শীতের রাতে খেজুরের রস চুরি করে খাওয়ার গল্প//পর্ব-২
আসসালামুআলাইকুম/আদাব
শীতকালে খেজুরের রস খাওয়ার মুহূর্ত সত্যিই অসাধারণ। তাইতো শীতকাল আসলেই বন্ধুদের সাথে নিয়ে আমরা খেজুরের রস খেতে যায়। আর শীতকালে এই খেজুরের রস খাওয়া নিয়ে আমাদের একটা গল্প রয়েছে, সেই গল্পই আপনাদের সাথে শেয়ার করতেছিলাম। আসলে ছোটবেলা বন্ধুদের সাথে অনেক ফল চুরি করে খেয়েছি, এই দিনগুলোর কথা মনে করতে পেরে খুবই ভালো লাগে। সেদিনগুলো কতই না আনন্দের ছিল। এখন আর সেই মনে হয় আমরা যদি সেই দিনে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে কতই না ভালো হতো। এটা ভাবতে ভাবতেই যেন ভালো লাগে। তবে আমাদের বাড়ির আশেপাশে ছোটদের কিছু চুরির ঘটনা জানতে পেরে আমাদেরও সেই পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তো বন্ধুরা শীতকালে এসেছে, আর শীতের খেজুরের রস খাওয়ার মূহুর্ত অসাধারণ। যার কারণে সেই খেজুরের রস চুরি করে খাওয়ার গল্প শেয়ার করতেছিলাম। আজকে সেই গল্পের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হলাম।
স্যারের বউ আমাদের খেজুর রস খেতে দেয়নি, যার কারণে অনেক খারাপ লেগেছিল।তারপরে বন্ধুর বাড়িতে এসে খেজুর রস খেলাম। এবং আমরা বন্ধুরা মিলে পরিকল্পনা করলাম, স্যারের বাড়ির খেজুরের গাছ থেকে হাঁড়িগুলো পেরে নিয়ে আসবো। তো বন্ধু বলল দুই তিন দিন পর আমরা পারবো। আজকে পারলে আমাদের সন্দেহ করবে। যার কারণে আমরা দুই তিন দিন পরে এক সন্ধ্যা বেলা শীতের রাতে রসের হাড়ি পারার পরিকল্পনা করলাম। আসলে গ্রাম অঞ্চলে বাইরে খুবই মানুষ কম মানুষ রাত জাগে। তাই আমরা বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা সবাই মিলে আজকে এই খেজুরের রস পারবো।
তারপর আমরা সন্ধ্যাবেলা তিন বন্ধু মিলে এক জায়গায় হলাম। যে আজকে খেজুর রস পরবো। আর খেজুর রস পাড়ার জন্য আমরা সিয়ামকে ডাকলাম। সিয়াম গাছে উঠতে পারে, আর সিয়াম বলল যে খেজুর রস রাখার জন্য আমাদের একটা পাত্র লাগবে, অর্থাৎ আমার রস পেরে একটা কিছু রাখবো। বললাম যে খেজুরের হাড়ি একদম পেরে নিয়ে আসবি, অনেক ভারি হবে। নিয়ে আসার পরে, এই রস গুলো ঢালতে হবে তাই আমরা বড় বড় পাঁচ লিটারের পানির বোতল নিয়ে হাজির হলাম। তারপরে সন্ধ্যার সময় আমরা স্যারের বাড়ির পেছনে আসলাম যেখানে সারি সারি বেঁধে খেজুরের গাছ চারটি ছিলো।
তারপরে আমরা সিয়াম একটি খেজুরের গাছে উঠিয়ে দিলাম। সেই গাছে সিয়াম আস্তে আস্তে উঠতে লাগলো। আসলে খেজুরের গাছে ওঠা অনেকে কঠিন ছিলো, কারণ কাঁটা মতো থাকে, তারপরও সিয়াম আস্তে আস্তে উঠে হারিয়ে একটি পারল। আসলে হাড়ি পারতে আমরা একটি রশি ব্যবহার করেছিলাম। হাঁড়িতে রশি বেঁধে দিল এবং এর রশি আমরা আস্তে আস্তে নিচে নামালাম। এভাবে আমরা একটি খেজুরের গাছ থেকে এবং আরেকটি হাড়ি পারলাম। আমরা দুটি খেজুরের গাছ থেকে হাড়ি পারলাম এবং আমাদের পাঁচ লিটারের বোতল পুরা হয়ে গিয়েছিলো।
তারপরে সিয়াম বলল যে এই রসগুলো আমরা আজকে খাব। আর এই গাছের হাড়ি আমরা আবারো খেজুর গাছে বেঁধে দিয়ে আসবো। তাহলে স্যার বুঝবে না। পরবর্তীতে আমরা আবারো রস খেতে পারবো। তাই সিয়ামের আইডিটি আমার কাছে দারুন লেগেছিল। যে আসলে কেউ বুঝলো না, পরবর্তীতে আবারো খাওয়া যাবে। তাই বললাম ঠিক আছে যে গাছে হাঁড়ি বাঁধা বাড়ানো হয়েছে। এই গাছে দুটি হাড়ি আবার বেঁধে দেওয়া হোক এবং পরবর্তীতে আমরা পরের গাছের দুটি থেকে আবারো রস পেড়ে খাব, তো বন্ধুরা আজকের পর্বে এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে কি করেছিলাম সেইটুকু আপনাদের সাথে আগামীতে শেয়ার করবেন ইনশাআল্লাহ।🖤✨।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | রাইটিং ✨ |
| মডেল | এম-৩১ |
| ক্যাপচার | @alif111 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ। |
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://twitter.com/AhmedAlif135308/status/1871629943400276355?t=4Dl_YBlKI_H7SJM8XDXg-Q&s=19
গল্পটা বেশ মজা লাগলো, স্যারের বাড়ি থেকে রস খেতে না পেরে অবশেষে সেই গাছ থেকে ৫ লিটারের বোতল ভর্তি রস চুরি করে খেয়েছিলেন। সবচেয়ে মজার বিষয় স্যারের বাড়ি থেকে রস চুরি করে খেয়েছেন হাহাহা।
আপনার আজকের শীতের রাতে খেজুরের রস চুরি করে খাওয়ার গল্পটা পড়ে বেশ ভালো লাগলো। আমরাও কয়েকজন বন্ধু মিলে খেজুরের রস চুরি করে খেয়েছিলাম। আমিও ভাবছি যে পোস্ট করবো, কিন্তু তার আগেই দেখছি আপনি আমাদের মাঝে ২য় পর্ব শেয়ার করে ফেলেছেন। সর্বোপরি ধন্যবাদ আপনাকে
আপনারা বন্ধুরা মিলে স্যারের বাড়ি থেকে খেজুর রস চুরি করে খেয়েছিলেন। তাও আবার দুটি গাছ থেকে ৫ লিটার রস চুরি করেছিলেন এবং পরবর্তীতে আবারো চুরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। দেখা যাক আগামী পর্বে কি হয়।