একাউন্ট ব্যাবহার করে যার ফলে আমি বুঝতে পারি যে আফিয়া ক্রিপ্টো কারেন্সিতে লেনদেন করেছে ।
একটু নীরবতা । থানার সিলিং ফ্যানের ঘুর ঘুর শব্দ যেন আরও জোরে শোনা গেল ।
বখতিয়ার — আমি যতটুকু জানি ক্রিপ্টো কারেন্সি পুরো ডিসেন্ট্রালাইজ, যার ফলে আমরা সেখানে কোনোপ্রকার হস্তক্ষেপ করতে পারবো না তবে সেখানে কার কাছে কতপরিমাণ সম্পদ রয়েছে সেটাকে দেখা যায় যদিও সঠিক মালিকানার গোপন তথ্য পাওয়া যায় না । আমাদের এখন জানতে হবে সে ক্রিপ্টো দিয়ে কোনোপ্রকার অস্বাভাবিক ট্রানজেকশন করেছে কি-না?
আবিদ — স্যার বিষয়টা এতটাও সহজ না আবার কঠিনও না, দেখেন এখানে আমরা এতটুকুই জানতে পারবো যে সে কতপরিমাণ ট্রানজেকশন করেছে ।
বখতিয়ার — তো তুমি কি পদক্ষেপ নিলে?
আবিদ — জ্বি স্যার, আমি ইতোমধ্যে একজন লোককে এই কাজে লাগিয়েছি এবং তারবেশি সময় লাগবে না আশা করি কিছুক্ষন পর আমরা জানতে পারবো ।
আবিদ ফোন বের করে স্ক্রিন দেখালো ।
আবিদ — স্যার… আফিয়া একটা বড় ধরনের ট্রানজেকশন করেছে । পরিমাণ—৫০,০০০ ডলার ।
বখতিয়ার চেয়ারের হাতলে চাপ দিলো । এতো বড় এমাউন্ট মানে… কিছু ভয়ঙ্কর ।
বখতিয়ার — তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে এসো । কথা বলতে হবে ।
জিজ্ঞাসাবাদের ঘর
আফিয়াকে নিয়ে আসা হলো । হাতে হ্যান্ডকাফ নেই, কিন্তু তার মুখের দৃষ্টি বদলে গেছে— ভয়, রাগ, অবিচার—মিশ্র অনুভূতি । টেবিলের ওপরে ফাইলের শব্দ । বখতিয়ার সামনে বসে ।
বখতিয়ার — আফিয়া আপনার ব্যাংক ট্রানজেকশন দেখেছি আপনি নিজেকে চালাক মনে করেন? আপনি বেশ সুন্দর করেই এগোচ্ছিলেন, একটু একটু করে আপনি ক্রিপ্টো কারেন্সি ক্রয় করেছেন যাতে করে আপনার ব্যাংক ট্রানজেকশনে বড় ধরনের কোন লেনদেন না হয় আর সেটাকে যাতে আমরা সন্দেহজনক না মনে করি সেই জন্য আপনি এই কাজটা করেছেন আর আপনি মনে করেছিলেন যে আমরা আপনার ক্রিপ্টোতে লেনদেন করা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারবো না ।
আফিয়া ঠাণ্ডা হাসলো ।
আফিয়া — কোথায় লেনদেন করেছি সেটা কি আপনাকে বলবো?
আবিদ — টাকার পরিমাণ কম হলে কিছু বলতাম না । কিন্তু ৫০,০০০ ডলার কোনো ছোট বিষয় না । এটা কোথায় গেছে বলতেই হবে ।
আফিয়া — (শুষ্ক গলায়) আমি বলতে রাজি নই ।
বখতিয়ার টেবিল চাপড়াল ।
বখতিয়ার — আপনি ভুল করছেন।
আবিদ — সহযোগিতা না করলে আপনাকে রিমান্ডে দিতে হবে ।
সন্দেহ, সাক্ষ্য—সব আপনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে ।
আফিয়া তাকিয়ে রইল, তারপর ঠোঁট কামড়াল ।
আফিয়া — …আমি ভয় পাই না ।
বখতিয়ার — তাহলে রিমান্ডে যেতেই হবে ।
আফিয়ার রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়, আদালতে দাবি করা হয় ৭ দিনের তবে মাত্র ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় । মাত্র একদিনেই— তার ভেতরের চাপ, ভয়, অপরাধবোধ সব মিলিয়ে
সে আত্মসমর্পণ করে ।
জিজ্ঞাসাবাদের রুমে শুধু তিনজন—
বখতিয়ার, আবিদ, এবং এক ভাঙা মানুষ—আফিয়া ।
বখতিয়ার — বলুন । কনককে কেন হত্যা করলেন?
