"আজকের কিছু সুন্দর মুহূর্ত"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আজ মালদায় ভালো রকম গরম অনুভব করলাম। একেবারে প্রথম যেবার আমি আর শুভ এসেছিলাম, সেবারও ভীষণ গরম পরেছিলো। তবে এবার আসার পরের দিন অনেক বৃষ্টি হয়েছিলো। কিন্তু আজ আবার অনেক বেশি গরম পরেছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি ফ্রেশ হয়ে কমিউনিটির একটু কাজ সেরে নিলাম। তারপর আমি একটু চা খেলাম। আজকে অবশ্য আমাকে আমার বৌদি চা করে দিয়েছিলো। আজকে সকালের খাবারে সকালের জন্য রুটি তৈরি করা হয়েছিলো। আমি অবশ্য রুটি খাইনি, গতকালকের মতোই চায়ের সাথে বিস্কুট খেয়ে নিয়েছিলাম।
গতকাল শনিবার ছিলো, তাই দাদাদের বাড়িতে সকল রান্নাই নিরামিষ হয়েছিলো। কারণ দাদারা সকলেই এইদিন নিরামিষ খায়। তবে আজকে বাড়িতে রান্নার আয়োজন বেশ ভালোই ছিলো পোলাও, চিকেন কষা, পাঙ্গাস মাছ,। তবে রান্নার ছবিগুলো আর তোলার সুযোগ পাইনি, কারণ ততক্ষণে আমরা বাইরের দিকে একটু ঘুরছিলাম।
|
|---|
দাদা একজনকে তাল এনে দিতে বলেছিলো। আমার ননদ, মাসি শাশুড়ি, সকলেই তালের শাঁস খেতে ভালোবাসে। তাই বাইরে বসে ওনরা সকলে তালের শাঁস খাচ্ছিলো, আমি সেখানেই বসে গল্প করছিলাম। তার সাথে কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে ননদর হাজব্যান্ডকে পাঠিয়েছিলাম।
|
|---|
মালদার বাজারে পাঁকা আম তেমন পাওয়া না গেলেও, দাদা গত দুদিন ধরে কাঁচা মিঠা আম নিয়ে আসছে। আমরাও সকলে মিলে বেশ মজা করেই সেই আম খাচ্ছি। আম গুলো খেতে দারুন লেগেছে।
দাদাদের বাড়ির পাশের ফাঁকা মাঠে বর্তমানে ভুট্টা মাড়াই করছে। যে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করা হয়, তার যা আওয়াজ তাতে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ না করলে উপায় নেই। তারসাথে ধুলোও ঢোকে প্রচুর।
|
|---|
আমরা একটু জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করছিলাম। ওনাদের কাছে দুই একবার জিজ্ঞাসা করতেই, ওনাদের মধ্যে থেকে একজন এসে আমাদেরকে তিনটা ভুট্টা দিয়ে গেলেন। গ্রামের দিকে এখনও মানুষের ব্যবহার এতটা ভালো আছে দেখে, মাঝেমধ্যে বেশ ভালো লাগে।
দাদাদের বাড়ির ব্যালকনি থেকে যে পুকুরটা দেখা যায়, সেখান থেকে মাসি শাশুড়ি অনেক গুলো কচুরিপানার ফুল নিয়ে এসেছিলেন। এই ফুলের বড়াও নাকি খাওয়া যায়, যদিও এর আগে আমি কখনো খাইনি।
|
|---|
কিন্তু আজকে যখন দুপুরবেলায় মাসি শাশুড়ি এগুলো ভাজলো, সকলেই বসে একসাথে মজা করে খেলাম। সত্যিই বেশ ভালো লাগছিলো। বোঝাই যাচ্ছিলো না যে এগুলো কচুরিপানা ফুলের বড়া। আপনাদের মধ্যে কেউ এর আগে খেয়েছেন কিনা সেটা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে জানাবেন।
বিকেলের দিকে সকলে মিলে একটু মার্কেটে গিয়েছিলাম। কারণ আমার বৌদি ননদের সঙ্গে ছেলের জন্য কিছু কিনবে। আবার ননদও দাদার ছেলেকে কিছু কিনে দেবে। শপিং মলের পাশেই ছোট্ট একটা মেলা বসেছিলো, তাই আমরা সকলে মিলে মল থেকে বেরিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম।
|
|---|
তবে গরমের মধ্যে এতো অস্বস্তি হচ্ছিলো যে, একটু ঘুরেই আমরা আমরা বাড়িতে চলে এসেছি। সেখান থেকে টুকটাক জিনিসটা নেওয়া হয়েছে। মূলত আমার শাশুড়ি মা বৌদির জন্য সংসারের বেশ কয়েকটা জিনিস এনেছেন। আসলে দাদার বিয়ের অনেক আগেই আমার জ্যেঠিমা মারা গেছেন, তাই বৌদি সংসারটা নিজের মতন করে গুছিয়েছে।
সেখানে শাশুড়ি মায়ের থেকে সাংসারিক অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। তাই কিছু কিছু জিনিস আমার শাশুড়ি মায়ের থেকে শিখে নিচ্ছে।
|
|---|
সেখান থেকে বাড়ি ফিরতে আমাদের রাতটা দশটা বেজে গেলো। বাড়িতে ফেরার সাথে একসাথে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। আমার অ্যান্টিবায়োটিক এর কোর্স শেষ হওয়ার আজ শেষ দিন। তাই আগে এসেই ওষুধ খেলাম।
তারপর সকলেই রাতের খাওয়া সেরে নিয়ে এখন গল্পের আসর বসেছ। আগামী পরশু দিন আমরা আবার ফিরে যাবো। এই মুহূর্ত গুলো আর ফিরে পাওয়া হবে কিনা জানি না। তাই মুহূর্ত গুলো একটু উপভোগ করার মাঝে লেখাটাও সম্পন্ন করলাম।
শুভরাত্রি সকলকে।