কর্মযুদ্ধে সহযোদ্ধাদের ভূমিকা সঠিক থাকলে যুদ্ধ জয় করা সহজ হয়ে যায়।
প্রিয় বন্ধুরা,
আশাকরি সকলে ভালো আছেন। আমার এখন সকাল থেকে রাত কাটছে লেখার মধ্যে দিয়ে এবং আনুসঙ্গিক আরও বেশি কিছু কাজের মধ্যে দিয়ে।
সবচাইতে বড় কথা, যবে থেকে এই প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে, আমি কেবলমাত্র রাত বারোটার পরে, খাবার সময় পাচ্ছি তাও সামান্য সময়ের জন্য।
ঘরের কোনো কাজের ক্ষেত্রেই আমার কোনো সহযোগী হাত নেই, এবং গতকাল আমার ইনডাকশন খারাপ হয়ে যাবার ফলে আরো বিপদ বেড়েছে।
তবে সেই দিক থেকে তুলনা করলে কাজের জায়গায় যারা এখন আমার সহযোদ্ধা তাদেরকে কুর্নিশ জানাতে চাই।
কারণ কোনো প্রতিযোগিতা বা লড়াই জেতা তখনই সম্ভব যখন আপনার সাথে থাকা মানুষগুলো সমান ভূমিকা পালন করে।
সেদিক থেকে দেখলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করি। অনেকেই ভাবতে পারেন এমনি কি আর তারা কাজ করছে সমর্থন পাচ্ছে বলেই করছেন।
তাহলে বলতে হয় প্রতিযোগিতায় কেউ যখন অংশগ্রহণ করে তখন মাথায় জেতার চিন্তা নিয়েই নামেন, তবে কেউ হেরে গেলে হাল ছেড়ে দেন, আমার কেউ কেউ নতুন করে প্রতিযোগিতা জেতার প্রস্তুতি নেয়।
আপনাদের মাঝে কাজ করা এই কমিউনিটির মডারেটর যিনি ভেনেজুয়েলা দেশের মানুষ, জানিনা কতজন তার পোস্ট পড়েছেন; ঝড়ের কারণে তার বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে গেছে, কোনো একটা ঘরের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে।
তৎসত্ত্বেও সে প্রতিদিন নিয়ম করে তার কাজ করে চলেছেন। ব্যাক্তিগত সমস্যাকে কাজের উপরে প্রভাব ফেলতে না দিয়ে।
কাজের প্রতি একগ্রতার নিদর্শন রাতের আঁধারে কাজ করে চলেছেন শ্রমিকরা:- |
|---|
আসলে আমি সেইসকল মানুষদের সন্মান করি যারা নিজেদের রুজির জায়গাকে সন্মান করতে জানেন।
কিছু জিনিষ আজও কেনা যায় না, উপার্জন করতে হয়; সন্মান তাদের মধ্যে অন্যতম।
আমি আমার কমিউনিটির সকল মডারেটর এবং সহকর্মীদের সন্মান করি।
যদিও আমি ক্ষমতাহীন মানুষ, আমার সম্মানের মর্যাদা আছে কিনা জানা নেই, তবে আমি কিছু বিষয়কে আজও অর্থের উর্ধ্বে রাখি।
জানিনা, কখনো দেখেছেন বা শুনেছেন কিনা! অনেকেই কম মাসোহারা পেয়ে অনেক কোম্পানিতে বছর কে বছর কাজ করে যান সেখানের পরিবেশের জন্য। সংখ্যা হয়তো এমন মানুষের কম কিন্তু এখনও দেখতে পাওয়া যায়।
পুরনো যুগে কোনো কোনো বাড়িতে যিনি বাড়ির কাজ করতেন তারা বংশপরম্পরায় সেখানে কাজ করে যেতেন।
এখানে হিন্দি ছায়াছবির নামকরা নায়ক সলমন খানের পিতা সেলিম খানের বলা একটি ঘটনার উল্লেখ করতে চাই।
একদিন সেলিম খান বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ব্যস্ত, এমন সময় একজন সেলিম খানের বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ভালো মানুষের সংজ্ঞা কি?
