আন্তরালের ছায়া, পর্ব ২ : প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতারণা, এবং প্রতিচ্ছবি

in আমার বাংলা ব্লগ11 months ago

পর্ব ২ : প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতারণা, এবং প্রতিচ্ছবি


1000107184.jpg

অন্ধকার সবসময় সত্যকে আড়াল করে না । কখনও কখনও, এটি তা প্রকাশ করে

নিশির মৃত্যু শুধু সংবাদে সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে শহরের অলিগলি জুড়ে । ছায়া ইউনিটের পাঁচ সদস্য একটা রেস্টলেস বোধ নিয়ে ছুটে চলেছে শহরের বুকে ।
তাদের চোখে এখন শুধু একটা প্রশ্ন—
— "নিশির মৃত্যু কি শুধুই খুন? নাকি অন্য কিছু?"

রাতে মুন্না তার ঘরের ল্যাম্পের নিচে বসে পাতা উল্টাচ্ছিল নিশির ব্যক্তিগত জার্নালের । হঠাৎ একটা লাইন তার চোখ আটকে দেয়—

— "কখনও কখনও প্রতিদ্বন্দ্বীই সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠে।"

মুন্নার মুখে এক তীব্র আগ্রহ, কণ্ঠে শিহরণ—
— "এখানে কেউ ছিল... যে নিশিকে কেবল হারাতে চায়নি, বরং নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল!"

পরদিন, ছায়া ইউনিট হাজির হয় ‘বিউটি উইথ নিশি’ অফিসে । বিলাসবহুল কিন্তু গা ছমছমে সেই অফিসে নিশির ম্যানেজার তাদের স্বাগত জানায়—
একটা মৃদু হাসি, কিন্তু চোখে চাপে ধরা পড়ে থাকা ভয় ।

ম্যানেজার (গম্ভীর স্বরে) : “আপনারা তো নিশ্চয়ই জানেন, নিশি আর অনন্যা একে অপরের রক্তশত্রু ছিল... কসমেটিক্স দুনিয়ার ঠান্ডা লড়াইটা ওদের মধ্যে রীতিমতো আগুনে পরিণত হয়েছিল ।”

ছায়া ইউনিটের সদস্যরা স্তব্ধ ।
"অনন্যা?"

ম্যানেজার জানায়,

— “হ্যাঁ, ‘অনন্যা বিউটি’র মালিক অনন্যা । পুরো দেশের নাম্বার ওয়ান ব্র‍্যান্ড । নিশি মরিয়া ছিল অনন্যাকে হারাতে কিন্তু ৬ মাস আগে, অনন্যা এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়...। ঘটনাটা পরিষ্কার দুর্ঘটনা হিসেবেই রিপোর্ট করা হয়েছিল ।”

মুন্না ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে,
— “যে শত্রু মারা গেছে, সে তো আর খুন করতে পারে না...”

কিন্তু তদন্ত থেমে থাকে না ।
ম্যানেজার এবার বলে এমন এক নাম—
অর্ণব ।

ম্যানেজার (কণ্ঠে দোল খাওয়া দ্বিধা) :
— “নিশির জীবনে এক ছেলে ছিল— অর্ণব । ওদের প্রায়ই একসাথে দেখা যেতো, ঘনিষ্ঠও ছিল । তবে প্রেমিক কিনা, বলতে পারি না... তবে ওদের মাঝে মাঝে তীব্র ঝগড়া হতো । কারও কারও মতে, ওদের সম্পর্কটা... অনেক কিছুই লুকিয়ে রেখেছিল ।”

এইবার আবিদ বলে ওঠে—
— “প্রেম, ব্যবসায়িক শত্রুতা আর মৃত্যু— এই তিনের মাঝে একটা সরু সুতো আছে, সেটা ঠিক ধরতে পারলেই সব রহস্য ভেদ হবে ।”

বখতিয়ার এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
তার চোখে আগুন ঝরে—
— "অনন্যার মৃত্যু নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার দরকার নেই । এখন আমাদের চোখ থাকবে অর্ণবের দিকে । কেউ হয়তো জানে না— সে কেবল নিশির বয়ফ্রেন্ড ছিল, নাকি... আরও কিছু?"

সামিন, যিনি সবসময় প্রযুক্তির চোখ দিয়ে সব দেখে, ইতিমধ্যে অর্ণবের লোকেশন ট্রেস করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে ।

রনি বলে,
— "আমরা যদি অন্ধকারে ঢুকেও হাতড়ে বেড়াই, তাহলে যে আলোর রেখা পাওয়া যাবে সেটা– অর্ণব!"

শেষ দৃশ্য :

অর্ণবের ধোঁয়াচ্ছন্ন একটা ছবি উঠে আসে সামিনের স্ক্রিনে । ছেলেটার চোখ যেন কিছুকে লুকিয়ে রাখতে চায়…
ছায়া ইউনিট এবার তাকে খুঁজতে বেরোয় ।

পরবর্তী পর্বে :

"অর্ণবকে খুঁজে পাওয়া মানেই সব উত্তর মিলবে?"
নাকি রহস্য আরও গভীরে নিয়ে যাবে ছায়া ইউনিটকে?


চলবে...


অন্তরালের ছায়া, পর্ব ১ : ছায়ার আর্তনাদ


লেখক পরিচিতি


আমি বখতিয়ার রশিদ — গল্প বলার ফাঁকে সময় খুঁজি, আর সময়ের ফাঁকেই খুঁজে পাই গল্প । ক্রাইম থ্রিলার হোক বা অদ্ভুত, আমি সবসময় খুঁজি মানুষ আর মনের রহস্য । ছায়া, অন্ধকার আর মানবিক টানাপোড়েনে গাঁথা আমার চরিত্ররা কখনো নায়ক নয়, কখনো খলনায়কও নয়—তারা শুধু মানুষ । আমি বিশ্বাস করি, গল্প হোক বা সিনেমা অথবা সিরিজ—প্রতিটি লাইন, প্রতিটি সংলাপ একটা জীবন্ত স্পর্শ ছুঁয়ে দিক পাঠকের হৃদয়ে । কেননা
—“ছায়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকে গল্প… আর সেই গল্প খোঁজে বখতিয়ার।”

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.098
BTC 62816.61
ETH 1736.84
USDT 1.00
SBD 0.39