স্কুল পালিয়ে যমুনা নদী পাড়ে এক স্মরণীয় গল্প
আসসালামুআলাইকুম/আদাব
জীবনের কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলো সময়ের স্রোতে ভেসে গেলেও মনে রয়ে যায় চিরদিন। সেদিনও ছিল তেমনই এক সকাল,বৃষ্টির পরের নরম রোদ, স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে আমরা ঠিক করলাম, আজ স্কুল নয়, আজ যমুনা! চার বন্ধু, চারজনের চোখে একটাই স্বপ্ন,যমুনার ঢেউয়ে হারিয়ে যাওয়া।
স্কুলের ফটক পার হয়ে সরু মেঠোপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছলাম যমুনা নদীর পাড়ে। চোখের সামনে বিশাল জলরাশি, কূলছাড়া ঢেউ, আর নীল আকাশ যেন নদীর বুকেই নেমে এসেছে। হাওয়ায় উড়ছিল আমাদের হাসি, কথায় বাজছিল বন্ধুত্বের সুর। আমরা জুতা খুলে নেমে পড়লাম কাদা মাটির ঘ্রাণে ভেজা সেই পাড়ে। কেউ হাত ভিজিয়ে জল ছুঁল, কেউ আবার পাথর ছুঁড়ে ঢেউয়ের প্রতিধ্বনি গুনল।
একটা পুরনো নৌকো দেখা গেল কাছেই, মাঝি ছিল না, কিন্তু আমাদের কল্পনায় সেটা হয়ে উঠেছিল এক রাজকীয় ভেলা। ভাঙা বাঁশে বসে আমরা ভাবলাম, যদি যমুনা পাড়ি দিতাম! পাশে কয়েকজন জেলে জাল ফেলছিল, তাদের সাথে কথা বলে জানলাম নদীর জীবনের গল্প। তারা আমাদের খুশি হয়ে কিছু ছোট মাছ ধরতে দিল, যা আমাদের সেই দিনের ট্রফির মতো ছিল।পেছনে স্কুলের ঘন্টার শব্দ নেই, নেই কোনো হোমওয়ার্কের চাপ। শুধু ছিল মাটির গন্ধ, পানির ছলছল শব্দ আর বন্ধুত্বের আনন্দ। দুপুরে পাড়ের একটা ছোট দোকান থেকে কলা আর চানাচুর কিনে খেয়ে নিলাম। সে ছিল এক রাজকীয় ভোজ, কারণ ছিল না কোনো দুশ্চিন্তা, কেবল আনন্দ আর নিরবিচারে বেঁচে থাকার অনুভব।
সেই যাত্রায় কোনো বিলাসিতা ছিল না, তবুও ছিল অমূল্য এক অনুভূতির ভান্ডার। স্কুল পালানো নিয়ে পরে কিছু বকা খেতে হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেদিনের যমুনার পাড়, সেই বাঁশের ঘাট, আর চার বন্ধুর প্রাণভরা হাহাকার আজো রয়ে গেছে হৃদয়ের গভীরে।আজও যখন বিকেলে যমুনার পাড় দিয়ে হাঁটি, তখন সেই স্কুল পালানো দিনের কথা মনে পড়ে। মনে হয়,সেদিনই তো জীবনের আসল ক্লাসে পড়া হয়েছিল প্রকৃতি, বন্ধুত্ব আর মুহূর্তকে ভালোবাসার পাঠ। স্কুল পালিয়ে করা সেই ছোট্ট অপরাধ আজ হয়ে উঠেছে এক অমূল্য স্মৃতি।
ধন্যবাদ সকলকে✨💖
ফোনের বিবরণ
| ক্যামেরা | স্যামসাং গ্যালাক্সি |
|---|---|
| ধরণ | রাইটিং ✨ |
| মডেল | এম-৩১ |
| ক্যাপচার | @alif111 |
| অবস্থান | সিরাজগঞ্জ -রাজশাহী- বাংলাদেশ। |
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/alif111ahmed/status/1950264519877677311?s=19