"ফিরতি পথে আবার ছুটলাম হসপিটালে"
|
|---|
Hello,
Everyone,
কথায় আছে আমরা যে জিনিসগুলো থেকে দূরে পালাতে চাই, পরিস্থিতি আমাদেরকে বারংবার সেই সকল দিকেই নিয়ে যায়। আমার জীবনে যেন এই কথাটা বারংবার সত্যি হতে দেখেছি।
একটা সময় ছিল হসপিটালে নাম শুনলেই আমার ভয় লাগতো। এমনকি আমার বিয়ের আগে আমার দিদি হসপিটালে ভর্তি থাকাকালীন আমি হসপিটাল চত্বরে গিয়ে বসলেও, কখনো ভিতরে গিয়ে দিদির সাথে দেখা করিনি। এতটাই ভয় ছিলো আমার।
অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যখন আমি নিজের কথা ভাবি, তখন বুঝতে পারি পরিস্থিতি মানুষকে কতখানি পরিবর্তন করে। আমার লেখা যারা বরাবর পড়েছেন, তারা হয়তো জানবেন গত চার থেকে পাঁচ বছর বাবা, ঠাকুরমা, আমার জামাইবাবু, শ্বশুর মশাই, ননদের হাজব্যান্ড, সবাইকে নিয়ে যে কতবার হসপিটাল ও নার্সিংহোম দৌড়াদৌড়ি করেছি, তার কোনো ঠিক নেই।
|
|---|
এর আগের একটা পোস্টে আমি আপনাদের জানিয়েছিলাম আমার বড়দির শাশুড়ি মা হসপিটালে ভর্তি থাকায়, তার সাথে দেখা করে মামাবাড়ি পৌঁছাতে আমার রাত নটা বেজে গিয়েছিলো। ভেবেছিলাম মামা বাড়িতে দুটো দিন আনন্দে কাটিয়ে বাড়িতে ফিরবো। সেই অনুযায়ী রবিবার দিন সন্ধ্যাবেলায় মামাবাড়ি থেকে বেরোনোর প্ল্যান ছিলো।
তবে দুপুরবেলায় হঠাৎ করে আমার বান্ধবী রাখি ফোন করে জানালো, আমাদের বান্ধবী পিয়ালীর মায়ের প্রচন্ড শরীর খারাপ এবং গতরাতে তাকেও হাবড়া হসপিটালে ভর্তি করতে হয়েছে। বিকাল চারটের সময় ভিজিটিং আওয়ার আছে, তাই রাখি ফোন করেছিলো যদি আমি যাই তাহলে একসাথেই যাবে। যদিও ও জানতো না যে আমি হাবড়ার মামা বাড়িতেই ছিলাম।
|
|---|
যেহেতু হাবড়াতেই ছিলাম এবং মামা বাড়ি থেকে হসপিটাল এর দূরত্ব খুব বেশি দূর নয়, তাই রাখিকে জানিয়েছিলাম ও যাতে চলে আসে। আমি এদিক থেকে গিয়ে একসঙ্গে দেখা করবো। যথারীতি মামা বাড়িতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে, চারটা নাগাদ তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আর তখনই বৃষ্টিও পড়তে শুরু করলো। সকাল থেকেই অবশ্য সেদিন আকাশে প্রচন্ড মেঘ ছিলো।
|
|---|
তবে বাড়িতে বসে বৃষ্টি যতটা উপভোগ করতে ভালো লাগে, বৃষ্টি হওয়া কালীন বাইরে বেরোতে ঠিক ততটাই খারাপ লাগে। কিন্তু কিছু করার নেই, রাখি আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো তাই টোটো ধরে পৌঁছাতেই হতো। টোটো স্ট্যান্ডে পৌঁছে সেখান থেকে রাখিকে সাথে নিয়ে আমরা পৌছালাম হাবড়া হসপিটালে। পিয়ালীকে ফোন করে জানলাম ও ভিতরেই আছে।
|
|---|
