আগেকার মানুষ আর বর্তমান মানুষের মধ্যে তুলনামুলক পার্থক্য
আস্সালামু আলাইকুম,
আমার বাংলা ব্লগের প্রাণ প্রিয় বন্ধুরা, সম্মানিত এ্যাডমিন ও মডারেটরবৃন্দ, কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। আজকের পোস্টে আমি আগেকার মানুষ আর বর্তমান মানুষের মধ্যে তুলনামুলক পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আপনারা সবাই এটি উপভোগ করবেন এবং কিছু নতুন তথ্য জানতে পারবেন। ভুলত্রুটি হলে দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ!
আমাদের সমাজে প্রতিদিন কিছু না কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাই। সময়ের সাথে সাথে মানুষ আরও বেশি শিক্ষিত হচ্ছে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে আর জীবনযাত্রা সহজতর হচ্ছে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে যতই শিক্ষার আলো প্রসারিত হচ্ছে ততই মনে হচ্ছে মনুষ্যত্বের আলো নিভে যাচ্ছে। শিক্ষিত মানুষেরা যেখানে সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হয় সেখানে আমরা দেখতে পাই শিক্ষিত ব্যক্তিরাই অনেক সময় অশিক্ষিতের মতো আচরণ করছে। কিন্তু আগেকার দিনের মানুষেরা শিক্ষিত না হলেও তাদের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধটি অনেক বেশি কাজ করিত। বিধায় বর্তমানের পরিবেশটা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে।
আগেকারদিনে মানুষ শিক্ষিত ছিল না কিন্তু তারা ছিল ভদ্র,সদয় এবং মানবিক। তাদের মধ্যে ছিল সহমর্মিতা, বিশ্বাস এবং সহযোগিতার মানসিকতা অথচ আজকের শিক্ষিত সমাজে আমরা সেই গুণাবলির দেখতে পাই না। আধুনিক শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার পরেও অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি অহংকারে ভরপুর। তারা মনে করে যে তাদের এই উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানই তাদের সবকিছুর ঊর্ধ্বে তুলে ধরে রেখেছে বিধায় তারা অন্যদের ছোট করে দেখতে শুরু করেছে। পক্ষান্তরে আগেকার দিনের মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো না থাকলেও তারা মানুষকে অনেক সম্মান করত এবং কাউকে ছোট করে দেখত না।
একবার একটি গ্রামের বৃদ্ধ লোক শহরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। শহরের আত্মীয়টি খুব শিক্ষিত এবং একটি ভালো পদে চাকরি করিত কিন্তু যখন বৃদ্ধ লোকটি তার বাড়িতে গেলেন তখন তাকে কেউ আদর-আপ্যায়ন তো করল না বরং বৃদ্ধকে এমনভাবে উপেক্ষা করল যেন তারা তাকেই চিনেই না অথচ সেই আত্মীযয়ের বাবাকে এই বৃদ্ধ লোকটি অনেকবার সাহায্য করেছেন। এটি শিক্ষার নামে অহংকারের একটি বড় উদাহরণ।
আগের মানুষগুলো শিক্ষিত ছিল না তবে তাদের হৃদয়ে ছিল স্নেহ ভালোবাসা এবং সম্মান। তারা জানত কিভাবে একে অপরকে সাহায্য করতে হয় কিভাবে ছোট ছোট সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে হয়। তারা মনে করত মানুষের প্রকৃত সম্পদ হলো মানবিক গুণাবলি। গ্রামের সাধারণ মানুষেরা যখনই কেউ বিপদে পড়ত তখর তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত। তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধনও ছিল অটুট। আজকাল সেই মায়ার বন্ধন আর দেখা য়াই না। শিক্ষিত সমাজে আমরা দেখছি কেউ কারো সাহায্য করতে রাজি নয় সবাই নিজ নিজ স্বার্থে ব্যাস্ত। একজন মানুষ যদি বিপদে পড়ে তখন অন্যরা তা দেখেও এড়িয়ে যাই।
একবার একটি গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক থাকত তার পড়াশুনার সুযোগ ছিল না কিন্তু তার হৃদয় ছিল ভালোবাসা ও সহানুভূতিতে পূর্ণ। একবার তাদের গ্রামের স্কুলের একজন শিক্ষক তার বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ে ফলে কৃষকটি তখন তাকে নিজে খাওয়াল সেবা করল এবং সুস্থ করে তুলল অথচ সেই শিক্ষিত শিক্ষক সুস্থ হওয়ার পর সেই কৃষককে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কিছু বলল না বরং তাকে হেয় করল তার অশিক্ষার জন্য। শিক্ষিত হওয়ার পরও শিক্ষকের এই অমানবিক আচরণ আজকের সমাজের বাস্তবতা।
শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়। শিক্ষা আমাদের মনুষ্যত্ব শেখায় কিভাবে মানুষ হওয়া যায়। শিক্ষা মানুষকে সমাজের প্রতি দাযড়ত্বশীল করে তোলে কিন্তু যদি সেই শিক্ষার ফল হয় অহংকার, নির্দয়তা এবং অসহিষ্ণুতা তবে সে শিক্ষা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমরা দেখেছি শিক্ষিত সমাজেই আজ সবচেয়ে বেশি সহিংসতা, অবিচার এবং অমানবিকতা।
