প্রকৃতি সৃষ্ট এক অভিশাপের নাম সুনামি (Tsunami)
নতুনবছর আসার ৩/৪দিন আগেই একটা লেখা পড়েছিলাম নাকি কোনো ডকুমেন্টারিতেই দেখেছিলাম ঠিক খেয়াল নেই তবে নিউজটা ছিল এমন যে ,
এবছর ধারণা করা হচ্ছে যে বক্সিং ডে -এর থেকেও বড়ো সুনামি হতে পারে।যারা এই নামটার সাথে পরিচিত না তাদের জন্য বলি যে, আজ থেকে প্রায় পনের বছর আগে ইন্দোনেশিয়া উপকূলের সমুদ্রের তলদেশে প্রায় ৯ মাত্রার ভুমিকম্পের ফলে ভারত মহাসাগরের উৎপন্ন হওয়া এক ভয়াবহ সুনামিতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ প্রান হারায়, আর এই দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই এই নাম রাখা হয়। সেদিন উপকূলে থাকা মানুষজন কল্পনাই করতে পারে নাই যে, প্রায় দশতলা সমান উচু হয়ে পানির ঢেউ জেট প্লেনের গতিতে তাদেরকে আঘাত করবে।
যতদূর মনে পরে এর আগে আমি নিজেও সুনামি শব্দটার সাথে পরিচিত ছিলাম না।
আমাদের বাড়িতে যে কাকা দুধ দিয়ে যেত সে এসে বলতেছিলো যে, পুকুরের পানি এসে তীরে আছড়ে পড়ছিলো আর এর মাঝে থাকা মাছ এসে পুকুরের কিনারায় এসে পরতেছিলো।
তখন তার মেয়ের জামাই বা ছেলে সেই মাছ ধরার জন্য এগিয়ে গেলে সে বাধা দিয়েছিলো এই ভেবে যে এটা হয়তোবা আল্লাহর তরফ থেকে আসা কোনো গজব।
আর তার এই ভাবনা অবশ্য এক অর্থে ঠিকই ছিলো। তবে আমাদের দেশে এই সুনামি সেদিন খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে নাই কারন ভুমিকম্পের উৎপওিস্থান থেকে বেশ দূরে আর তখন সমূদ্রে ভাটার সময় ছিলো।
এটা জোয়ারের সময় হলে উপকূল অঞ্চলগুলো বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চল ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।কারণ সেদিনের এই সুনামির শক্তি ছিল প্রায় পঁচিশ হাজার পারমাণবিক বোমার সমান।
তবে সেদিন আমাদের দেশ তেমন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হলেও ভবিষ্যতে এমন হবে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে বলবো যদি বার্মিজ প্লেটে বড়ধরণের কোনো ভূমিকম্প হয় তাহলে এধরনের ভয়ঙ্কর সুনামি হতে পারে।
কারণ এর প্রায় বাষট্টি বছর আগে এখানে একবার ভয়ংকর সুনামি হয়েছিলো। কিন্তু তখন এই এলাকায় লোকজন তেমন একটা বসবাস না করার কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছিল।
কিন্তু এর প্রভাবে হঠাৎ আসা পানিতে ঢাকাতে পাঁচ শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছিলো।
কিন্তু এই বক্সিং ডে নিয়ে লেখা পড়ার ৩/৪ দিনের মাঝেই যে নতুন বছরের প্রথম দিনই জাপানে সৃষ্ট হওয়া ভুমিকম্প ও সুনামির খবর শুনতে হবে এমনটা কখনো ভাবি নাই।
সোশ্যাল মিডিয়া ও নিউজ চ্যামেলগুলোতে ছড়িয়ে পরা বিভিন্ন ভিডিও দেখে খুবই খারাপ লাগলো আর ১৩/১৪ বছর আগে হওয়া সুনামির কথা মনে পড়লো। তখন আরও বিধ্বংসি অবস্থা হয়েছিল এই দেশটিতে। টিভিতে সেদিন সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছিলো সেই ভয়ানক দৃশ্য।
তবে সুনামি হলেই যে সবসময় বিশাল বিশাল ঢেউ হবে এমন না, কখনও কখনও এমনও হয় যে সমুদ্রের গভীরে থাকাকালীন সময়েই এর ঢেউটি নৌকার নিচ দিয়ে চলে যায় অথচ টেরই পাওয়া যায়নি।
পৃথিবীর ইতিহাসে ধরণের সুনামির ঘটনা বারবার ঘটেছে আর ভবিষ্যতেও ঘটবে।আজকে আমরা যে ইংল্যান্ড নামের দেশটি পৃথিবীর মানচিত্রে দেখতে পাই এটাও সৃষ্টি হয়েছিল সুনামিরই কারণে। প্রায় ৮ হাজার বছর আগে পানির ধাক্কায় ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো এই অংশটি। এই বিচ্ছিন্ন অংশটিই ইংল্যান্ড নামে আজকে পরিচিত বিশ্ববাসীর কাছে। শোনা যায় সেদিন পানি ৪০ মিটারেরও বেশি উঁচু হয়ে এসেছিলো ।
