"ছোটবেলায় কাটানো রথের দিনগুলোর আনন্দ, আজ শুধু স্মৃতির পাতায় বন্দি হয়ে আছে"
|
|---|
Hello,
Everyone,
বয়স যত বাড়ে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো যেন তত বেশি আঁকড়ে ধরে আমাদের। যে দিনগুলো ছোটবেলায় অনেক বেশি রাগ, অভিমান ও অসন্তষ্টির জন্ম দিতো, সেই দিনগুলোই যেন বয়সের সাথে সাথে মধুর স্মৃতি হয়ে ওঠে।
আজ শুভ রথযাত্রা। তাই সকলকে প্রথমেই রথ যাত্রার অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আশাকরি আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
আজ দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করার পর বিশ্রামের জন্য বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে ছিলাম। তখন মালদা থেকে আমার বৌদি ফোন করাতে আর ঘুম হয়নি। আসলে আমার দাদার ছেলেকে নিয়ে বৌদি ওদের বাড়ির পাশেরই একটা মন্দিরে গিয়েছিলো, যেখান থেকে প্রতিবছর রথ বের হয়।
বছরের এই একটা দিনেই রথের দড়ি টানার সুযোগ হয়। আর এই কারণেই হয়তো আমরা কেউই সেটা মিস করতে চাই না। বিশেষ করে আজকাল এই ভাবনাটাই বেশি মনে আসে যে, এই বছর সুযোগ আছে হয়তো সামনের বছর এই সুযোগটা আমার কাছে নাও থাকতে পারে। কারণ আজকাল মানুষের জীবনের কোনো বিশ্বাস নেই।
যাইহোক বৌদির সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম। ভিডিও কলের মাধ্যমে অনেকটা দূর থেকে রথ দেখাচ্ছিলো, তাই অতোটাও ভালোভাবে রথের মধ্যে রাখা দেবদেবী অর্থাৎ জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তিগুলো দেখা যাচ্ছিলো না। বৌদি ফোন রাখার একটু বাদেই দূর থেকে ভেসে আসা মাইকের আওয়াজ পেলাম। বুঝলাম আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তা দিয়েও রথ যাবে।
|
|---|
আমাদের বাড়িটা একটু গলির ভিতরে। তাই গলির সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ভালোভাবে রথ দেখা যায়। কিন্তু আমি কোনো বছরে আর সামনে গিয়ে দাঁড়াই না। শাশুড়ি মা প্রতিবার গিয়ে বাড়ির সামনে থেকেই একটু দূর পর্যন্ত রথের দড়ি ধরে আসে।
কিন্তু এবছর আর তিনি যাননি। কিছুদিন আগেই শ্বশুর মশাই মারা গেছেন, এখনও অশৌচ রয়েছে। তাই এই বছর আদেও এই দড়ি টানা উচিত কিনা আমরা কেউই জানিনা।
যাইহোক গত বছর বান্ধবীদের সাথে আমাদের গ্রামের ওখানে রথ দেখতে গিয়েছিলাম। যার অভিজ্ঞতাও আপনাদের শেয়ার করেছিলাম। কিন্তু এ বছর আর যাওয়া হলো না। যদিও রাখী অনেকবারই বলছিলো। রথের দড়ি না ধরি, অন্তত যেন যাই। তবে কেমন যেন ইচ্ছে হলো না এবছর। হয়তো দড়ি ধরতে পারবো না, এই ভাবনা থেকেই আর যেতে ইচ্ছে করেনি।
যাইহোক মাইকের আওয়াজ ধীরে ধীরে বেশি শোনা যাচ্ছিলো, বুঝলাম রথ হয়তো প্রায় সামনা সামনি চলে এসেছে। তাই তাড়াহুড়ো করে উঠে ছাদে গিয়ে দাঁড়ালাম। কিন্তু গলির ফাঁক দিয়ে ছাদ থেকে আর কতটুকুই বা দেখা যায়। তবুও যতটুকু দেখা যায় ততটুকুই উপরি পাওনা।
|
|---|
ছাদে দাঁড়িয়ে দেখলাম বহু মানুষের সমাগম হয়েছিলো এবার। বৃষ্টি হয়নি বলেই হয়তো মানুষের এমন ভিড় ছিলো এবছর। রথের সাথে কতো বাচ্চারা সুন্দর নাচ করতে করতে যাচ্ছিলো। আরও ভালো লাগছিল যখন মাইকের সাথে সাথে সকলে মিলিত কন্ঠে হরে কৃষ্ণ নাম গাইছিলো।
ছোটো ছোটো বাচ্চাগুলোকে দেখে নিজের ছেলেবেলার দিনগুলো মনে পড়ে গেলো। ছোটবেলায় মায়ের কাছে খুব বায়না করতাম রথের মেলায় যাওয়ার জন্য। তবে তখন আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অতটাও গভীর জ্ঞান ছিলো না।
তাই বুঝতে পারতাম না যে আদেও মায়ের কাছে টাকা আছে কিনা। তাই যখন মা নিয়ে যেতে চাইত না, তখন অনেক বেশি রাগ হতো। তবে এখন সে কথা ভাবলে সত্যিই খারাপ লাগে।
