আত্মার প্রতিশোধ ২য় পর্ব
তো বন্ধুরা আজকে আমি আমার গল্পের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম! আশা করি প্রথম পর্ব আপনাদের কাছে বেশ ভালো লেগেছে! চলুন কথা না বাড়িয়ে,,, দ্বিতীয় পর্ব শুরু করা যাক।
প্রথম পর্ব পড়তে চাইলে এখানে
আত্মার প্রতিশোধ ২য় পর্ব |
|---|
এত রাতে হঠাৎ করে রাস্তার পাশে একটা মেয়ে বসে আছে! বিষয়টা দেখে তানিয়ার তেমন একটা ভালো লাগলো না! বইটা পাশেই রেখে,, তানিয়া খুব তাড়াতাড়ি করে নিচে নেমে গেল! এবং রাস্তায় গিয়ে মেয়েটার হাত ধরে তার বাসার সামনে নিয়ে আসলো।
এরপরে মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল! তোমার কি হয়েছে? আর তুমি কি বাবা মায়ের সাথে রাগ করে চলে এসেছ! মেয়েটা কোন কথাই বলছিল না।
তারপর তানিয়া মেয়েটার হাত ধরে নিজের বাসার দিকে রওনা দিল. এবং বলল তুমি আজকে রাতে আমার সাথে থাকবে. কিন্তু মেয়েটা হঠাৎ করেই তানিয়া কে বলল যে আমি আপনার বাসায় যাব না! আমি যদি আপনার বাসায় যাই,, তাহলে আপনার সমস্যা হবে।
তানিয়া মেয়েটার কথায় তোয়াক্কা করলো না! মেয়েটাকে নিজের মতন করেই বাসায় নিয়ে আসলো! কিন্তু মেয়েটা বারবার তানিয়াকে বলতে লাগলো! আমি আপনার বাসায় যাব না! আমি আপনার বাসায় গেলে আপনার সমস্যা হবে।
তানিয়া কোন কথাই শুনলো না! মেয়েটাকে হাত চেপে ধরে নিজের বাসায় নিয়ে আসলো! এবং একটা রুম দেখিয়ে দিল ঘুমানোর জন্য! কিন্তু মেয়েটা চুপটি করে ড্রয়িং রুমে বসে রইল।
তারপর তানিয়া ঘুমাতে গেল! সময়টা রাত তিনটা ৩৫ মিনিট। এত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ফলে,, তানিয়া শুয়ে পড়ার সাথে সাথেই তার ঘুম চলে আসলো! সকালে উঠে তানিয়া অনেকটা অবাক হল! তার বাম হাতের মধ্যে কালো একটা দাগ দেখতে পেল।
আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে আমি বলে দিচ্ছি,,, দাগ টা এমন ছিল! কেউ যদি খুন্তি গরম করে,, আমাদের শরীরে লাগিয়ে দেয়! তখন যেমন দাগ হয়! তানিয়ার হাতের দাগটাও ঠিক তেমনি ছিল।
তানিয়া প্রথমে অবাক হয়েছিল! তারপর তেমন একটা গুরুত্ব দিলো না! এবং সে মেয়েটাকে খুঁজতে লাগলো! মেয়েটাকে সারা বাড়ি খুজে ও পেল না! পরে দেখলে মেয়েটা বারান্দার মধ্যে বসে,,, আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
তানিয়া ঘুম থেকে উঠতে উঠতে,, তার অফিসের সময় হয়ে গেল! এবং সে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল! এদিকে নাস্তা বানাচ্ছিল,,, এবং মেয়েটাকে নাস্তা খাওয়ার জন্য ডাকছিল।
কিন্তু মেয়েটা তানিয়ার কোন কথাই শুনছিল না! নিরিবিলি আনমনে ওই আকাশটাকেই যেন বারবার দেখছিল আর কি যেন ভাবছিল।
এরপরে তানিয়া মেয়েটাকে বলল! তুমি বাসায় থাকো তুমি এখানেই থাকো! যদি তোমার বাবার কাছে বা,, তোমার বাবার বাড়িতে না যেতে চাও।
মেয়েটা বলল আমার বাবা-মা কেউ নেই! আর আমার বাসা ও নেই! তখন তানিয়া ভাবলো হয়তোবা রাগ করে মেয়েটা কথাগুলো বলছে! মেয়েটার কথার তেমন একটা গুরুত্ব দিলো না।
মেয়েটার কাছে পুরো বাসাটা রেখে! তানিয়া অফিসে চলে গেল! ওইদিকে আজকে তার খুব বড় একটা অ্যাসাইনমেন্ট এর কাজ আছে।
রনিকে কল করে,, তাড়াতাড়ি ওই জায়গাতে আসতে বলল! এবং তাদের কাজটা সম্পূর্ণ করতে করতে প্রায় দুই ঘন্টা সময় লেগে গেল।