এরকম ঘটনা ভবিষ্যতেও আমাদের চেনা জানা পৃথিবীর ইতিহাসকে আবারো বদলে ফেলতে পারে একমূহুর্তেই ।প্রকৃতির শক্তির কাছে আমরা বড়োই অসহায়।
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
ম্যাম আমাদের দেশ কিন্তু অনেক ঝুঁকিতে রয়েছে। আমি মনে করি আল্লাহ তালার বিশেষ রহমতে আমরা এখনো ভালো আছি। অপরিকল্পিত নগর ঢাকা। ঢাকাকে ঘীরে আমাদের যত দুশ্চিন্তা। এখনো সময় আছে আমরা যদি সচেতন হই এবং সরকার যদি বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেয় তাহলে হয়ত বড় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে আমরা বাঁচতে পারবো।
ধন্যবাদ ম্যম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য। ভালো থাকবেন।
সরকার এরও তেমন কিছু করার নেই। এমনিতেই বড় ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগের সামনে পৃথিবীর মানুষের এমন কোন শক্তি নেই যে তাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কিছুটা করা যায় কিন্তু এর জন্য লাখ লাখ বাড়ি ভেঙে ফেলতে হবে। কে ভাঙতে দিবে নিজের বাড়ি।
আমরা খরচ বাচাতে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করি না যার কারনে খেসারততো দিতে হবেই
।
আর যদি এধরণের কোন ঘটনা ঘটে তাহলে শুধু ঢাকা না সারা দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।সুনামি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো তবে এথেকে ঢাকাও রেহাই পাবে না।কাউন্ট ডাওন শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখম শুধু চুড়ান্ত মূহুর্তের অপেক্ষা।
ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পড়ে। ভালো থাকবেন সবসময়।
এই সুনামিতে লাখের ওপর না দুই লাখের ওপর মানুষ প্রান হারিয়েছিলেন। আর শুধু পনের বছর আগে না মাঝে মাঝেই হয়ে থাকে। এ বছরের প্রথম দিনও সুনামি হয়েছে। সুনামি হবেই এটা কারন এটা প্রকৃতিরই নিয়ম।
এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পড়ে।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
সুনামি যে কতটা ভয়ংকর সেটা সম্পর্কে সবারই কম বেশি ধারনা আছে। আপনি তথ্যবহুল একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন যেটা থেকে অনেক অজানা বিষয় জানতে পেরেছি। ধন্যবাদ আপনাকে।।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনাক এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।।
পনের বছর আগের সেই মর্মান্তিক সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর কবলে আমরাও পড়েছিলাম ।দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় অনেক অঞ্জলি পানিতে প্লাবিত হয়েছিল ।সুন্দরবন, পটুয়াখালী ,বরগুনা বিভিন্ন জেলা পানিতে প্লাবিত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। শেষ স্মৃতি মনে পড়লে আজও শিউরে উঠি। সেকেন্ডের ভিতরে বিশাল পানির স্রোত এসে পড়ল। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি এমন দুর্যোগের যেন আর কখনো সম্মুখীন হতে না হয় ।
সেসময় ঢাকায় অবশ্য তেমন ভয়াবহ কিছু হয় নাই তবে পুকুর কিংবা নদীর পানিতে প্রভাব পরছিল।আমাদের বাড়ির কুয়ার পানি বেড়ে গিয়েছিলো।
এত চমৎকার করে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
শুভকামনা রইলো আপনারা জন্য
