"নির্ঘুম রাতের অস্থিরতা"
Hello,
Everyone,
বৃষ্টি ভেজা সকালের শুভেচ্ছা জানাই সকলকে। এখন ঘড়িতে ৪.৪৯। জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখি এখনও ভালোই অন্ধকার। না ভোর হয়নি এমনটা নয়, আসলে আকাশ মেঘলা। তার সাথে বৃষ্টিও হয়ে চলেছে অনবরত।
সারারাত ধরে আজ বৃষ্টি হয়েছে। কখনো মুষলধারে, আবার কখনো টিপটিপ করে। আজ রাতভর বৃষ্টির শব্দ আর হেডফোনে পছন্দের গান শুনেই কাটিয়ে দিলাম। এক ফোঁটাও ঘুম এলো না। মাঝে একবার হেডফোন খুলে, মোবাইলটা দূরে রেখে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।
তবে ব্যর্থ চেষ্টা। চোখ বন্ধ করতেই সব পুরোনো নির্ঘুম রাতের কষ্ট গুলো মনে পড়লো। একটা সময় মনের সাথে কি লড়াইটা না লড়েছি। রাতভর কেঁদেছি, নিজের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ জমা করেছি, দোষারোপ করেছি নিজের দুর্বল মনকে। এখন অনেকটা সামলে নিয়েছি নিজেকে।
তবে সামলানোটা শুধুই বোধহয় কষ্টের উপর প্রলেপের কাজ করেছে। আদেও একে বোধহয় সামলানো বলে না। না হলে আজ এইভাবে আরও একটা নির্ঘুম রাত কাটতো না। আরও একবার চোখের জলে বালিশ ভিজতো না। সবকিছু ভুলে যাবো এই অঙ্গীকার করেও যেন হেরে যাই বারে বারে।
সত্যি মানুষের কি অসীম ক্ষমতা। একটা মানুষ কিভাবে অন্য একটা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সেটাই অবাক হয়ে ভাবি কখনো কখনো। তবে কার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, এটা বুঝতে পারা কঠিন বিষয়।
এই পৃথিবীতে আবেগের কোনো মূল্য নেই, না আছে ভালোবাসার মূল্য। আর সময়ের মূল্যায়ন করতে মানুষ ভুলেই গেছে। তাই আমার মতো কিছু মানুষ কখনোই জিততে পারলো না। আবেগের কাছে হেরে গেলো বারংবার। কারন আমাদের অনুভুতির মূল্যায়ন এই শহরের বেশিরভাগ মানুষের কাছে সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই না।
তবুও কি ভীষণ নির্লজ্জ আমি। সব সত্যি জানার পরেও ভালোবাসি। মূল্যায়িত না হয়েও ছুটে চলি। এ বোধহয় আমার আজীবনের অসুখ। কোনো ওষুধেই সারবে না। আচ্ছা যদি নাই বা সারে, তাতে কারোর কোনো ক্ষতি তো হবে না।
যা ক্ষতি তা তো আমারই হয়েছে, হয়ে চলেছে আর আগামীতেও হবে। নিজের মনে মনে বলে চলা এই সকল কথার ভীড়ে, হেডফোনে ভেসে আসা গানের কথা কোথায় হারিয়ে গেছে বুঝিনি।
চোখের জল যখন গাল বেয়ে নেমে এলো, সম্বিত ফিরলো তখনই। কি বোকা আমি, আজও কেঁদে চলেছি। তবে আজ হঠাৎ কেন এতো মন খারাপ হলো এ প্রশ্নের উত্তর পেলাম না।
আসলে জীবনের কোনো নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার হয় না। অনেক গুলো চ্যাপ্টার নিয়ে জীবনের গল্প লেখা হয়। তাই একটা চ্যাপ্টার যদি ভালোভাবে রপ্ত করা না হয়, সেখানের প্রশ্নের উত্তর গুলোই আনকমন মনে হয়।
আর আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টারটাই সময় মতো পড়তে পারিনি। আর দ্বিতীয়বার পড়ার সুযোগ দিইনি নিজেকে। তাই কখনো রাগ, কখনো অভিমান, কখনো মন খারাপ এইভাবেই ঘিরে ধরে আমায়।
হঠাৎ করেই কেমন যেন দম বন্ধ লাগছিলো। উঠে গিয়ে দরজা খুলে ছাদে গিয়ে দাঁড়িয়ে, কিছুক্ষণ বৃষ্টির জলে হাত ভেজালাম। যদিও সম্পূর্ণ ভিজতে ইচ্ছা করছিল, কিন্তু মনের সাথে সাথে শরীরও খারাপ হয়ে যাবে এটা ভেবেই আর ভিজলাম না।
ঘরে এসে ফোন হাতে নিয়ে লিখতে বসলাম। কি যে লিখলাম জানি না। শুধু মনের কথাগুলো টাইপ করলাম। এই প্ল্যাটফর্মের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমাকে যে কতবার নিজের আবেগের, কষ্টের বোঝা হালকা করতে সাহায্য করেছে তা বলে বোঝানো যাবে না।
আজ সারাদিন হয়তো এমনই বৃষ্টি হবে দুই জায়গাতেই। একটা সকলে দেখতে পাবে, আরেকটা সম্পর্কে কেউ জানতেও পারবে না।
সত্যিই এবার ভোর হলো। সংসারের দায়িত্ব গুলো ডাকছে। আসি এবার, অনেক কথা হলো, বাকিটা না হয় পরে হবে।
ভালো থাকবেন সবাই। সকলের আজকের দিনটা ভালো কাটুক।