আফিয়া চোখ নামে না ।
আফিয়া — কারণ… না হলে সে আমাকে মেরে ফেলতো । ঘরটা স্তব্ধ হয়ে গেল ।
আবিদ — মানে? কিভাবে?
আফিয়া কাঁপা গলায় বলতে শুরু করলো—
আফিয়া — কনক প্রথমে আমার জীবনে আলো এনেছিলো… তবে সে আমার জীবনটাকে ধংষ করে দেয় । সে আমাকে বিয়ে করেছিলো শুধু টাকার জন্য, একটা সময় আমি তার এতগুলো এফেয়ার সম্পর্কে জানতে পারি তবে পরিবারের মানসম্মান এর কথা ভেবে আমি তার সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ না করে তার থেকে মানসিক দূরত্ব বাড়িয়ে দেই এবং টাকাও দেওয়া বন্ধ করে দেই । তারপর কনক অনেক বেশি ঋণের মধ্যে ডুবে যায় এবং সে আমাকে মারার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে । দু একবার সে আমাকে মারার জন্য চেষ্টাও করে তবে সে ব্যর্থ হয়, তাই আমি ডার্ক ওয়েব থেকে একজন কনট্রাক কিলারকে হায়ার করি এবং সে তার কাজ করে দেয় ।
ঘরটা ভারী হয়ে যায় ।
কথা শেষ হতেই বখতিয়ার উঠে দাঁড়ায় । তার চোখে অব্যক্ত অন্ধকার । একটিও কথা না বলে সোজা রুম থেকে বেরিয়ে গেল ।
থানার বাইরে — শেষ আলোচনা
আদালতে আফিয়াকে হস্তান্তর করার পর বখতিয়ার আর আবিদ এক কোণে দাঁড়িয়ে । রাতের হালকা বাতাস, আকাশ নিঃশব্দ ।
আবিদ — স্যার…
কেইসটা যেন পুরোপুরি শেষ হয়েও শেষ হলো না ।
বখতিয়ার — ঠিক বলেছো । আমরা তো কনট্রাক্ট কিলারকে ধরতে পারবো না । ডার্ক ওয়েব কোনো দেশের আইন মানে না ।
এটা অদৃশ্য দুনিয়া— সেখানে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ।
আবিদ — তাহলে স্যার… কেইস ক্লোজ?
বখতিয়ার গভীর নিঃশ্বাস নিলো ।
বখতিয়ার — হ্যাঁ । কেইস ক্লোজ করে দাও ।
কাগজে সিল পড়ে—
“Case Closed”.
ব্লাড কিলার — সিজন ১ সমাপ্ত
আমি আগেও আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি ক্রিপ্টো, মুভি রিভিউ, ফটোগ্রাফি, গল্প লেখালেখি আর ব্লগ । এখন সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় শুরু করেছি নতুন এক অধ্যায় — গেমিং ! 🎮 । 🎥 আমার ইউটিউব চ্যানেল Bokhtiar The Survivor-এ আমি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি, যেখানে আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি আমার গেম খেলার বাস্তব অনুভূতি আর সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো ।
Twitter
https://x.com/BokhtiarMr90788/status/1991865166653468702?t=trw3V5r93geg6Abk1OzrrA&s=19
https://x.com/PussFi_FNDN/status/1991845352291606656?t=trw3V5r93geg6Abk1OzrrA&s=19
https://x.com/BokhtiarMr90788/status/1991865596406046950?t=nc70G21GsusbTTqhDaaXLw&s=19