"শ্যামা মায়ের মহা যজ্ঞের বিশেষ মুহূর্ত"
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন, আর আপনাদের প্রত্যেকের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে। আমার শরীর এখনও পুরোপুরি ঠিক হয়নি, এমন ভাবে চলতে থাকলে ওষুধ খাওয়া শুরু করতেই হবে।
যাইহোক দিদির বাড়িতে মায়ের আরাধনার পোস্ট আপনাদের সাথে এর আগে শেয়ার করেছি, যেখানে মায়ের বরণ থেকে শুরু করে আরতী পর্যন্ত কাটানো মুহূর্তগুলো শেয়ার করেছিলাম। আজকের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করব মায়ের হোম যজ্ঞের মুহূর্তের কথা।
যেকোনো উৎসব বা অনুষ্ঠান আসার আগে আমাদের অনেক পরিকল্পনা থাকে, মনের ভিতরে এক অন্য রকমের উৎসাহ কাজ করে। দিদির বাড়িতে পুজোর ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমনই হয়েছিলো। তবে দেখতে দেখতে দিনটা যেমন চলে এসেছিলো, ঠিক তেমনই পুজোর প্রতিটা মুহূর্ত যেন দ্রুতই অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছিলো।
বরণের মুহূর্তগুলো পার হওয়ার পর পুরোহিত মশাই আমাদেরকে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য ঠাকুরের সামনে বসতে বললেন এবং আমরা যারা উপোস করেছিলাম তারা একত্রে বসে মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে শ্যামা মায়ের নামে অঞ্জলি দিলাম। অঞ্জলি শেষ হওয়ার পরেই পুরোহিত মশাই যজ্ঞের আয়োজন শুরু করলেন।
শুরুতেই তিনি একটি নতুন গামছা নিজের মাথায় বেঁধে নিলেন, যজ্ঞ করার জন্য এটা করার নিয়ম রয়েছে। গ্রামের বাড়িতে যদিও মাটিতেই যজ্ঞ করা হয়, কিন্তু ফ্ল্যাটে তা সম্ভব নয় বলে আলাদা করে যজ্ঞের কুন্ড ভাড়া পাওয়া যায়। তেমনই একটি যজ্ঞ কুন্ড ভাড়া করে আনা হয়েছিলো। আর দিদি যজ্ঞের জন্য আলাদা করে বালি ধুয়ে শুকিয়ে রেখেছিলো।
পুরোহিত মশাই চাইতেই দিদি সেই প্লাস্টিকটি নিয়ে এসেছিলো এবং আরও একটা প্লাস্টিকের মধ্যে বেলকাঠ রাখা ছিলো। যজ্ঞ করার জন্য পাটকাঠির প্রয়োজন ছিলো, যেগুলো দিদির শ্বশুরবাড়ি থেকে ওর ভাসুর সুন্দর করে কেটে গুছিয়ে নিয়ে এসেছিলো। মোটামুটি সমস্ত কিছু পুরোহিত মশাইয়ের কাছে দেওয়ার পর, তিনি সমস্তটা গুছিয়ে নিয়ে যজ্ঞের আয়োজন শুরু করলেন।
প্রথমে যজ্ঞকুন্ডর মধ্যে বালি গুলোকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে একটা পাটকাঠির সাহায্যে তিনি কিছু আঁকিবুকি করলেন, যেটা হয়তো কিছু নিয়ম মেনেই করতে হয়। এরপর বেল কাঠগুলোকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিলেন। এই কাঠগুলো সাজানোরও একটা সুন্দর নিয়ম ছিলো। তারপর কিছুটা কর্পূর গুঁড়ো কাঠের মধ্যে ছড়িয়ে দিলেন। এরপর কয়েকটা পাটকাঠি এক জায়গায় করে মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে কাঠের মধ্যে আগুন জ্বালালেন।
এরপর ধীরে ধীরে আরও কিছু কাঠ এক এক করে দিতে থাকলেন যজ্ঞের আগুনে। তার সাথে বেল পাতা ও জগ ডুমুর গাছের পাতা ঘি এর মধ্যে ডুবিয়ে যজ্ঞের মধ্যে দিলেন। এই পাতাগুলো ছাড়া নাকি যজ্ঞ সম্পন্ন হয় না। যখন যজ্ঞ শুরু হলো আমি যজ্ঞ কুন্ডের বেশ কাছাকাছি বসেছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন আগুনের তাপ বাড়তে শুরু করলো, তখন একটু পিছিয়ে বসতেই হলো।
তবে পুরোহিত মশাই নিজের জায়গাতে বসেই সম্পূর্ণ যজ্ঞ সম্পন্ন করেছেন। শীতকালেই এতোটা গরম লাগছিলো, তাহলে গরমকালে কতখানি গরম লাগবে সেটাই ভাবছিলাম। তবে ঈশ্বরের কৃপা থাকলে সবটাই সম্ভব। যে কারণে হয়তো এতো নিষ্ঠা ভরে পূজা করার পর পুরোহিত মশাইরা সামনে বসেই এতো সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ যজ্ঞ শেষ করতে পারেন।
যজ্ঞ প্রায় শেষের দিকে চলে আসলে, পুরোহিত মশাই তার মধ্যে একটা কাঁঠালি কলা দিয়ে দিলেন। তারপর দিদি ও দাদাকে একত্রে ডেকে পুরোহিত পুরোহিত মশাই নিজেকে স্পর্শ করে রাখতে বললেন, আর সেই মুহূর্তে তিনি কিছু মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে যজ্ঞ সমাপ্ত করলেন।
সবশেষে তিনি গঙ্গার জল দিয়ে যজ্ঞের আগুন নিভিয়ে দিলেন। আর সেই যজ্ঞের পোড়া কাঠের টুকরো থেকে কিছুটা কালি তুলে, সেটা ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে, তাই দিয়ে আমাদের সকলের কপালে টিপ পড়িয়ে দিলেন।
এরপর তিনি আমাদের সকলকে পা ঢেকে নিচে বসতে বললেন, যাতে তিনি শান্তির জল দিতে পারেন। আমাদের মাথায় দেওয়ার তিনি দিদিদের প্রত্যেক ঘরেও ছড়িয়ে দিতে বলেছিলেন। এইভাবে যজ্ঞ অনুষ্ঠান শেষ হয়েছিলো।
এর পরবর্তীতে মায়ের বিসর্জনের বেশ কিছু নিয়ম করা হয়েছিলো। তারপর মাকে বরণ করে আমরা বিদায় জানিয়েছিলাম এবং ভোর রাতেই রওনা হয়েছিলাম বিসর্জনের উদ্দেশ্যে। সেই বিষয়ে আমি আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে বাকিটা শেয়ার করবো। তবে যজ্ঞ করার পর মনটা এক অদ্ভুত তৃপ্তিতে ভরে গিয়েছিলো, এক অদ্ভুত শান্তি পেয়েছিলাম।
সবথেকে যেটা ভালো লেগেছিল সেটা হচ্ছে পুরোহিত মশাইয়ের মন্ত্র উচ্চারণ। প্রতিটা মন্ত্র এতো সুন্দরভাবে তিনি উচ্চারণ করছিলেন যে, তা বুঝতে এতটুকুও অসুবিধা হয়নি। তাই সকলে মিলে মন দিয়ে যজ্ঞ দেখতে দেখতে কখন যে যজ্ঞ শেষ হলো তা উপলব্ধি করতে পারিনি।
যাইহোক শ্যামা মায়ের কৃপা সকলের উপরে থাকুক, এই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি ভালো থাকবেন আপনারা সকলে। শুভ রাত্রি।