"প্রথমবার দমদম উৎসবে যাওয়ার অভিজ্ঞতা- দ্বিতীয় পর্ব"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে। দুদিন আগে আমি আপনাদের সাথে দমদম উৎসবে যাওয়ার প্রথম পর্ব শেয়ার করেছিলাম।
যেখানে কিভাবে মেলায় যাওয়ার প্ল্যান হলো, আমরা কিভাবে সেখানে পৌঁছালাম এবং শুরুতে ঢুকেই কি কি জিনিস দেখেছিলাম, সেই সকল গল্প শেয়ার করেছিলাম। আজ দ্বিতীয় পর্বের গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
যেমনটা প্রথম পর্বেই জানিয়েছিলাম, খাওয়া-দাওয়ার থেকেও বাচ্চাদের প্রথম আকর্ষণ ছিলো, মেলায় কি কি রাইড বসেছে, কোন কোন রাইডে তারা চড়তে পারবে, আর কি কি জিনিস মেলা থেকে কেনা সম্ভব, সেই সমস্ত কিছুর দিকে।
|
|---|
তাই খুব বেশি দেরি না করে ওদেরকে সাথে নিয়ে আমরা রাইডের দিকে এগিয়ে গেলাম। সেখানে একেবারে ছোট্ট বাচ্চাদের জন্য দু তিনটে রাইট ছিলো। যেগুলোর একটাতেও তিতলি তাতান উঠতে চায়নি। কারণ ওদের প্রথম পছন্দ ছিল "স্লিপার রাইড"।
|
|---|
এটিতে উঠতে ওরা খুবই পছন্দ করে। এটি আসলে হওয়া ভরা একটা বড় বেলুনের মতো জায়গা, যেখানে বাচ্চারা নিরাপদে লাফালাফি করতে পারে।উপর থেকে স্লাইড করে নিচের দিকে নামতেও পারে। যেখানে তাদের ব্যথা পাওয়ার খুব একটা সম্ভাবনা থাকে না। বিভিন্ন ধরনের পার্কে এবং মেলাতেও এই রাইডের ভীষণ জনপ্রিয়তা চোখে পড়ে।
তিতলি, তাতান এটি দেখলেই চলার বায়না করেন। তাই প্রথমেই খুঁজে খুঁজে একেবারে মেলার শেষ দিকে গিয়ে এই স্লিপার রাইড উঠলো ওরা। বাচ্চাদের বয়স এবং ওজন দেখে তবেই বাচ্চাদেরকে এই রাইডে তোলা হয়।
|
|---|
তবে সেখানেও ধীরাজ উঠতে রাজি হয়নি। কারণ এই রাইডটা ওর ততটাও পছন্দের নয়। এমনকি অন্য কোনো রাইডেও ওর চড়ার বায়না ছিলো না। কারণ ও রাইডে চড়তে একটু ভয় পায়।
যাইহোক অনেকক্ষণ সময় নিয়ে বাচ্চারা ওখানে মজা করছিলো। তাই আমি ওখানে দাঁড়িয়ে আশপাশটা ঘুরে দেখছিলাম। আর কি কি রাইড সেখানে আছে তার কয়েকটা ছবিও তুলেছি।
|
|---|
|
|---|
এর পাশেই চোখে পড়লো সংসারে ব্যবহৃত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান। যেখানে কাপ প্লেট থেকে শুরু করে চামচ, বাটি সমস্ত কিছু বিক্রি হচ্ছিলো এবং আরও একটি দোকান যেখানে রান্নাঘর সাজানোর জন্য আরও সুন্দর সুন্দর জিনিস ছিলো। অবশ্য দুটো দোকান থেকে কিছুই কিনি নি। তবে ছবি দুটো তুলেছিলাম যাতে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি।
|
|---|
|
|---|
যতক্ষণ তিতলি ও তাতান স্লাইড রাইডে চড়ছিলো, ততক্ষণ আমি, দিদি আর বৌদি মেলাটা আরও কিছুটা ঘুরে দেখলাম। যেখানে সোনা ঝুড়ি থেকে আগত একটা দোকান ছিলো।
শান্তিনিকেতনের সোনা ঝুড়ি একটা বিখ্যাত জায়গা, যেখানকার জিনিস দেশে-বিদেশি মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন ধরনের কানের দুল, গলার মালা, চাবির রিং, ব্যাগ সমস্ত কিছু বিক্রি হচ্ছিলো এই দোকানে।
|
|---|
তার পাশে আরও একটা দোকান নজরে এলো, যেখানে সুন্দর নেমপ্লেট বিক্রি হচ্ছিলো। এমনকি আপনি আপনার পছন্দের নামের নেমপ্লেট এই দোকানে দাঁড়িয়ে তৈরি করতে পারবেন। কাঠের উপরে সুন্দর করে ডিজাইন করে লেখা নেমপ্লেটের এমন দোকান, এই দমদমে উৎসবে আমি প্রথমবার দেখেছিলাম। শুধু তাই নয়, এখানে সুন্দর সুন্দর ফ্রিজ ম্যাগনেটও পাওয়া যাচ্ছিলো।
|
|---|
আরও একটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়লো পূজোর সরঞ্জামের আলাদা একটা দোকান। যেখানে প্রদীপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের ঘন্টা, ধূপদানি, প্রদীপ, প্রদীপগাছা, থালা, গ্লাস সমস্ত কিছুই বিক্রি হচ্ছিলো। এখান থেকে দিদি দু-একটা জিনিস পছন্দ করে নিয়েছিলো। তবে পরে আর সেগুলোর ছবি আলাদা করে তোলা হয়নি।
|
|---|
এই দোকানের উল্টো দিকেই একটা সফটটয়ের দোকান চোখে পড়লো। কি যে সুন্দর লাগছিলো সেখানে ঝুলিয়ে রাখা সফটটয় গুলো দেখতে, তা খানিকটা হয়তো ছবি দেখে আপনারও আন্দাজ করতে পারবেন।
|
|---|
|
|---|
এই দোকানগুলোর পাশেই ছিলো একটা চপের দোকান ও একটা পিঠের দোকান। চপের দোকানে আমিষ ও নিরামিষ বিভিন্ন ধরনের চপ পাওয়া যাচ্ছিলো। ঠিক একই রকম ভাবে পিঠের দোকানেও ছিলো রকমারি পিঠের সম্ভার। এমনকি সেখানে গরম গরম ভাপা পিঠেও তৈরি হচ্ছিলো।
|
|---|
এইসব কিছুই আমি, বৌদি ও দিদি একটু ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। কিছুক্ষণ বাদেই দাদা ফোন করলো। আমরা আবার এগিয়ে গেলাম সেই জায়গায় যেখানে তিতলিরা স্লাইডে চড়ছিলো। গিয়ে দেখলাম দাদা ওনাদের পাশের ফ্লাটের কাকিমার সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। মেলাতে এসেই ওনার সাথে দেখা হয়েছে।
এরপর ওনাকে সাথে নিয়েই আমরা বাকি মেলাটা ঘুরেছিলাম। পরে আরো কি কি জিনিস দেখেছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত সেখানে আমরা কি খেয়েছিলাম, সেই সম্পর্কে পরবর্তী পর্বে গল্প করবো। আজকের পোস্ট এই পর্যন্তই।
আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কাটুক, সেই প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন।