"আমার মামী-র শারীরিক অবস্থার অবনতি"
|
|---|
Hello,
Everyone,
সন্ধ্যার একটু পরেই বোনের সাথে কথা হলো। দুদিন আগে ফোন করে জেনেছিলাম, মামি সুগারের জন্য ডাক্তার দেখাতে যাবে।
মাঝখানে অনেকগুলো টেস্ট হয়েছে, যে টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে জানা গেলো সুগারের মাত্রা এতটাই বেশি যে, এই মুহূর্তে অপারেশন করা সম্ভব নয়। তাই ঐ ডাক্তার ওনাকে সুগারের জন্য অন্য একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলেছেন। সেই ডাক্তার দেখাতে যাওয়ারই কথা ছিলো গতকাল।
ডাক্তার কি বললো এটা জানার জন্যই মূলত ফোন করলাম আজ। জানলাম মামীর শরীর খুবই খারাপ। ডাক্তার প্রতিদিন রাতে ইনসুলিন নিতে বলেছে। গতকাল রাতে ইনসুলিন দেওয়ার পর থেকেই শরীর আরও বেশি দুর্বল লাগছে।
সুগার এখন অনেকটাই বেশি আছে, তাই ইনসুলিন ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তবে সমস্যা একটাই, মানসিক চিন্তা না কমলে সুগার কমার সম্ভাবনা খুবই কম। ওষুধের পাশাপাশি ইনসুলিন চলছে, এতেই বোধহয় মানসিকভাবে আরও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছে মামী।
গলব্লাডারের স্টোনের অপারেশন করাটা এই মুহূর্তে জরুরী, কারণ পেটে ব্যথাটাও মামীকে সহ্য করতে হচ্ছে। কিন্তু সুগারের যা অবস্থা তাতে কোনো ডাক্তারই এই মুহূর্তে মামিকে অপারেশন করবে না। তাই মামির সাথে কথা বলে সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করলাম।
খাওয়া দাওয়া যে একেবারেই অনিয়ম হয় না এমনটা নয়, বিশেষত সকালের দিকে মামী অনেকটা দেরিতে ব্রেকফাস্ট করে, যেটা মামীর জন্য একেবারেই ঠিক নয়, সে কথাই আজ বারবার বুঝিয়ে বললাম।
দিদির সাথে যখন কথা হয়েছে, দিদিও একই কথা বলেছে মামিকে। অল্প অল্প করে হলেও বারবার খেতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ আর সঠিক পরিমাণে ইনসুলিন নিলে আশা করা যায় সুগারের লেভেল কিছুটা হলেও কমবে। কুড়ি দিন বাদে আবার টেস্ট করে ডাক্তার দেখাতে যেতে হবে। যদি সুগার একটুও কমে তাহলে হয়তো ইনসুলিনের ডোজ কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।
|
|---|
বেশ কিছুক্ষণ কথা বললাম। ফোনটা রাখার পর থেকে মনটাও খারাপ লাগছে। তবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি দু একদিনের মধ্যেই মামীকে দেখতে যাবো। আসলে কখনো কখনো নিজের মনের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে ভালোবাসার মানুষদের জন্য কিছু কাজ করতেই হয়।
আজকাল বাড়ি থেকে খুব বেশি না বেরোনোর ফলে আর যেন বেরোতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু আজ মামীর সাথে কথা বলে শরীর অনেকটাই খারাপ মনে হলো, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি মামীকে দেখে আসবো।
যদিও সে কথা মামিকে এখনো বলিনি। আসলে মামী এমন একজন মানুষ, যদি বলি আমি আসবো তাহলে মামাকে আমার পছন্দের বাজার করতে বলবে। তারপর নিজেই রান্না করবে আমার জন্য। কারণ উনি জানে আমি কি কি জিনিস খেতে ভালোবাসি।
আর এটা শুধু এখন না যখনই মামীকে বলি আমি আসছি, তখনই মামি আমার পছন্দের জিনিসই রান্না করে। তবে এই মুহূর্তে শরীরটা যে খারাপ সেটা আমি জানি। আবার এটাও জানি আমি যদি বারণ করি উনি আমার কথা শুনবে না। তাই ওই বাড়িতে পৌঁছেই ওনাকে এই সমস্ত রান্না করা থেকে আটকাতে হবে।
মায়েদের মন মনে হয় এরকমই হয়। নিজের হাজার শরীর খারাপ উপেক্ষা করে সন্তানের জন্য সবথেকে ভালো কিছু করার চেষ্টা সব মায়েরাই করে। আর আমার মায়ের চলে যাওয়ার পর থেকে এই দায়িত্বটা কিভাবে যেন মামী নিয়ে নিয়েছে।
যখন আমি ওখানে থাকি, নিজের মেয়ে অর্থাৎ আমার বোনের পছন্দের থেকেও আমার পছন্দের রান্না করে মামী। এই বিষয়টা ভাবতেই অনেক বেশি ভালো লাগে। তবে এই মানুষগুলোর এরকম শারীরিক কষ্টের কথা শুনলে মনটা খারাপ হয় ভীষণ।
এমনই সমস্যা ওনার কাছে গিয়ে দিন কয়েক থেকে আসবো, সেটাও আর হয়ে ওঠেনা। মাঝেমধ্যে মনে হয় মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই বোধহয় সব থেকে বড় অপরাধ। নিজেদের ইচ্ছা মতন যেখানে খুশি যাওয়া, বা যাদের কাছে থাকলে খুশি থাকি, ইচ্ছামতো তাদের কাছে গিয়ে থাকার কোনো উপায় থাকে না মেয়েদের।
যাইহোক ভেবেছিলাম আজ আর পোস্ট লেখা হবে না, কিন্তু ভাবলাম অন্তত মামীর শারীরিক অবস্থার কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। কারণ এর আগের একটা পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম মামীর অসুস্থতার কথা।
আপনারা সকলে একটু প্রার্থনা করবেন, যাতে মামির ইনসুলিন নেওয়ার পর সুগারের লেভেল কম থাকে। কারণ অপারেশন যত দ্রুত হবে তত ভালো। অন্ততপক্ষে একটা কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে।
সবথেকে অবাক করার বিষয় হলো, এতো শরীর খারাপ থাকা সত্বেও যখন ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম,- "কেমন আছো?"
উত্তরে এক গাল হেসে বলল,- "ভালোই আছি মা, চিন্তা করো না। মাঝেমধ্যে একটু পেট ব্যথা হয়, তবে খুব একটা বেশি নয়।"
এটাই বোধহয় মায়েদের অভ্যাস। প্রচন্ড ব্যথাকেও অল্প ব্যথা বলে ভাবতে পারে শুধু মায়েরাই। না হলে সন্তান জন্ম দেওয়ার মতন ব্যথা সহ্য করার পরেও স্বাভাবিক থাকা, মা ছাড়া অন্য কারোর পক্ষে সম্ভব না।
যাইহোক পৃথিবীর সকল মায়েরা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, সন্তানদের সাথে আনন্দে থাকুক, এইটুকুই প্রার্থনা।
ভালো থাকবেন প্রত্যেকে শুভ রাত্রি।