ছোটো বয়সে যেমন হয় আর কি। তবে মিথ্যে বলব না প্রতিবছর এই দিনটাতে মা আমাকে নিয়ে চারঘাটের মেলাতে যাওয়ার চেষ্টা করতো। বাড়ির কাছাকাছি একমাত্র ওখানেই রথের মেলা হতো।
তবে বৃষ্টি, কাদা সমস্ত কিছুই উপেক্ষা করে সেই সময় ওই মেলায় যাওয়ার এক অন্যরকম আকর্ষণ ছিলো। তবে আজকে যদি বলেন তাহলে কেন জানি না ওই কাঁদা বৃষ্টির মধ্যে যেতে একেবারেই ইচ্ছা করে না।
তবে হ্যাঁ যেটা মিস করি সেটা হচ্ছে মায়ের কাছে বায়না করা, মায়ের সঙ্গে মায়ের হাত ধরে রথের দড়ি টানা, কিংবা লোকের ভিড়ে সামনে এগিয়ে চলার মুহূর্ত গুলো। আজ বুঝতে পারি তখনকার ওই সাধারণ মুহূর্তগুলো কতখানি মূল্যবান ছিলো। কোনো বছর যদি মা নিয়ে যেতে না পারতো, অনেক বেশি মন খারাপ হতো। তবে উল্টো রথে আবার সেই মন খারাপটা ভালো হয়ে যেতো।
কারণ সোজা রথে নিয়ে যেতে না পারলেও, উল্টো রথে মা অবশ্যই নিয়ে যেতো। ফেরার পথে গরম জিলিপি, পাঁপড় আর বাদাম ভাজা কেনার আকর্ষণের স্মৃতি এখনো যেন ছোটবেলাটাকে জীবন্ত করে তোলে। কি ভীষন তাড়াতাড়ি বড় হয়ে গেলাম সেটাই ভাবছিলাম আজ ছাদে দাঁড়িয়ে।
|
|---|
বোধহয় এতো তাড়াতাড়ি বড় না হলেই ভালো হতো। আরও কিছু বছর মায়ের সঙ্গে থাকতে পারতাম। তবে আজকাল জীবন যেন স্থির হয়ে গেছে। না সেই ছোটবেলায় ফিরে যেতে পারি, আর না দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। জীবন যে এই দুইয়ের মাঝখানে কিভাবে পার হচ্ছে, কখনো কখনো সেই প্রশ্ন মনকে বড্ড বেশি ভারাক্রান্ত করে।
ফোনটা হাতেই ছিলো, তাই জুম করে কতগুলো ছবি তোলার চেষ্টা করলাম। তবে তেমন ভালো ছবি ওঠেনি। গতকাল রথের দিনটা খুব ভালো কাটিয়েছিলাম। তবে এ বছর আর হয়ে উঠলো না। আর আগামী বছর আদেও এই রথ দেখার সৌভাগ্য হবে কিনা জানিনা।
|
|---|
জীবন বড্ড বেশি অনিশ্চিত। আর একথা যেন আজকাল আরও বেশি করে উপলব্ধি করি। আর সেই কারণেই প্রতিটা দিন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। আর আগামীকালকে বড্ড বেশি অনিশ্চিত। আদেও আগামীকালের সূর্যোদয় দেখা হবে কিনা এই প্রশ্ন কখনো কখনো মনে উঁকি দেয়।
আচ্ছা আপনাদের ছোটবেলার রথের দিনগুলো কেমন কাটতো? আজও আপনারা কি সেই স্মৃতিগুলোকে মনে করেন? অফিস থেকে ফেরার সময় শুভ আজ পাঁপড়, জিলিপি,বাদাম সবকিছুই কিনে নিয়ে এসেছে।
তবে যা কোনো অর্থের বিনিময়ে কেনা সম্ভব নয় সেটা হলো আমাদের ফেলা আসা ছোটোবেলার দিন। যেগুলো আজ শুধু সুন্দর স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে আমাদের মনে।
আপনার লেখাটি অত্যন্ত কাব্যিক ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যে, উৎসব কেবলই কোনো উপলক্ষ নয়, বরং তা স্মৃতির এক আধার। বিশেষ করে, বাড়ির ছাদ থেকে রথযাত্রা দেখার মুহূর্তের সাথে মায়ের হাত ধরে রথের দড়ি টানার সেই অধীর আগ্রহের দিনগুলোর তুলনা আমার খুব ভালো লেগেছে। কারণ, এই বিষয়টি সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কেবল দূর থেকে দেখে যাওয়ার মধ্যকার পার্থক্যকে যেমন তুলে ধরে, তেমনি জীবনের সেই প্রবাহকেও সামনে নিয়ে আসে—যেখানে আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই জীবন এগিয়ে চলে। সাম্প্রতিক এক ব্যক্তিগত শোকের কারণে এবার উৎসবে সরাসরি অংশ নিতে না পারার বিষয়টি আপনার লেখায় এক গভীর ও আন্তরিক আবেগের স্পর্শ যোগ করেছে। গরম জিলিপি, পাপড় আর ভাজা বাদামের উল্লেখ এমন সব সুখের দিনের ছবি চোখের সামনে ভাসিয়ে তোলে, যা কোনো দামী বিলাসিতা নয়, বরং সাধারণ সব আনন্দেই পূর্ণ ছিল। শৈশবের সেই হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলোকে তো আর অর্থের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।
সাবাশ বন্ধু 👏🏿 &
স্টিম অন (Steem on)!!!