কালের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের খেলা ও খেলার জায়গা গুলো।
স্টিমিট বাসি ও Incredible India কমিউনিটি সদস্যদের 🙋♂️হ্যালো। কেমন আছেন সবাই
আমি মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী। আমার স্টিমিট ব্যবহারকারীর নাম @usuf.
আমি আমার দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, খাদ্যাভ্যাস, আমার দৈনন্দিন কাজ, পছন্দ অপছন্দ, স্মৃতি, আমার শখ ইত্যাদি সম্পর্কে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে #বাংলাদেশ থেকে #স্টিমিট এ যোগ দিয়েছি।
ছবি তোলা হয়েছে xiaomi redmi note 10 pro
আমার বাড়ির সামনে বিশাল বড় একটা পুকুর আছে। পুকুরটা নিস্তেজ হয়ে মরে পড়ে আছে ৷ আগের মতো এখন আর ছোট ছোট বাচ্চারা গিয়ে সারাদিন ঝাপাঝাপি করে না। শেওলা ও কচুরিপানা জমে আছে পুরো পুকুর জুড়ে৷ কিছুদিন পর হয়তো এখানে আর কোনো পুকুরও থাকবে না৷ পুরো পুকুর জুড়ে মাটি ভরাট করে গড়ে উঠবে কোনো বিল্ডিং। এভাবেই একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের সব প্রিয় স্মৃতিগুলো।
ছবি তোলা হয়েছে xiaomi redmi note 10 pro
আমার স্পষ্ট মনে আছে, আজ থেকে অনেক বছর আগের স্মৃতিগুলো। তখন সম্ভবত ক্লাস ওয়ানে কিংবা টুতে পড়ি। তখন বর্ষাকাল ছিল পুকুর কানায় কানায় পানিতে ভরা ছিল। আমি ও আমার বড় ভাই পানিতে পড়ে গিয়েছিলাম। পাশের বাড়ির এক মেয়ে আমাদের দেখে টেনে তুলেছিলেন।এই পুকুরে সাতার শিখেছি। আমি ও আমার বড় ভাই এবং গ্রামের আরো কিছু ছেলে মিলি সারাদিন পুকুরে ঝাপাঝাপি করে কাটিয়ে দিতাম। গ্রামের কয়েকজন মুরুব্বী এসে আমাদের বকা দিয়ে পুকুর থেকে তুলে দিত। আমরা নাকি ঝাপাঝাপি করে পুকুরের পানি ঘোলা করে ফেলতাম৷ অথচ সেই পুকুরে আজ কেউ গোসল করতে নামে না। ছোট ছোট বাচ্চারা সাঁতার কাটতে আসে না।
ছবি তোলা হয়েছে xiaomi redmi note 10 pro
গ্রামের সৌন্দর্যগুলো হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিক নগরায়ণের কারনে৷ সাথে সাথে শৈশবের স্মৃতিগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে । হয়তো কয়েক বছর পর অস্তিত্বও থাকবে না স্মৃতিগুলোর। আমার শৈশবের স্মৃতিগুলোর কথা শুনে অবাক হবে আগামী প্রজন্মের যুবকেরা। ইতিহাসের বইতে পড়ে আমরা যেমনটা সেই সময়কার কাহিনী পড়ে অবাক হই। পৃথিবীর অজানা এক গন্তব্যের দিকে ছুটে চলছে । জানা নাই কী আসবে সামনে ৷ আমাদের মাঝে বেশিদিন টিকে থাকে না ফেলে আসা শৈশবের স্মৃতিগুলোর ।
ছবিটি তোলা হয়েছিল যখন আমি ক্রিকেট খেলার জন্য পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছি তখনকার তাই ঠিক মনে নেই ছবিটি কোন ফোন দিয়ে তোলা হয়েছে
