অন্যের বিপদে এগিয়ে আসার গল্প // পর্ব -১
আসসালামুআলাইকুম/আদাব
সমাজের মধ্যে আমরা ধনী গরিব মানুষ মিলেই বসবাস করি। আর সমাজের মধ্যে উচ্চ স্তরে মানুষ যেমন রয়েছে, তেমনি নিম্নস্তরের মানুষ রয়েছে। তবে উচ্চ স্তরে মানুষেরা যখন বিপদে পড়ে তখন তার পাশে হাজার হাজার মানুষকেই এগিয়ে আসতে দেখা যায়। কারণ এই মানুষটি উচ্চ পদে মানুষ যার কারণে তাকে সাহায্য করলে পরবর্তীতে সে বিপদে পড়লে সেও সাহায্য পাবে, এই আশাতেই যেন বেশি মানুষ তার বিপদে এগিয়ে আসে। কিংবা তার ভয়ে এগিয়ে আসে। কিন্তু সমাজে এমন কিছু গরীব বা নিম্ন শ্রেণীর মানুষ রয়েছে। যারা বিপদে পড়লে কেউই তাদের পাশে আসে না। কারণ এখানে কোন স্বার্থকতা নেই। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় যেন শুধু স্বার্থের পিছনে সবাই থাকে। তাই স্মৃতির পাতায় থেকে অন্যের বিপদে এগিয়ে আসার গল্প আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি।
আমাদের গ্রামে এটি হাই স্কুল রয়েছে। আমরা সেই হাইস্কুলে পড়াশোনা করতাম। বন্ধুদের সাথে আমাদের খুবই ভালো একটা সম্পর্ক ছিল। যার কারণে সকল বন্ধুরা আমরা মিলে মিশে থাকতাম। আর আমাদের হাইস্কুলের যে দপ্তারি ছিল তার কোন ছেলে ছিল না। শুধু চারটা মেয়ে ছিল। আর এই দপ্তারি খুবই অসহায় ছিল।তার এই দপ্তারির টাকা দিয়ে সংসার চলতো। তার বড় মেয়ের বিবাহ উপলক্ষে অনেক টাকা যৌতুক দিতে হবে এবং উৎসবের আয়োজন করতে হবে। এটা নিয়ে সে অনেক টেনশনে ছিল। স্কুলের ফান্ডে থেকে তাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল। আর তার কিছু জমি ছিল, সেই জমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ে দেবে।এই অবস্থায় আমরা বন্ধুরা মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম তাকে কিভাবে সাহায্য করা যায়। আমরা অল্প কিছু যদি সাহায্য করি তাহলে সে অনেক বড় উপকার পাবে।
তাই আমরা বন্ধুরা মিলে আলোচনা করলাম, কিভাবে চাচাকে সাহায্য করা যায়। আমাদের ক্লাসের ক্যাপ্টেন ছিল রনি। আর রনি বলল যে আমরা প্রত্যেকেই কিছু কিছু চাঁদা দেব, অর্থাৎ আমরা যখন পিকনিকে যায় তখন আমরা কিছু টাকা উঠিয়ে থাকি। তেমনি আমরা এটা পিকনিক টাকা মনে করেই নিজেদের কাছ থেকে কিছু এমাউন্ট তুলে আমরা চাচাকে দেবো। যার কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাদের ক্লাসের সকলেই ১০০ টাকার কম দিতে পারবে না। কেউ চাইলে বেশিও দিতে পারবে। আমরা সকলে স্টুডেন্ট মিলে একশো টাকা করে তুলতে লাগলাম। আমাদের ক্লাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের মতো ছাত্র-ছাত্রী ছিল।
এই সিদ্ধান্তটি আমাদের ক্লাসের সকল স্টুডেন্টকে জানানো হলো। সবাই একমত হলো, কারণ আমাদের স্কুলে যে দপ্তারি ছিল এই চাচা অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। স্টুডেন্টদের সকলকেই সে ভালোবাসতো এবং তাদের দেখাশোনায় করতো।কোন ছাত্রছাত্রী তার কাছে সাহায্য চাইলে সে তাদের সাহায্য করতো। যার কারণে আমাদের ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীর টাকা দিতে রাজি হলো।তাই আমরা টাকা উঠাতে লাগলাম। আর আমাদের এই চাঁদা উঠানোর খবর আমাদের ক্লাসের শিক্ষক জেনে গেল। সে বললো যে তোরা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছিস। তোদের সিদ্ধান্ত আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আজকে আমি হেড স্যারকে বলে প্রত্যেকটা ক্লাস এই বিষয়ে নোটিশ দেবো। যে যার মত কিছু টাকা করে নিয়ে আসবে চাচাকে দিতে।
তখন আমরা বললাম স্যার এই কাজটা করলে তো আরো অনেক ভালো হয়। কারণ আমাদের স্কুলে তাও ১২০০-১৩০০ জন ছাত্র ছাত্রী রয়েছে। সকলেই যদি কিছু কিছু টাকা দেয়, তাহলে অনেক ভালো হয়। স্যার বলল যে হেড স্যারের সাথে কথা বলি, তারপরে ছাড় গিয়ে হেড স্যারের সাথে কথা বললো,হরড স্যার বললো অবশ্যই একটা ভালো কাজ এবং আমাদের দপ্তারি চাচার জন্য অনেক ভালো হয়। কারণ তার বিপদে আমরা একসাথে কাজ করতে পারব। তবে স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী এটা নোটিশ করে জানানো যাবে না। আপনি ক্লাসে ক্লাসে বলুন, যারা যারা রাজি থাকবে টাকা নিয়ে আসবে।তাদের ইচ্ছামত দিতে পারে। কাউকে বাধ্য করিয়েন না। তো বন্ধুরা তারপরে কি হয়েছিল সেই অংশটুকু আপনাদের সাথে আগামী পর্বে শেয়ার করবেন ইনশাআল্লাহ। 🙏💖🙏
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | রাইটিং ✨ |
| মডেল | এম-৩১ |
| ক্যাপচার | @alif111 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ। |
https://twitter.com/AhmedAlif135308/status/1862193407692841017?t=tiFRfY3ElJH7Mq0wh0Irig&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলে ভাই অন্যের বিপদে এগিয়ে আসাটা মানবিক হৃদয়ের কাজ। যে মানুষের মাঝে মানবিকতা রয়েছে সে নিশ্চয়ই অন্যের বিপদে স্থির থাকতে পারে না। সবাই বেশ ভালো করেছেন দপ্তারি চাচার জন্য কিছু টাকা উঠিয়েছেন। নিশ্চয়ই এই টাকা গুলো তার বিপদের সময় কাজে লাগবে। গল্পটি পড়ে ভালো লাগলো। আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।