"হঠাৎ করেই অপ্রত্যাশিত খবরে মনটা খারাপ হলো"

in Incredible India5 hours ago (edited)
IMG_20260715_235541.jpg

Hello,

Everyone,

সকালের দিকে সমস্ত কাজকর্ম শেষ করে কমিউনিটির কিছু কাজ নিয়ে বসেছি মাত্র। আসলে কমিউনিটিতে চলমান একটি কন্টেস্ট শেষ হয়েছে, সেই কনটেস্টে অংশগ্রহণকারী সকল ইউজারের ডিটেইলস বের করে, মেইলের মাধ্যমে অ্যাডমিন ম্যামকে পাঠানোর দায়িত্ব থাকে আমার।

তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই কাজটা সম্পন্ন করার বরাবর চেষ্টা করি আমি। আজও তেমনই কাজের ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। দেখলাম শুভর মামা অর্থাৎ আমার মামা শশুর ফোন করেছেন। বেশিরভাগ সময় আমার শাশুড়ি মায়ের ফোনেই ফোন করেন ওনরা।

ভালো-মন্দ খবরা-খবর সেই বিষয়ে সব সময় শাশুড়ি মায়ের সাথেই তাদের কথা হয়। আমার ফোনে খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া তাদের ফোন আসে না। আবার অনেক সময় শাশুড়ি মা ওই বাড়িতে থাকলে, তখন আমার এবং শুভর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ফোন করে।

তবে আজ তেমন কোনো বিষয় ছিলো না যেহেতু শাশুড়ি মা বাড়িতেই ছিলো। তবুও অতো কিছু না ভেবে ফোনটা রিসিভ করলাম। যদিও প্রথমে বুঝতে পারিনি এমন একটা দুঃসংবাদ দেওয়ার জন্য উনি ফোন করতে পারেন। কারণ আমাদের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যেগুলোর জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি না।

যেহেতু সদ্য শ্বশুরমশাই মারা গেছেন, তাই এই দুঃসংবাদটি সরাসরি শাশুড়ি মায়ের কাছে দেবেন না বলেই আমার ফোনে ফোন করেছেন। শুভ চার জন মামা। তার মধ্যে মেজো মামির গতকাল রাতে ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে।

রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ প্রথমে ওনরা কল্যাণীর একটা হসপিটালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে সিটি স্ক্যান করার মেশিন খারাপ আছে কয়েকদিন ধরেই, তাই এমন সিরিয়াস পেসেন্ট সেখানে রাখছেন না। ওখান থেকে দেখা মাত্রই রেফার করে দিয়েছে। তাই অন্য কোথাও না নিয়ে ওই রাতে সোজা এম্বুলেন্স করে মামীকে আমাদের বাড়ির কাছাকাছি বারাসাতের নারায়ণ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।

বর্তমানে সেখানকার আইসিইউতে ভর্তি। মানে অবস্থা খুব একটা ভালো এমনটা নয়। সারারাত ওখানেই মামারা ছিলো। তবে রাতের বেলায় আর সেই সংবাদ জানায় নি। দুই মামা মিলে নিয়ে এসেছিলো।

তাদের মধ্যে সেজো মামা সকাল আটটা নাগাদ বাড়িতে ফিরে গিয়ে পরে আমাদেরকে ফোন করেছিলো। আর মামির সাথে সারারাত হসপিটালে শুভর মেজ মামা ছিলো।

IMG_20260715_235600.jpg

সংবাদটা শুনে স্বভাবতই মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কারণ মামীর একটা মেয়ে বড়। তবে যমজ দুটি সন্তান (একটা ছেলে ও একটা মেয়ের) এর মাত্র ৯ বছর বয়স। হিসেব মতো মামীর বয়সও খুব একটা বেশি নয়। এই বয়সে ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে জেনে একটু অবাক হলাম বটে।

তবে সত্যি কথা বলতে আজকালকার দিনে অসুখের আর কোনো বয়স হয় না। আর মৃত্যুরও নির্দিষ্ট কোনো সময় থাকে না। আরও বেশি অবাক হলাম এটা জেনে যে, মামীর নিজের বাবা-মা দুজনেই এই ব্রেন স্ট্রোক করে মারা গিয়েছেন। সুতরাং এই কথাটা শুনে যেন মনটা আরও বেশি খারাপ হলো।