আমার স্কুলের পাশেই বিশাল বড় খেলার মাঠ। ছোটবেলার বেশিরভাগ স্মৃতিগুলো হারিয়ে গেলেও এই খেলার মাঠের স্মৃতিগুলো হারিয়ে যায় নি এখনো। এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো মাঠ জুড়ে দল বেঁধে নানা বয়সের ছেলেরা । ভাগ হয়ে কেউ খেলছে ফুটবল, আবার কেউবা ক্রিকেট । ঘুরে ফিরে এই দুইটা খেলাই আমাদের দেশে এখন বেশি যুবকদের খেলতে দেখা যায়। যদিও ব্যান্ডমিন্টন ও ভলিবল খেলা হয় শীতকাল আসলে। এছাড়া বাকি যেসব খেলা আছে, তা এখন খুব একটা চোখে পড়ে না।
ছবি তোলা হয়েছে xiaomi redmi note 5 AI
যুবকদের এখন আর খুব একটা খেলতে দেখা যায় না কানামাছি,সাতচারার,হাডুডু,গোল্লাছুটের মতো দেশীয় খেলাগুলো। বিষয়টা খুব অদ্ভুত তাই না? আমি শেষ কবে এইসব খেলা খেলেছি। তা আমার ঠিক মনে নেই। ধীরে ধীরে এইসব খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে কি কারনে? এখনকার যুবকরা কি এসব খেলা পছন্দ করে না? নাকি মোবাইল, কম্পিউটার গেমস আর অনলাইনের কারণে এগুলা খেলার জন্য সময় হয়ে উঠে না যুবকদের ? এখনো অবশ্য টিকে আছে ক্রিকেট আর ফুটবল খেলা।
ছবি তোলা হয়েছে xiaomi redmi note 10 pro
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়া যায় গ্রামে যতই গ্রামের পরিবর্তন হোক না কেনো। এখনো ঝিঁঝি পোকা ডাক শোনা যায় গ্রীষ্মের সকাল সন্ধ্যায়। গ্রামের বিশুদ্ধ বাতাসে এখনো নিঃশ্বাস নেয়া যায় বুক ভরে ৷ কিন্তু শহরে বিশাল অট্টলিকার মাঝে এসবের কোনোটাই নেই। গ্রামে কোনো শহরের লোক আসলে এইসব দৃশ্য হঠাৎ করে চোখে পড়লে খুব ভাল লাগবেই তার। এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি হবেই।
◦•●◉✿ধন্যবাদ সবাইকে✿◉●•◦
হ্যাঁ একদমই তাই এখন আর সেই আগের মত নেই কোন খেলাধুলা নেই কোন মাঠ কি কোন জায়গা। আমাদের যে বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তা রয়েছে সে রাস্তার সাথেই বেশ কুকুর ছিল কিন্তু এখন আর সেই পুকুর গুলো পুকুর নেই, সবগুলো মাটি দিয়ে ভরপুর করেছে।
স্কুল মাঠ গুলোতেও যেন এখন আর শিক্ষার্থীদের আনাগোনা দেখা যায় না বিকেল বেলায় খেলাধুলা করার জন্য। কিন্তু এগুলোর কারণ কি? আপনি তো বললেন অনলাইন, গেম, কম্পিউটার মোবাইল নিয়ে থাকতেই যেন সময় হয়ে উঠছে না এটাই তো মনে হচ্ছে। হ্যাঁ এই কথাটা একদমই যথাযথ মনে হচ্ছে কেননা যখন ছিল না মোবাইল অনলাইন খুবই রেয়ার তখন কিন্তু সবই খেলাধুলা হতো।
তবে আপনি যখন পুকুরে পড়ে গিয়েছিলেন একটি মেয়ে আপনাকে বাঁচিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহতালা তাকে নেক হায়াত দান কর ুক এবং আপনাকেও। আমাদের কুকুরগুলো এখন হয়তো বা মাটি দিয়ে ভরপুর করেছে অথবা কেউ সাঁতার কাটতে যায় না বিধায় ছবিতে উল্লেখিত পুকুরের মতো অবস্থা হয়ে যাচ্ছে।
