ক্রিয়েটিভ রাইটিং: পাপীকে নয় পাপকে ঘৃনা করো এটা শুধু প্রবাদেই সত্য।
🌿আমি মোঃ আশিকুর রহমান। আমি বাংলাদেশ 🇧🇩 থেকে বলছি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @ayaan001।
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি। বেশ কয়েকদিন ধরেই খুব শীত পড়ছে। শীতের তীব্রতায় খুব ভালোভাবেই শীতের মজা অনুভব করা যাচ্ছে। তবে শীতকালে অতিরিক্ত শীত না পড়লে শীতের মজা অনুভব করা যায় না। প্রতিদিনের মতো আজকেও আমি আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আজকে আমি আপনাদের মাঝে একটি ক্রিয়েটিভ রাইটিং শেয়ার করতে চলেছি। আমাদের সমাজে একটি কথা চলিত আছে পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা করো । তবে এটা শুধু কথার ভেতরে সীমাবদ্ধ। কাজের ক্ষেত্রে আমরা পাপীকে ঘৃণা করি। কখনো চেষ্টা করি না সেই পাপ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখতে। আজকে এই বিষয়টা নিয়ে আমি আপনাদের মাঝে বিস্তারিত আলোচনা করব আশা করছি আমার লেখাটি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে।
"পাপিকে নয়, পাপকে ঘৃণা করো" এই কথা শুধু একটি বাক্য নয় এটি একটি গভীর মানবিক শিক্ষার প্রতিফলন। মানবজীবনে ভুল এবং অপরাধ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সেই ভুল বা অপরাধী মানুষটিকে ঘৃণা করা কি সত্যিই সমাধান হতে পারে? নাকি তার ভিতরের পাপকে চিনে নিয়ে সেটি থেকে মুক্তির পথ দেখানোই প্রকৃত মানবধর্ম?
আমারা মুখে বলি যে পাপ থেকে সর্বদা দূরে থাকো, পাপীর কাছ থেকে নয়। কিন্তু এটা শুরু আমরা মুখে স্বীকার করে কিন্তু অন্তর থেকে পাপীকে ঘৃণা করি। খাওয়ার সময় যখন ভাত বা তরকারির ভেতর চুল পাওয়া যায় তখন সেই ভাত বা তরকারিকে দোষ দেওয়া হয় না দোষ তাকেই দেওয়া হয় যে ভাত বা তরকারি রান্না করেছে। তাকেই আমরা খারাপ কথা বলি এমনি ঘৃণা করি। পাপের সাথে মানুষের সম্পর্ক এমন এক বন্ধন যেখানে পরিস্থিতি, লোভ, অজ্ঞতা বা অসচেতনতা অনেক সময় মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। সেই মানুষটি হয়তো তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত, হয়তো নিজের পাপকে স্বীকার করে ফিরে আসতে চায় সৎ জীবনের পথে। কিন্তু আমরা যদি সেই মানুষটিকেই চিরকাল ঘৃণার চোখে দেখি তবে কি তার পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
যখন আমরা পাপকে ঘৃণা করি তখন আমরা সেই আচরণ বা কর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই। কিন্তু পাপী মানুষটির প্রতি আমাদের সহমর্মিতা থাকা উচিত কারণ মানুষ তার প্রকৃতির দ্বারা পরিবর্তনশীল। একটি অপরাধীকে যদি আমরা শুধুমাত্র ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখি তবে তার ভালো হতে চাওয়ার ইচ্ছেটিও নষ্ট হয়ে যায়। বরং তাকে যদি আমরা সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করি তবে সমাজে সত্যিকার পরিবর্তন সম্ভব।
ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষাও আমাদের এই শিক্ষাই দেয়। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ঘৃণা পাপকে করো, কিন্তু পাপীকে নয়। কারণ ঘৃণা কখনোই ভালো কিছু সৃষ্টি করে না এটি কেবল ধ্বংস আনে। পাপীকে ক্ষমা করার মাধ্যমে আমরা তাকে সঠিক পথে আসার সুযোগ দিই এবং এতে সমাজও শান্তিপূর্ণ হয়।
অতএব আমাদের উচিত প্রতিটি মানুষের মধ্যে থাকা সম্ভাবনাকে দেখতে শেখা। একজন মানুষ ভুল করতে পারে কিন্তু তার পুরো অস্তিত্ব ভুল নয়। পাপকে ঘৃণা করে মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষাই আমাদের মানবিকতার পরম নিদর্শন। তাই আসুন মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসি এবং তার ভুলগুলোর বিরুদ্ধে সচেতন হই। এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু আমাদের মনকে বড় করবে না সমাজকেও একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দেবে। শুধু মুখেই স্বীকার না করে মন থেকে বিশ্বাস করে কাজে পরিনত করি। আর এই কাজের মাঝেই আমরা আমাদের সমাজকে পরিবর্তন করতে পারি। সমাজ আমাদের উপর নির্ভর করে তাই সমাজের মানুষ যদি সবাই ভালো হয় তাহলে সমাজও ভালো হয়ে যাবে। মানুষকে বেশি বেশি ভালোবাসি সবাই একে অপরকে যত্ন করি, একে অপরকে বুঝতে শিখি, সঠিক সম্মান দিতে শিখি তাহলেই এই প্রবাদের সঠিক ব্যাবহার করা হবে।
