ভিমকালী মন্দির - হিমাচল প্রদেশ!
অস্থির মানসিকতা নিয়ে অতিবাহিত পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং জীবনের সংঘর্ষের মাঝে অনেকের মতোই আমিও আশ্রিতা সেই পরমেশ্বরের!
তবে, আজকের ছবিগুলোর বিশেষত্ব নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যেই মূলত আজ হাজির হয়েছি, কারণ নিজের সমস্যা যে অন্যের বিরক্তির কারণ, সমাধানের নয়, সে আজ বেশ ভালই বুঝতে শিখেছি।
আজকের ছবিগুলো হলো ভারতের হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত ৫১ পিঠের অন্যতম ভীমকালী মন্দিরের!
হিমাচল প্রদেশের অন্যান্য অনেক বিশেষত্বের মধ্যে অন্যতম হলো, এই প্রদেশের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হলো শিমলা, আর শীতকালীন রাজধানী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ধর্মশালা নামক জায়গাটি!
একটি প্রদেশে দুটি রাজধানীর উপস্থিতি, একটি অনন্য দৃষ্টান্ত ঠিক যেমন রয়েছে মহারাষ্ট্রে এবং কাশ্মীরে!
যদিও ব্যতিক্রমী শুধু উল্লেখিত প্রদেশগুলো নয়, সঙ্গে রয়েছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ, এক্ষেত্রে রয়েছে তিনটি রাজধানী (বিশাখাপত্তনম, অমরাবতী ও কুর্নুল)!
বিখ্যাত নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তার
চন্দ্রগুপ্ত নাটকে সেলুকাস চরিত্রের মুখ থেকে সংলাপটি বলিয়েছিলেন ভারতের বৈচিত্র্যকে উদ্দ্যেশ্য করে!
"সত্যিই সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!"
সংলাপটি কাল্পনিক হলেও ভারতের ক্ষেত্রে উল্লেখিত বাক্যটি একেবারে সঠিক বলে আমি মনে করি।
এবার চলুন লেখার মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক, আর এই মন্দির সম্পর্কে কিছু তথ্য লেখার হাত ধরে তুলে ধরার প্রয়াস করা যাক।
হিমাচল প্রদেশের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শিমলায় অবস্থিত মন্দিরটি মা দূর্গাকে উৎসর্গিত।
খানিক পৌরাণিক কাহিনী এখানে একটু উল্লেখিত প্রয়োজন আছে, তাদের উদ্দেশ্যে যারা কেনো কোনো স্থানকে পিঠ আখ্যায়িত করা হয়, সেটা জানে না।
রাজা দক্ষের কন্যা ছিলেন দেবী সতী, যিনি মহাদেবের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু এই বিবাহ হয়েছিল প্রজাপতি দক্ষ অর্থাৎ সতী দেবীর পিতার অমতে!
বিস্তারিত কারণ আজ আর উল্লেখ করছি না, অন্য কোনোদিন হয়তো প্রয়োজন পড়লে করবো, কারণ বৈভবের কাছে কিভাবে দারিদ্রতা অপমানিত হয়, সেটার সূত্রপাত যে বর্তমান যুগে নয়, অনেক আগে থেকেই হয়েছে, কাহিনী সেই বস্তবিকতার আদর্শ উদাহরণ।
যাক, যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, দক্ষ রাজার আমন্ত্রণে এসে মহাদেবের(নিজের স্বামীর) অপমান সহ্য করতে পারেন নি দেবী সতী, আর সেই যজ্ঞের আগুনে আত্মাহুতি দেন।
এরপর, মহাদেবের স্ত্রীর নিথর দেহ নিয়ে শোকে ও ক্রোধে উন্মত্ত তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন, তাঁকে শান্ত করতে স্বয়ং বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে ৫১ টি খণ্ডে দেবী সতীর নিথর দেহ টুকরো করেন, আর যে যে স্থানে তার দেহের অংশ পড়ে সেই সেই স্থান এক্ একটি পিঠ নামে আখ্যায়িত।
এবার, এই যে ভীমকালি মন্দিরটি দেখতে পাচ্ছেন, এখানে দেবী সতীর বা কান পড়েছিল বলে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে।
এবার পুরান থেকে খানিক এগিয়ে আপনাদের জানিয়ে রাখি এই মন্দিরটি ২০০০ বছরের পুরোনো! কাঠ এবং পাথর দ্বারা নির্মিত এই মন্দিরটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং বলতে গেলে বিশেষ অবদান রয়েছে বুশহর রাজাদের।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখিত এই রাজ্যের রাজারা যেকোনো কাজের পূর্বে অর্থাৎ সেটা যুদ্ধ হোক কিংবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তারা ভমকালী মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে তবেই নিতেন।
মন্দিরটি থেকে শ্রীখণ্ড মহাদেব পর্বতশৃঙ্গের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়, আর যেহেতু মন্দিরটি মা দূর্গাকে উৎস্বর্গ করা ভীমকালী মন্দির, কাজেই এই স্থানে মহা সমারোহে মহা শিবরাত্রি এবং নবরাত্রি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সব মিলিয়ে বিশ্বাস এবং ইতিহাসের অনেক নিদর্শনের একটি এই ভীমকালী মন্দির, আর এই মন্দিরের ভাস্কর্য যেটি আজও অক্ষত, এবং কাঠের উপর নিখুঁত কারিগরি সেই শিল্পীদের প্রশংসার দাবিদার!
হয়তো অনেক আধুনিক সুবিধা ছিল না সেই সময়, কিন্তু উন্নত শৈল্পিক ভাবনা যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম এই মন্দির সেটার সাক্ষী ও বহন করছে।
আমার কুর্নিশ সেই সকল শিল্পীদের উদ্যেশ্যে যারা এই উন্নত সমাজের মাঝেও নিজেদের অস্তিত্বের নজির রেখে গিয়েছেন, এবং চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন সদিচ্ছা থাকলে অনেক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম সম্ভব!
আমার তো সেটাই মনে হয়েছে এই মন্দিরটির ভাস্কর্য দেখে, আর আপনাদের?
অপেক্ষায় রইলাম, আপনাদের অভিমত জানার জন্য, যদি লেখাটি পড়েন!
🎉 Congratulations! Your post has been manually curated by @upmax. Keep creating and sharing high-quality content on Steem. We look forward to seeing more of your great work !
0.00 SBD,
12.68 STEEM,
12.68 SP
Curated by:@wirngo