তানিয়া কাজের ফাঁকে,, রনিকে মেয়েটার বিষয়ে সম্পূর্ণ টা খুলে বলল, রনি তানিয়া কে বলল,, আচ্ছা তুমি কি পাগল নাকি আপু! তুমি অচেনা একটা মেয়ের কাছে! তোমার বাসার সবকিছু রেখে দিয়ে চলে এসেছ।
তানিয়া বলল মেয়েটা বেশ ভালো! তুই এত কিছু চিন্তা না করে,,, কাজের মধ্যে কন্সেন্ট্রেশন দে। তাই রনি আর কোন কথা বাড়ালো না. সে তার কাজ করতে লাগলো।
কাজটা মোটামুটি ভালোভাবে সম্পন্ন করেছিল, তানিয়া এবং রনি! অফিসে এসে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে,,, অফিসের বাদবাকি কাজ করতে করতে প্রায় রাত 9 টা বেজে গেল! এর পরে তানিয়া বাসায় গেল।
তানিয়া বাসায় গিয়ে দেখল,,, অচেনা সেই মেয়েটি মেঝেতে বসে আছে! তার চুলগুলো ছাড়া হঠাৎ করেই এমন ভাবে তাকে দেখলে! যে কেউ ভয় পাবে তানিয়া ও অনেক ভয় পেয়েছিল।
তানিয়া একটু অস্বস্তি বোধ করে,,, মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল! তোমার কি হয়েছে? তোমার নাম কি! তখন মেয়েটা বলেছিল আমার নাম মায়া।
তানিয়া মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল! তুমি দুপুরে কিছু খেয়েছ কিনা! রাতের খাবারটা কি খেয়েছ! মেয়েটা তখন তানিয়াকে উত্তর দিল! আপনারা মানুষেরা খাবার খান! আমরা আত্মারা কখনোই খাবার খাই না।
সারাদিনের কাজকর্মের ফলে,, তানিয়ার মেজাজটা একটু গরম ছিল! তারপরেও মেয়েটাকে বলল আজেবাজে কথা বন্ধ করে! খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ো! আমি আজকে অনেকটা ক্লান্ত।
আর তোমার রাগ যদি কমে থাকে! তাহলে তুমি চাইলে,,,, তোমার বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে পারো! তখনই মেয়েটা বলল,,, আমার কোন বাবা মা নেই! আমার কোন বাড়ি নেই।
তানিয়া বলল ঠিক আছে! তোমার যদি যাওয়ার কোন জায়গা না থাকে! তাহলে তুমি আমার সাথেই থাকতে পারো! মায়া নামের সেই মেয়েটি বলল! আমি এখান থেকে কোথাও যাব না! আমি এখানেই থাকবো। আমি আপনাকে আগেই বলেছিলাম! আমাকে আপনার বাড়িতে নিয়ে আসবেন না! এতে আপনার ক্ষতি হবে।
তানিয়া সে সময়টাতেও,,, তেমন একটা গুরুত্ব দিলো না মায়ার কথা। এরপর থেকেই শুরু হয় যত অঘটন।
তানিয়া ক্লান্ত হওয়ার ফলে ঘুমিয়ে পড়ল! রাত তিনটার দিকে হঠাৎ তানিয়ার খুব পিপাসা লাগলো! সে পানি খাওয়ার জন্য উঠে ড্রয়িং রুমে আসলো! ড্রয়িং রুমে আসার পর সে যা দেখল! তা দেখার জন্য সে কখনোই প্রস্তুত ছিল না।
চলবে.........
আমার গল্পটা সম্পূর্ণই কাল্পনিক চরিত্র,,এর সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। গল্পটা আমার নিজের লেখা! আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে!যদি ভালো লেগে থাকে কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।
আজ এই পর্যন্তই থাক! পরবর্তী পর্ব নিয়ে আবারো ও হাজির হব আপনাদের মাঝে! সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন! এই কামনা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিলাম।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
https://twitter.com/rubinaAkther18/status/1657706526470201347?t=0l6ejlWfnwb_3NZVY-iHUg&s=19
Muy buen relatos amiga gracias por compartir
আপনার গল্পটি অনেক ভালো লাগলো আপার পরবর্তী পোস্ট এর জন্য অপেক্ষায় রইলাম আপু,,,, আশা করি অতি দ্রুত পেয়ে যাবো,,, আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো।
নিশ্চয়ই দিবো,, অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য।