বাবার সাথে বৈশাখী মেলার যাওয়ার স্মৃতিময় গল্প// পর্ব-২

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

আসসালামুআলাইকুম/আদাব

হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @alif111, বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।


আমাদের প্রত্যেকেরই জীবনে বাবার সাথে হাজারো গল্প রয়েছে। আসলে বাবার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা মনে করতে পেরে খুবই ভালো লাগে। ছোটবেলা বাবার কাছে কত বায়না করতাম। সেই দিনগুলো যেন স্মৃতির পাতায় জমা হয়ে রয়েছে। আর বাবার সাথে আমি বৈশাখী মেলাতে অনেক আনন্দময় মুহূর্ত উপভোগ করেছি এবং বৈশাখী মেলাতে গিয়ে বিভিন্ন রকমের খেলনা কিনে ছিলাম। স্মৃতির পাতায় সেই দিনগুলো যেন আমার এখনো ভাসে। তাই আপনাদের মাঝে স্মৃতির পাতায় বৈশাখী মেলাতে ভ্রমণ করতে যাওয়ার এই গল্পটি শেয়ার করতেছিলাম। আজকে সেই গল্পের দ্বিতীয় পর্ব আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। আশা করছি আমার বৈশাখী মেলার গল্পের দ্বিতীয় পর্ব পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।


father-and-son-8828819_1280.jpg


বাবার সাথে বৈশাখী মেলাতে এসে আমি অনেক মজা করেছিলাম। বিশেষ করে আমি একটি ঘুড়ি কিনেছিলাম। আর এই ঘুড়িটি আমার কাছে অনেক বেশি পছন্দ হয়েছিল। যার কারণে এই ঘুড়িটি কেনার পরে আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। তারপরে বাবা বলল নাগর দোলায় উঠতে, আমি নাগরদোলায় সেবার প্রথম উঠলাম। আর বাবার সাথে। আসলে আমি ভেবেছিলাম নাগরদোলায় উঠে অনেক মজা করব এবং অনেক ভালো লাগবে। সকলেই নাগরদোলায় উঠেছিল তাদের নাগর দোলায় ওঠার মুহূর্তগুলো দেখতে পেয়ে আমারও খুব ইচ্ছা করতেছিল। যার কারণে আমি বাবার সাথে নাগরদোলায় উঠলাম। আর নাগরদোলা যখন চলতে শুরু করল তখন আমার বুকের ভিতর ধাক্কা লাগলো।


নাগরদোলায় ওঠার পর যখন নাগরতলা উপরের দিকে ওঠে, তখন খুবই ভালো লাগে। কিন্তু যখন নিচে নামে তখন মনে হয় আমি পড়ে যাচ্ছি এবং বুকের ভিতর কিরকম যেন একটা অনুভূতি হয়। তো আমি ভয় পেয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছিলাম। বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরল বললো আমি তো আছি, কোন চিন্তা নেই, তুমি পড়ে যাবা না। তারপরেও আমার অনেক বেশি ভয় লাগতেছিল। আসলে প্রথমবার নাগর দোলায় উঠলে এরকমই লাগে সকলের কাছে আমি এটা জানতে পেরেছি। আসলে নাগরদোলায় যে প্রথম উঠবে তার কাছে অবশ্যই ভয় লাগবেই।


নাগরদোলা থেকে নামলাম, নামার পরে আমি কিছুক্ষণ বসে থাকলাম। কারণ আমার অনেক বেশি ভয় হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে যখন নাগরদোলা শেষের দিকে, তখন আনন্দের সাথে মুহূর্তটুকু উপভোগ করেছি। তারপরে সেখান থেকে বাবা বলল যে বৈশাখী মেলার আরো ভিতরে অনেক সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত রয়েছে। আমি বাবার সাথে বৈশাখী মেলার ভিতরে ঢুকলাম এবং ভিতরে ঢুকিয়ে দেখতে পেলাম পান্তা ভাত খাওয়ার একটা সুন্দর ব্যবস্থা। ইলিশ মাছ দিয়ে সকলেই পান্তা খাচ্ছে। আর এই পান্তা খাবার যেন বৈশাখ মেলাতেই দেখতে পাওয়া যায়। আমি প্রথম বাবার সাথে পান্তা ভাত আর ইলিশ খেয়েছিলাম। আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। কারণ তারা খুবই সুন্দরভাবে যত্ন সহকারে আমাদের খাইয়ে ছিলো।