বিপদের সময় মনে ভালো চিন্তা ভাবনা কম আসে।বরং খারাপ চিন্তা ভাবনায় বেশি আসে। বাচ্চা তিনটে বাড়িতেই রয়েছে, মামীকে নিয়ে মামা হসপিটালে আছে। ডাক্তারেরা বলছেন ওষুধের মাধ্যমে ব্রেনের যে ব্লাড গুলো জমেছে সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু যদি সেটা না হয়, তাহলে অপারেশন করতে হতে পারে।

খবরটা শোনার পর থেকে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মামাকে ফোন করে জানলাম দুপুর দুটোর সময় ডাক্তার ভিজিট করবেন। তাই মামাকে বলেছিলাম যাতে আমাদের বাড়িতে এসে স্নান করে, একটু খাওয়া দাওয়া করে তারপর যায়।

তবে মামা রাজি হলো না। হয়তো মামীকে ছেড়েও সেখান থেকে আসতে চায়নি। হঠাৎ কোনো প্রয়োজনে যদি বাড়ির কাউকে লাগে, তাহলে সমস্যা হয়ে যাবে। যেহেতু মামা একাই হসপিটালে ছিলো।

মামীর কন্ডিশন সম্পর্কে মামার কাছে জানতে চাইলে মামা শুধু এতটুকুই বললো, - মামি কথা বলার চেষ্টা করছে, কিন্তু কথাগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। ডান হাত ও ডান পা ভালোভাবে নাড়াচ্ছে, তবে বাঁ দিকের মুভমেন্ট বেশ কম। সত্যি কথা বলতে আমি যখন এই ধরনের কোনো কথা শুনি, তখন আমার জামাইবাবুর অবস্থাটা আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

IMG_20260715_235507.jpg

যেহেতু দাদার এই লড়াইটা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, তাই এর কঠিনতা, অসহায়ত্ব, দুশ্চিন্তা কতখানি গভীর সেটা যেন আরও একবার উপলব্ধি করি। এখন দাঁড়িয়ে যখন আমি আমার জামাইবাবুর সুস্থতার সময় সম্পর্কে ভাবি, তখন একটাই কথা মাথায় আসে, কিভাবে কেটেছিলো ওই দিনগুলো, তা বোধহয় কাউকে বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

কিন্তু ভীষণ ধৈর্য্য সহকারে আমার দিদির প্রতিটা দিন পার করেছে এবং আমার জামাইবাবুকে আজকের অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে, তা আসলেই বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র সামনে থেকে দেখলেই তা বোঝা সম্ভব।

সন্ধ্যা বেলা থেকেও বেশ কয়েকবার ফোনের মাধ্যমে খবর নেওয়া হলো। তবে আজকে আর কেউ হসপিটালে যেতে পারিনি। ভিজিটিং আওয়ার বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত। তবে আইসিইতে যে কন্ডিশনে রয়েছে, তাতে সবাইকে যে দেখতে দেবে এমনটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

কিছুক্ষণ আগেও শাশুড়ি মা ফোন করে খবর নিলো। অবস্থা সেই আগের মতনই। এখনও ওষুধ চলছে। আগামীকাল ডাক্তার সিটিস্ক্যান করতে বলেছেন, তার রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ট্রিটমেন্ট এর কথা ভাবা হবে।

এই সময় দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আমাদের করণীয় কিছুই নেই। একমাত্র ঈশ্বর এবং ডাক্তারের প্রচেষ্টায় হয়তো অবস্থা পরিবর্তন হতে পারে। তবে যেহেতু এখনও মামীর ছেলে মেয়ে দুজনেই ছোটো, তাই ঈশ্বর যেন ওনাকে সুস্থ করে তোলেন এইটুকু প্রার্থনা করি।

সারাদিন মোটামুটি আজ এই বিষয়ে কথার মধ্যে দিয়ে পার হয়েছে। কখনো কখনো মামা বাড়ি থেকে ফোন এসেছে, কখনো আমরা ফোন করেছি, আবার কখনো ননদ ফোন করে খবর নিয়েছে।

সত্যিই মাঝে মাঝে এই রকম সংবাদ পেলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। জীবনের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে আরও একবার সচেতন হই। জানিনা আগামী দিনে আমাদের জন্যেও কি মুহূর্ত অপেক্ষা করছে।

যাইহোক সকলের সুস্থতার প্রার্থনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে। শুভ রাত্রি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.100
BTC 64759.21
ETH 1919.99
USDT 1.00
SBD 0.39