চারটে থেকে ভিজিটিং আওয়ার শুরু হয়ে গিয়েছিলো, তাই ওকে ডেকে ভিজিটিং কার্ডটা দিতে বললাম। সেটা পেলে তারপরেই আমরা ভিতরে যেতে পারবে। ও দেখে আসার একটু পরে আমিও গেলাম। পিয়ালী ও পিয়ালীর হাসবেন্ড বাইরে রাখির সঙ্গে দাঁড়ানো ছিলো। পিয়ালের মায়ের সাথে দেখা করে আমরাও বেরিয়ে এলাম। তারপর পিয়ালী ওর হাজব্যান্ড এক এক করে দেখা করতে গেলো।
|
|---|
বাইরে দাঁড়িয়ে আমি আর রাখি অনেক কিছুই ভাবছিলাম। আসলে সত্যিই হসপিটাল এর মতন জায়গায় গেলে নিজেদেরকে বড্ড সুস্থ মনে হয়। জীবনের প্রতি অনেক অভিযোগ কমে যায়। আমরা ওখানে দাঁড়িয়েছিলাম, তখনই একটা পেশেন্টকে নিয়ে এলো যাকে অন্য হসপিটালে ট্রান্সফার করেছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলো বাড়ির সকলে।
আবহাওয়াটাও এতো খারাপ ছিল যে তা বলার মত নয়। কিন্তু আপন জন্য চিকিৎসার জন্য বাড়ির সকলেই আবহাওয়াকে অতিক্রম করে তাকে নিয়ে রওনা করলো। বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়ানোর পর, পিয়ালী ও পিয়ালীর হাজব্যান্ড বেরিয়ে এলো। আসলে সেদিন রবিবার ছিলো, তাই ডাক্তারের সাথে দেখা করার কোনো ব্যাপার ছিলো না বলে, ওরা আর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি।
|
|---|
একসাথে সকলেই হসপিটাল থেকে বেরিয়ে পড়লাম। পিয়ালী এবং রাখি যেহেতু মছলন্দপুরের দিকে যাবে, তাই ওদের ট্রেন আগেই চলে এসেছিলো। ওদেরকে ট্রেনে তুলে দিয়ে আমি অন্য প্ল্যাটফর্মে গেলাম, যেখানে আমার ট্রেন আসার কথা। তবে আমাকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছিলো।
|
|---|
ট্রেনের জন্য আমি যখন টিকিট কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখনই একটা ট্রেন বেরিয়ে গিয়েছিলো যেটা ধরা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই অগত্যা বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। বৃষ্টি গতকাল অনবরত হয়েই চলেছিলো। যাইহোক অবশেষে ট্রেন এলো এবং আমিও ট্রেন ধরে বাড়িতে এসে পৌঁছালাম। একেবারে ভিজে না গেলেও যে পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছিলো, তা ছাতায় বাধ মানে নি। তাই বাড়ি এসে চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
রাতের দিকে সেটাই ভাবছিলাম যেদিন মামা বাড়িতে গেলাম, সেদিনও হাসপাতাল দিয়ে ঘুরে যেতে হলো। আবার যেদিন ফিরলাম সেদিন হসপিটাল থেকে ঘুরেই আসতে হলো। কিছু কিছু সম্পর্ক এমন থাকে যে সম্পর্ক গুলোর খারাপ সময়ে, তাদের পাশে না দাঁড়ালে নিজেকে মানুষ বলে ভাবতে খারাপ লাগে। আর ঠিক এই খারাপ লাগার জন্যই নিজের ভয়কে উপেক্ষা করে বহুবার ছুটতে হয় হসপিটালে।
যাইহোক সকলের সুস্থতা সব সময় প্রার্থনীয়। যাতে হসপিটালের দ্বারস্থ হতে না হয় কাউকেই। ভালো থাকবেন সকলে।