খুব প্রাণবন্ত লিখেছেন। আমাদের গ্রামেরও একই চিত্র। গ্রামের তিনটে পুকুর এখন ব্যবহার অযোগ্য। অথচ আগের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। যেই পুকুরে আমি সাঁতার শিখেছিলাম সেটাতে এখন আর কেউ নামেই না। শুধু বিল্ডিং আর বিল্ডিং। আবাদি জমিও কমে যাচ্ছে।
কিছু কিছু লেখা পড়লে মনের অজান্তেই নিজের শৈশবকালের স্মৃতিগুলো ফিরে আসে। আমার আর্টিকেল পড়ে আপনার শৈশবকালের স্মৃতিগুলো আপনার মনের নতুন করে আলোকিত হয়েছে এটা আমার কাছে অনেক বড় একটা পাওয়া। আপনার ভাষ্যমতে আপনার গ্রামে তিনটি পুকুর ছিল সবগুলোই আমাদের গ্রামের পুকুরের মতন অবস্থা। সত্যি বলতে প্রতিটা গ্রামের একি অবস্থা আমার মতো এটা আধুনিক নগরানের কারণে এমন হচ্ছে না আমাদের অযত্নে ও অবহেলার কারণে এমনটা ঘটছে। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটা মতবাদ করার জন্য।
সময়ের সাথে সাথে পরিবেশ ও বেশ পরিবর্তন হচ্ছে আগের দিনের বাচ্চারা যতোটা খেলাধুলা করার সময় পেতো এখনকার বাচ্চারা সেটা কমই পায় তাছাড়া পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে খেলাধুলার জায়গা নেই বললেই চলে। আপনার ছোটবেলার স্মৃতি চারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে সত্যি বেদনার। দিনে দিনে জায়গাজমির অভাব এবং শিশুদের ব্যস্ততার কারণে এসব খেলার মাঠ কিংবা গ্রামের পুকুরগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। স্কুল মাঠ সম্পর্কে জেনে ভালো লাগলো এখনো বাচ্চারা খেলাধূলা করার মতো কিছু অবশিষ্ট আছে এবং তার সুন্দর ব্যবহারও হচ্ছে।
খুবই তাড়াতাড়ি সময় পরিবর্তন হচ্ছে। এত তাড়াতাড়ি সময় পরিবর্তন হবে আশা করিনি। আমি ভেবেছিলাম আমি যেভাবে শৈশব কাটিয়েছে ঠিক সেইভাবে আমার ছেলে মেয়ের শৈশব কাটবে। কিন্তু বাস্তবতা খুবই কঠিন একটা জিনিস। গ্রামের পরিবেশ এত তাড়াতাড়ি আধুনিক হতে থাকবে পাঁচ বছর আগে এটা কেউ কল্পনা করেনি। সুন্দর মতামত প্রদান করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আর আপনার শুভ কামনা করছি।
এখনকার বাচ্চারা আগের মত খেলাধুলা করতে চায় না কারণ তারা বেশিরভাগ ঘরে বসে থাকে মোবাইলে ও অনলাইন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আগের বাচ্চাদের মতো এখনকার বাচ্চারা আর খেলাধুলাই করে না। আপনার পোস্টটি উপভোগ করে খুব ভালোই লেগেছে।
আধুনিকতার দরকার আছে কিন্তু বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়েরা একটু বেশি আধুনিক। যা তাদের শৈশবকে ধ্বংস করছে আমি মনে করছি। শৈশব মানে দুরন্তপনা, কোন কিছুর বাঁধা না মান, যখন যা ইচ্ছা তাই করা, শত বকা খাওয়ার পরও বারবার একই কাজ করা আমার কাছে শৈশব মানে এটাই। কিন্তু বর্তমান যুগের ছেলে মেয়েরা মোবাইল ছাড়া কিছুই বোঝে না। সুন্দর মতামত প্রদান করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আর আপনার জন্য শুভকামনা রইল।