"পারিবারের সাথে প্রথম বার মালদায় পৌঁছালাম"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।
আজকের পোস্টটা আমি লিখছি মালদায় আমার দাদার বাড়িতে বসে গতকাল আমরা মালদায় পৌঁছেছি। হঠাৎ করে প্ল্যানিং হওয়ায় আগের পোস্টে আপনাদের আর এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
আগের পোস্টে আপনাদের জানিয়েছিলাম আমার শ্বশুর মশাইয়ের উদ্দেশ্যে বৈষ্ণব সেবা দেওয়ার আগের দিন, আমার বৌদি এবং দাদার ছেলে আমাদের বাড়িতে গিয়েছিলো। যাদের আনতে আমি কলকাতা স্টেশন গিয়েছিলাম। গতকাল তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিলো।
ঠিক আগের দিন রাতে হঠাৎ করে প্ল্যান হলো আমার ননদ, শাশুড়ি, ও মাসি শাশুড়ি সকলে মিলে ওদের বাড়িতে যাবে। যেহেতু ওরা প্রথমবার আসছিলো, তাই আমাকে না নিয়ে ওরা কিছুতেই আসবেনা। এদিকে আমার শরীরটা অনেকটাই খারাপ, তবুও এক প্রকার জোর করেই আমাকে নিয়ে এসেছে।
|
|---|
ঘুম থেকে অনেকটা সকালে উঠতে হয়েছিলো, যেহেতু কলকাতা স্টেশন থেকে ১২:৫৫ তে আমাদের ট্রেন ছিলো। তাই তার আগে দত্তপুকুর থেকে কলকাতায় আমাদেরকে পৌঁছাতেই হতো। তবে তার আগে শুভর জন্য রান্নাবান্না শেষ করতে হতো, তারপর গতকাল ছিলো বৃহস্পতিবার, তাই ঠাকুর পূজা দেওয়ারও একটা বিষয় ছিলো।
সকালে উঠে গরম জল করে গার্গেল করে, রীতিমতো কাজে লেগে পড়লাম। অবশ্য আমার বৌদি সকালে কাজে অনেক সাহায্য করেছিলো। বুধবার একাদশী ছিলো, আর বৃহস্পতিবার পারণে কাজ শেষ করে, তারপর রান্নার কাজ শুরু করেছিলাম। বাকি বাইরের কাজগুলো শাশুড়ি মা সামলে নিয়েছিলেন।
শুভ অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিয়েছিলো। আমি ওর টিফিন রেডি করে দিয়ে, বাকি কয়েক দিনের খাবার ফ্রিজে রেখে দিলাম। তারপর আমরা সকলে দশটার মধ্যে আমাদের খাওয়া দাওয়া শেষ করে নিয়েছিলাম। একটু বাদে রেডি হয়ে ঘর তালা দিয়ে, তারপর স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম।
|
|---|
ইতিমধ্যে আমার ননদ স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলো ওর ছোট ছেলেকে নিয়ে এবং আমাদের বিধান নগর পর্যন্ত যাওয়ার টিকিটও কেটে নিয়েছিলো। তাই আমাদেরকে আর আলাদা করে টিকিটের লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। আমরা সোজা ২ নম্বর প্লাটফর্মে পৌঁছে গিয়েছিলাম, যেখান থেকে আমরা ট্রেন ধরবো।
|
|---|
১১ঃ১৯ ট্রেন ধরলাম এবং ১২.২৭ নাগাদ আমরা পৌছালাম বিধাননগর স্টেশনে। সেখান থেকে বেশ খানিকটা পায়ে হেঁটে আসার পর টোটো পেলাম। আসলে আমাদের সকলের কাছে লাগেজ ছিলো। এতো লাগেজ নিয়ে হেঁটে এতোটা পথ আসা আমার শাশুড়ি মা, ননদ, মাসি শাশুড়ি, কারোর পক্ষেই সম্ভব ছিলো না।
তাই একটা টোটো ভাড়া করে আমরা পৌঁছালাম কলকাতা স্টেশনে। তখন ঘড়িতে ১২:৩৩। ১২:৫৫ তে আমাদের ট্রেন ছিলো, সুতরাং বেশ কিছুটা তাড়াহুড়ো করেই পৌছালাম তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে। যেখানে আমাদের ট্রেন কলকাতা টু বালুরঘাট তেভাগা এক্সপ্রেস দাঁড়ানো ছিলো।
|
|---|
আমাদের কোচ নম্বর ছিলো s4, যেখানে পৌঁছানোর জন্য আমাদেরকে বেশ খানিকটা দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। তবে হ্যাঁ সময়ের আগে আমরা আমাদের কোচ ও সিট পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে যেহেতু দুপুর বেলায় গরমটাও ছিলো বেশ ভালোই, তাই সিট পর্যন্ত পৌঁছাতে সকলকেই পরিশ্রম করতে হয়েছিলো।
|
|---|
তবুও আনন্দ সহকারে সকলে মিলে গল্প করতে করতে রওনা দিলাম গাজোলের উদ্দেশ্যে। যখন এখানে নামলাম তখন ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যা ৭.৪৪। সকলে মিলে গাজোলে নেমে একটা ছবি তুললাম। এই প্রথম আমরা ফ্যামিলি ট্রিপে এতোটা দূরে এলাম, তাই একটা ছবি স্মৃতিতে থাকা দরকার।
দাদা আগে থেকে টোটো পাঠিয়ে দিয়েছিলো। এরপর সকলে মিলে একটা টোটো করে দাদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। গোটা রাস্তা আমরা গল্প করতে করতে এসেছি। বেশ ভালো সময় কেটেছে আমাদের সকলের। তার সাথে ছিলো চারপাশে প্রচুর পাঁকা আম ও লিচুর বাগান, যা ট্রেনে বসেই দেখা যাচ্ছিলো।
|
|---|
|
|---|
দাদা বাড়িতে গতকাল রাতে পৌঁছে আমরা সকলেই আলু সিদ্ধ, ডিম ভাজা আর ডাল দিয়ে গরম ভাত খেয়ে নিয়েছিলাম। তারপর সবাই ক্লান্ত অবস্থায় রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়েও পড়েছিলাম। আজ সকাল থেকে দিনটা আরও সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে বাইরে মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে।
আজ সকাল থেকে দিনটা কিভাবে কাটছে সেটা নয় পরবর্তী পর্বে আপনাদের জানাবো। আজকের মতো পোস্ট এখানেই শেষ করছি। সকলের ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
Curated by: @josepha