সুনামি কথাটা শুনতেই বুকের ভেতর ধুক ধুক করে কেঁপে ওঠে। আসলে যদি এরকম একটা ঘটনার বাংলাদেশে ঘটে। তাহলে হয়তোবা বাংলাদেশের মানুষকে খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে যাবে।
ইতিহাসের মানচিত্রে ইংল্যান্ড নামক দেশ এই সুনামের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। যেটা আপনার পোস্ট পরিদর্শন করার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আসলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য ভবিষ্যতে কি রেখেছে। সেটা একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি যা করবেন তাই হবে। ধন্যবাদ আপনাকে সুনামী নিয়ে এত ভয়ংকর বিষয়টা আমাদেরকে অবগত করার জন্য। ভালো থাকবেন।
বাংলাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব একটা উচু না যার কারনে বড় ধরনের সুনামি হলে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত পুরো বাংলাদেশই।
একমাত্র আল্লাহই বাচাতে পারেন আমাদের।তবে প্রকৃতির নিয়মনুসারে সুনামি হবে এটাই স্বাভাবিক।
আমার পোস্ট পড়ে এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
সুনামি নামটির সাথে প্রথম পরিচয় হয় খুব ছোটবেলাম। তখন বিটিভিতে দেখেছিলাম শ্রীলঙ্কার ভয়ংকর অবস্থা। যদিও এর কিছুটা রেশ বাংলাদেশেও এসে পড়েছিলো তবে এদেশের তেমন একটা ক্ষতি হয় নি। তবে এটা সত্য পুকুরের পানি অসাভাবিক আচরণ করছিল এই দিনে। এটা অনেকেই দেখেছে। প্রকৃতি মাঝে মাঝে তার বিরূপ আচরণ করে তখন আমরা দেখতে পাই তার ভয়ংকর রূপ। ধন্যবাদ সুন্দর তথ্যবহুল পোস্টের জন্যে।
ঠিকই বলেছেন যে, প্রকৃতি মাঝে মাঝে তার বিরুপ আচরণ করে তখন আমরা তার ভয়ংকর চেহারা দেখতে পাই। ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য পড়ে।
এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
শুভকামনা রইলো আপনারা জন্য।
সুনামিতে আমার ছোট পিসির ভাসুরের স্ত্রী ভেসে গিয়েছিলেন। ওনাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছোট পিসির ভাসুর ওই সময় আন্দামানে চাকরি করতেন। এরপর উনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন। তবে তারপর উনি আর বেশি দিন বাঁচেননি।
আহারে!জেনে কস্ট লাগলো।আন্দামানের ওইদিকেতো বোধহয় অনেকেই ভেসে গিয়েছিল সেদিন।মানুষের ভাগ্যে যে কখন কি ঘটবে কেউ জানে না।
আপনার ছোট পিসির ভাসুর যে কতটা কস্ট পেয়েছিলেন সেটা বোঝাই যাচ্ছে।
এমন ঘটনা যদিও ভবিষ্যতে ঘটবে এটাই স্বাভাবিক তারপরও প্রার্থনা করি আর না ঘটুক।
পরিমাণের কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ গুন হচ্ছে। এখনই সময় আমাদের সচেতন হওয়ার। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু সুনামির জন্য বাতাসের কার্বনডাইঅক্সাইড তেমন একটা দায়ী না।এর জন্য দায়ী মূলত আমাদের মাটির নিচের টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়া।এতে মানুষ এর কিছু করার নেই।
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
আপনাকে।
প্রকৃতির অভিশাপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সুনামি। এছাড়াও টর্নেডো ভূমিকম্প অনেকগুলোই আছে তার মধ্যে সবথেকে বেশি এই অভিশাপ হলো সুনামি। এই শোনাবে আমাদের পুরো পৃথিবীকে লন্ড ভন্ড করে দিতে পারে। কিন্তু আমাদের এই মানবজাতির কিছুই করার নেই শুধু একমাত্র প্রার্থনা ছাড়া। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোষ্ট শেয়ার করার জন্য।
এত চমৎকার করে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইল আপনার জন্য।