বাবার সাথে পুকুর পাড়ে মাছ ধরার গল্প
আসসালামুআলাইকুম/আদাব
এক বিকেলে, আকাশে সোনালি আলো ছড়াচ্ছিল, পাখিরা বাড়ির পথে ফিরছিল। আমি আর বাবা হাঁটতে হাঁটতে আমাদের গ্রামের পুরনো পুকুরটায় পৌঁছালাম। পুকুরটা যেন গ্রামের হৃদয়, চারপাশে কচুরিপানা আর নারকেল গাছের সারি। বাবার হাতে ছিল একটা পুরনো মাছ ধরার বড়শি আর এক কৌটা কেঁচো। আমার হাতে একটা ছোট বালতি।আজ অনেক মাছ ধরব,বাবা হাসতে হাসতে বললেন। আমি উত্তেজনায় মাথা নাড়লাম।
পুকুরপাড়ে বসে বাবা ধীরে ধীরে বড়শিতে কেঁচো গেঁথে দিলেন, তারপর ছুড়ে মারলেন পুকুরে। পানিতে ঢেউ খেলে গেল। আমি চুপ করে বসে রইলাম, যেন শব্দ করলেই মাছরা পালিয়ে যাবে।বাবা হালকা গলায় গল্প শুরু করলেন, “আমি তোমার বয়সে প্রতিদিন স্কুল শেষে এখানে আসতাম। তখন এত ঘরবাড়ি ছিল না, শুধু প্রকৃতি আর পুকুর। মাছ ধরতাম, তারপর মা’কে নিয়ে যেতাম রান্না করতে।আমি বললাম, “তোমার মা মানে দাদি তো খুব ভালো রাঁধতেন, তাই না?বাবা হেসে মাথা নাড়লেন,হ্যাঁ, দাদির হাতের টাকি মাছের ঝোল এখনও ভুলতে পারিনি।
হঠাৎ বড়শির টানে বাবার হাত কেঁপে উঠল। “আছে!” তিনি বললেন উত্তেজনায়। আমি ব্যাকুল হয়ে দেখলাম—পানির নিচে যেন এক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণ টানাটানির পর বাবা একটায় মাঝারি সাইজের রুই মাছ তুলে আনলেন। আমি আনন্দে চিৎকার করে উঠলাম, ওয়াও!মাছটা বালতিতে রাখতেই সেটা ছটফট করতে লাগল। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। জীবনের জন্য লড়াই করছিল ওটা।
বাবা ধীরে ধীরে বললেন,দেখছো, জীবন মানেই লড়াই। ছোট্ট একটা মাছও হাল ছেড়ে দেয় না।তারপর আমি নিজেও বড়শি ধরলাম। অনেকক্ষণ বসে থাকলাম, কখনও কিছুই টানল না, আবার কখনও হালকা টান দিয়ে চলে গেল। অবশেষে, একটা ছোট মাছ ধরা পড়ল। আমি উচ্ছ্বসিত হয়ে বাবার দিকে তাকালাম। তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,তুমি পারলে! ধৈর্য ধরাই ছিল আসল চাবিকাঠি।
সন্ধ্যা নেমে এলো, পুকুরপাড়ে আলো-আঁধারির খেলা। আমরা মাছসহ বাড়ি ফিরতে লাগলাম। পেছনে পুকুরটা শান্ত, নিরব, কিন্তু তার বুকে আজকের দিনের গল্প লেখা রইল।সেই বিকেলটা আমার জীবনের অন্যতম প্রিয় স্মৃতি হয়ে রইল। শুধু মাছ ধরা নয়, বাবার সাথে কাটানো সেই সময়, গল্প, শিক্ষা,সবকিছুই হৃদয়ে গেঁথে গেল।
বাবার সাথে মাছ ধরার এই মুহূর্তটা সত্যি অনেক আনন্দে ছিল।এখনো ভাবি যদি সেই পুরনো দিনে ফিরে পেতাম বাবার সাথে হাসির মাঝে মাছ ধরা মুহূর্তগুলো উপভোগ করতাম।আসলে স্মৃতিময় এই গল্পটি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে পেরে ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | রাইটিং ✨ |
| মডেল | এম-৩১ |
| ক্যাপচার | @alif111 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ। |
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার মাছ ধরার গল্প পড়ে অনেক ভালো লাগলো। সত্যি আমাদের শৈশব অনেক সুন্দর ছিল। তবে এখন আমরা চাইলেই শৈশবে ফিরে যেতে পারি না। আর মাছ গুলো ও নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করে। বেশ ভালো লাগলো আপনার গল্পটি পড়ে।
https://x.com/alif111ahmed/status/1938655761309278438?s=19
🎉 Congratulations!
Your post has been manually upvoted by the SteemX Team! 🚀
SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem ecosystem.
🔗 Visit us: www.steemx.org
✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5