আজকের এই ঘোলাটে পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। শিক্ষা মানেই শুধু ডিগ্রি নয় মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং ভালোবাসা শেখা। আমাদের শিক্ষিত সমাজকে আবার সেই পুরনো দিনের মূল্যবোধে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলির চর্চা ছিল। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, যতই জ্ঞান অর্জন করি না কেন যদি আমরা মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সম্মান দেখাতে না পারি তবে সেই জ্ঞান নিরর্থক। একমাত্র মনুষ্যত্বই আমাদের সমাজকে আলোকিত করতে পারে আর সেই মনুষ্যত্বের আলো জ্বালাতে হবে আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনাদের সবার ভালো লেগেছে। আপনার মতামত জানাতে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। সামনে আরো নতুন ও আকর্ষণীয় পোস্ট নিয়ে হাজির হবো। ততদিন পর্যন্ত সাথেই থাকুন।



Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সত্যি কথা বলতে কি আগেকার মানুষগুলো ছিল খাঁটি যাদের মধ্যে অগাধ ভালোবাসার স্নেহ মমতা ছিল। আর এখনকার মানুষ গুণ হয়ে গেছে রগ চটা। অল্পতেই অহংকার রাগ দেখাতে ভালবাসে। আমি মনে করি এ সমস্ত বিষয়ের মূলে রয়েছে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভয় এবং ঈমানের অভাব। এই সমস্ত কারণে ই তারা আজকে আগের মানুষের চেয়ে অনেক পার্থক্য চলে এসেছে এবং মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। তবে হান্ড্রেড হান্ড্রেড নয় প্রায় ৭০% মানুষ এমন বিপথগামী।
সুমন ভাই কেমন আছেন? আশাকরি ভালই আছেন। বেশি শিক্ষিত হলেই মানুষ বেশি বুঝতে শুরু করে তাইতো বর্তমানে এত সমস্যা ভাই। আপনি অনেক সুন্দর মতামত দিয়েছেন। অনেক ধন্যবাদ ভাই।
আলহামদুলিল্লাহ ভাইয়া, আমি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি, অতিরিক্ত শিক্ষিত হলে যা হয় সে বিষয় নিয়ে আমার পোস্ট রয়েছে ভাইয়া। আর এমন টপিকস নিয়ে আমি অনেকগুলো পোস্ট শেয়ার করবো ইতিমধ্যে সাজিয়ে রেখেছি।
বর্তমান সমাজের প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরেছেন আজকের পোষ্টটির মাধ্যমে, আমার কাছে পোষ্টটি ভালো লেগেছে, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধু ও চলিত ভাষা মিক্স হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আরো একটু যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ রইল। ধন্যবাদ
জি ভাই পোষ্টটিতে কিছু ভাষাগত ভুল আছে। পরবর্তীতে আরও ভাল করে লেখার চেষ্টা করিব। ধন্যবাদ ভাই আমার পোষ্ট পড়ে সুন্দর একটি মতামত দেওয়ার জন্য।
আগেকার মানুষগুলো অনেক সহজ সরল ছিল। তাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ সরল ছিল। তবে তাদের মনে কোন খারাপ চিন্তা ছিল না ভাইয়া। অনেক সুন্দর করে কথাগুলো উপস্থাপন করেছেন। বেশ ভালো লাগলো।
আপু কেমন আছেন? আশাকরি ভালই আছেন। আপু ছোট বেলাই যখন গ্রামের বাড়িতে যেতাম তখন দেখতাম সবার মধ্যে কত মিল। তাদের হয়ত অর্থ ছিল না কিন্তু মনটা ছিল অনেক বড়। সবাই একে অপরের সাহায্য করিত আর এখন সবই ভিন্ন। ধন্যবাদ সুন্দর মতামত দেওয়ার জন্য।
আপনি ঠিক বলেছেন ভাই, আসলে যতো দিন যাচ্ছে ততোই সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। আগেকার মানুষ আর বর্তমান মানুষের মধ্যে এখন অনেক পার্থক্য। আগেকার মানুষ অনেক সুস্থ সবল ছিলো। এখন মানুষ খুব অল্প সময়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখন মানুষের মধ্যে কোন মায়া, মমতা, ভালবাসা নেই। মানুষের বিবেক এবং মনুষত্ববোধ হারিয়ে গেছে। আপনার পুরো পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে ভাই ।
ভাই কেমন আছেন? আশাকরি ভালই আছেন। ভাই এখনকার সব জিনিসে ভ্যাজাল আর ভ্যাজাল খেয়ে খেয়ে আমরা সবাই অনেক দূর্বল হয়ে যাচ্ছি আর বর্তমানে মানুষ গুলির মন মানষিকতাও অনেক দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। ধন্যবাদ অনেক সুন্দর একটি কমেন্ট করার জন্য।
আগের দিনের মানুষদের সাথে এখনকার মানুষদের আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। আগের দিনের মানুষজন পরোপকারী ছিলেন। তারা অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। আর এখনকার মানুষজন কারো বিপদে তো সাহায্য করবেই না,বরং আরও বিপদে ফেলার চেষ্টা করে। যাইহোক পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাই। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।