বন্ধুটি উত্তরে বলেছিলেন, সংজ্ঞা অনেক আছে, কিন্তু যেটা সহজে বোঝার উপায় আছে সেটাই বলছি।
যে মানুষের জীবনে পুরনো বন্ধু, আর বাড়িতে পুরনো কাজের লোক অপরিবর্তিত;
জানবেন তিনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে গণ্য।
কিছুক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে তবে সেটা আত্ম-স্বার্থের কারণে না হওয়াই ভালো।
আজকে কাজের জায়গায় এই মানুষগুলোকে পাশে না পেলে সত্যি কাজটা কতটা সুসম্পন্ন করা সম্ভব হতো জানিনা।
কাজেই তাদেরকে সম্মানিত করা হলে সেটা তাদের প্রাপ্য, আমি কোনোদিন একা খেতে ভালোবাসার দলে পড়ি না।
যাইহোক, আজকে অত্যধিক কাজের চাপের মাঝে ব্যাক্তিগত সমস্যার দিকে না তাকিয়ে কেবল কাজ করে চলেছি।
যৌথ উদ্যোগের কিছু নিদর্শন কাজের জায়গায়:- |
|---|
আমার কাছে কাজের জায়গায় কাজকে সন্মান সবচাইতে বড় বিষয়; তাই সুযোগ পেয়েছি বলে যেনো, তেনো, প্রকারেনো দায়সারা করে চালিয়ে দিতে পারি না।
আমার কাছে নিজের উপার্জনের পিছনে যদি নিজের পরিশ্রম দেখতে না পাই, সেখানে কোথাও না কোথাও মনে হয় আমি কারোর প্রাপ্যের উপরে থাবা বসিয়ে ফেলেছি।
কর্মজীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কাজের জায়গার সহকর্মীদের ভালোবাসা আমার আসল উপার্জন, কারণ সেটা আমি কর্ম দিয়ে উপার্জন করেছি।
পথ চলতে জীবনে অনেক মানুষ আসেন আবার সময়ের সাথে অনেকেই চলে যান, তাদের মধ্যে আমরা মনে রাখি খুব ভাল স্মৃতি যাদের সাথে জড়িয়ে আছে, আর খুব খারাপ স্মৃতি যাদের সাথে জড়িয়ে আছে।
বাকিদের আমরা কিন্তু বিশেষ মনে রাখি না, ভেবে দেখবেন।
এখানে কাজ করতে করতে কখনো কখনো মনে হয় পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়, কত দেশের মানুষ এখানে একসাথে কাজ করছেন!
তার একটি অংশ হতে পেরে ভালো লাগা কাজ করে নিজের মধ্যে, কারণ হয়তো কোনোদিন এই মানুষদের সাথে সামনা সামনি দেখা হবে না, কাজেই এই সময় একসাথে পথ চলার স্মৃতি রয়ে যাবে অমলিন।
আজকে লিখতে বসে মনে হলো, যে পরিবার নিয়ে কাজের যাত্রাপথ পার করছি, তাদের সম্পর্কে কিছু কথা লেখা উচিত।
কারণ এই সহযাত্রী ছাড়া আমার একার কোনো মূল্য নেই, এখানে প্রতিদিন কাজ করা মানুষগুলো অন্তর থেকে সুন্দর, এটা কিন্তু খুব কম দেখা যায়।
সবাই আলাদা জায়গার মানুষ কিন্তু চিন্তা ভাবনা এবং আড্ডায় সবাই সিদ্ধহস্ত;
নিজের জীবনের ব্যাক্তিগত লড়াই, তাই এদের মাঝে সময় কাটিয়ে ভুলে থাকার চেষ্টা করি।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সবাই বাইরে থেকে দেখে অন্যের বিচার করেন, কিন্তু আসল বিচার করা সম্ভব তার জায়গায় নিজেকে রেখে দেখার পরই।
এইভাবেই আগামী পথ পার করতে পারি সকলে একসাথে এই কামনা করে আজ বিদায় নিলাম।
Your post has been rewarded by the Seven Team.
Support partner witnesses
We are the hope!