পান্তা ভাত খাওয়ার পরে আমাদের কাছ থেকে টাকা চাইলেও, আমি ভেবেছিলাম এত যত্ন সহকারে আমাদের পান্তা খাওয়াচ্ছে হয়তো বাবার পরিচিত। তাই আমাদের খাওয়াছে। কিন্তু পরে জানতে পারলাম তারা আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এভাবে যত্ন সহকারে নাকি বৈশাখ মাসে পান্তা খাওয়ানো হয়। আর টাকা নেওয়া হয়। তাদের এই বিষয়টা আমার কাছে ভালো লেগেছে। আমি অনেক আনন্দের সাথে সেই মুহূর্তটুকু করেছি। তারপরে বাবা বলল যে সার্কাস দেখবে নাকি। আসলে সার্কাস কি আমি তখন বুঝিনি। বাবাকে বললাম সার্কাস কি, বাবা বলল যে দুইটা বড় বড় হাতি রয়েছে এই হাতিরা ফুটবল খেলে এবং আরো অনেক সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করা যায়। সেখানে তুমি দেখবে নাকি। আমি বললাম হা বাবা দেখব। বাবা বললো তাহলে সার্কাস দেখতে তোমাকে নিয়ে যায়।তারপর আমি আর বাবা সার্কাস দেখার জন্য টিকিট কাটতে লাগলাম। তো বন্ধুরা তারপরে কি হয়েছিল সেই অংশটুকু আপনাদের সাথে আগামী পর্বে শেয়ার করবো।

banner-abbVD-1.png

আমার পরিচয়

IMG-20240117-WA0007.jpg
আমার নাম মোঃআলিফ আহমেদ।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি আমার জন্মভূমিকে খুবই ভালোবাসি। আমি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের একজন ছাত্র। আমি ছোট বেলা থেকেই আর্ট করতে পছন্দ করি।তাই অংকন করতে আমার খুব ভালো লাগে।তাই আমি সময় পেলেই বিভিন্ন চিত্র অংকন করি।বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমন করতে ও ফটোগ্রাফি করতে আমার খুবি ভালো লাগে।🌼💖🌼

সবার প্রতি শুভেচ্ছা রইল এবং আমার পোস্টটি সমর্থনকারী সকল বন্ধুদের বিশেষ ধন্যবাদ।🌹🌻

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 years ago 

অনেক ভালো লাগলো আপনার গল্প পড়ে। আসলে ছোটবেলায় আমি বেশ অনেকবার নাগর দোলনায় উঠেছি। নাগরদোলা উপরে যখন ওঠে তখন উপরের থেকে অনেক কিছু দেখা যায়। আর নিচে যখন নেমে আসে তখন দড়িগুলো চেপে ধরতাম ভয়ে। যাইহোক ঠিক তেমনি অনুভূতি আজকে আপনি প্রকাশ করেছেন। আসলে সেই ছোটবেলার অনেক অভিজ্ঞতা মনে পড়ল।

 2 years ago 

ছোটবেলায় আমিও বাবার সাথে অনেক জায়গায় ভ্রমনে যেতাম। বিশেষ করে হাটে এবং মেলাতে বাবার সাথে আমিও যেতাম। আপনি ও বাবার সাথে বৈশাখী মেলাতে গিয়ে অনেক মজা করেছেন। বিশেষ করে নাগর দোলায় ওঠার পরে আসলেই অনেক ভয় লাগে। যাই হোক তারপরে আপনারা সার্কাস দেখতে যাবেন সেই সার্কাস দেখার পরবর্তী অংশ পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64715.35
ETH 1920.72
USDT 1.00
SBD 0.38