সমাপ্ত
| পোস্টের বিষয় | ক্রিয়েটিভ রাইটিং। |
|---|---|
| পোস্টকারী | মোঃ আশিকুর রহমান |
| ডিভাইস | গ্যালাক্সি এ ১৫ |
| লোকেশন | পাবনা |
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এই কথাটি যদিও আমরা বই পুস্তকে পড়েছি কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় না। কারণ মানুষ এখন পাপকে অনেক বেশি পছন্দ করে থাকেন। যদি পাপিকে নয় পাপ কাজকে ঘৃণা করা হতো তাহলে পাপ কাজ দিন দিন বৃদ্ধি পেতো না। অনেক সুন্দর একটি টপিকস লিখেছেন আপনি ভালো লাগলো পড়ে।
আমাদের সকলকে পরিবর্তন হওয়া দরকার। আমারা পরিবর্তন হলে আমাদের সমাজও পরিবর্তন হয়ে যাবে। আপনাকে ধন্যবাদ আপু এত চমৎকার মতামত শেয়ার করার জন্য।
পাপী কে নয় বরং পাপকে ঘৃনা করা উচিত।কারন পাপকে ঘৃবা করলে পাপ একদিন কমে যেতো। কিন্তু আমরা তা না করে পাপী কে ঘৃনা করি।এটা মোটেও ঠিক নয়।আমাদের সকলের উচিত পাপকে ঘৃনার চোখে দেখে এর থেকে মুক্ত হওয়া।
জ্বি আপু পাপকে ঘৃণা করলে পাপ কমে যেতো, কিন্তু সেই কাজটা আমরা করি না। বরং পাপীকেই অবহেলা করি। ধন্যবাদ আপু অনেক সুন্দর মতামত শেয়ার করার জন্য।
প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়ে পোস্ট করলেন ভাই। আমরা মুখেই বলি যে পাপীকে ঘৃণা করা উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা পাপীর সঙ্গে কোনরকম যোগাযোগ রাখতে পছন্দ করি না। আবার নিজের অজান্তে নিজেরাই বিভিন্ন পাপের কাজ করে বসি। আসলে আমরা মানুষরা কোন বিষয়েই পারফেক্ট নই। নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী আমরা আমাদের কর্ম পরিবর্তন করি।
আপনার আজকের এই পোষ্ট লেখার টপিক আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। খুবই সুন্দর একটা বিষয় নিয়ে পোস্টটা আপনি লিখেছেন। আসলে এই কথাটা শুধুমাত্র প্রবাদ বাক্যে মানায়, বাস্তব জীবনে এরকম কিছুই হয় না। আর এটাই চিরন্তন একটি সত্য কথা। আমরা মুখে এক জিনিস বললেও করি অন্যটা। পুরো পোস্টে আমার অনেক ভালো লেগেছে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু আপনার মতামত পড়ে বেশ ভালো লাগলো। আপনি অনেক সুন্দর কথা বলেছেন।
আমরা আসলে মুখে অনেক কিছু বলি। কিন্তু বাস্তবতায় সেটা কখনো করি না। আমরা সবাই জানি যে পাপীকে ঘৃণা করা উচিত নয়। কিন্তু আমরা ঘুরে ফিরে সেই কাজটাই করি।এটাই সমাজের বাস্তবতা ভাইয়া। মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।
জ্বি আপু আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন, এটাই হয়ে আসছে আমাদের সমাজে। ধন্যবাদ আপু আপনার মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করার জন্য।
আপনি একেবারে বাস্তবিক একটা বিষয় তুলে ধরেছেন আজকের এই পোষ্টের মধ্যে। আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে আপনার লেখা আজকের পোষ্ট পড়তে। বাস্তবিক কথাগুলোকে খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। আসলে এই কথাটা প্রবাদ বাক্যের সত্যি এটা ঠিক। তবে বাস্তবতা কথাটার থেকে আলাদা। আর মানুষের কাজও তাদের কথার মত নয়।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আপনার মূল্যবান মতামত আমার পোস্টে শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন মুখে বলে পাপকে ঘৃণা কর পাপীকে নয়। আসলে মানুষ মুখে বলে কিন্তু পাপীদেরকে এমনিতে ঘৃণা করে। তবে ঘৃণা কখনো মানুষকে উপরে তুলতে পারেনা। কারণ ঘৃণা মানুষকে ধ্বংস করে। তাই চেষ্টা করতে হবে ঘৃণা না করে বুঝিয়ে মানুষকে ভালো করা যায় কিনা। সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন তাই ধন্যবাদ আপনাকে।
জ্বি আপু আপনি ভালো বলেছেন, যেটা আমাদের করার দকার সেটা না করে আমরা সবসময় উল্টা করি। শুকরিয়া আপু আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।