আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রভাতফেরি ও শহীদ মিনারে ফুল প্রদান।
Hello Friends
বাংলাদেশ যেমন নদীমাতৃক দেশ ঠিক তেমনি চিরসবুজের দেশ। আমাদের রয়েছে একটি লাল সবুজের পতাকা এবং এই যে লাল সবুজের পতাকা এটা আজ আমরা যেভাবে পেয়েছি ১৯৭১ সালের পূর্বে এটি এ অবস্থায় ছিল না।
একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল লাল রক্তের রঙে। আর এই ভাষার জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা রুখে দাঁড়িয়ে ছিল। তাই যদিও শহীদ মিনার একটি নির্দিষ্ট আকৃতিতে করা হয় তারপরও এই ভাষা শহীদদের সম্মান এটার থেকেও অনেক অনেক বেশি উর্ধ্বে যেটাকে আসলে পরিমাপ করা যাবে না।
আজকের সকালে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ খালি পায়ে প্রভাতফেরীর মিছিলে বের হয়েছেন। আর সেই চিরস্মরণীয় পরিচিত গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।" শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ একই সঙ্গে এই গান করছেন। শিক্ষার্থীদের সাথে খালি পায়ে মিছিলে বেরিয়েছে যেটা আপনারা ফটোগ্রাফিতে দেখতেই পাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের ফুল দেওয়ার জন্য খুবই উৎফুল্ল চিত্তে ছুটে চলেছে এবং ভিড় জমিয়েছে শহীদ মিনারের সামনে। আমি অনেকক্ষণ ধরে পর্যবেক্ষণ করছি এবং ছবি তোলার চেষ্টা করছি কিন্তু পেরে উঠিনি।
অবশেষে ভীড়টা একটু কমতেই সুযোগ বুঝে মুঠোফোনে সংগ্রহ করে ফেললাম ছবি। আমি যখন এই বিদ্যালয়ে ছিলাম, তখন এত সুন্দর শহীদ মিনার এখানে ছিল না। প্রত্যেক বছর শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য ২০শে ফেব্রুয়ারি কলা গাছ নিয়ে টানাটানি।
দিন দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নতি হচ্ছে বিশেষ করে অবকাঠামোগত। খুব ভালো এই বিষয়গুলো, দেখেই মনে হয় উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। আসলে এই শহীদদের স্মরণে যে ফুল অর্পণ করা হয় একুশে ফেব্রুয়ারি, এটা নিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছোট্ট পরিসরে হলেও একটি আলোচনা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
তবে একটা মজার বিষয় হচ্ছে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ফুল প্রয়োজন। আর তাই যাদের বাড়িতে বিশেষ করে, গাঁদা ফুল গাছ রয়েছে। তাদের গাছে একুশে ফেব্রুয়ারি আগের দিন রাতে ফুল থাকবেই না বরং গাছ না থাকতে পারে।
আমি আসলে এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কারণ আমিও এটা করেছি। বন্ধুদের সাথে মিলে ফুল চুরি করা আর একুশে ফেব্রুয়ারি দিন খুব ভোরবেলা খালি পায়ে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার মজাটাই অন্যরকম। বলতে গেলে শৈশব এবং ছাত্র জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত বলা যায় এটাকে।
আর তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আজ লাল সবুজের পতাকার সাথে কালো রঙের পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি যারা মাতৃভাষার জন্য রক্ত দিয়েছিলেন তাদের সম্মানের জন্য প্রতিবছর এই দিনটিতে শহীদ মিনারে ফুল অর্পণ করা হয়।
আসলে বাংলার দামাল ছেলেরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন এই দিন তার বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। যাদের ত্যাগের কাছে আমাদের সব ত্যাগ হার মেনে যায়।
আজ আমার লেখাটি এখানেই ইতি টানছি। আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না কিন্তু। অসংখ্য ধন্যবাদ সকলকে আমার লেখাটি পরিদর্শন করার জন্য।
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আমরা এই দিনে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করি। আমরা সকলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই একুশে ফেব্রুয়ারির এই দিনে প্রভাতফেরিতে যাই।
আসলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আমাদের সব সময় এটা কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কোনো দিনের জন্য নয়। আমরা ভাষা শহীদদের নিয়ে গর্ববোধ করি যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েছি।
একুশ আমাদের চেতনা আমরা বারবার সেই চেতনায় উজ্জীবিত হই। ভাষা আন্দোলনে জয় লাভের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতারা বীজ বপন করা হয়েছিল। যাইহোক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রভাতফেরি ও শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার বিষয়গুলো আমার সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা ভাই আপনার এত সুন্দর মন্তব্য প্রকাশ করার জন্য।
আসলে আমরাও ছোটবেলায় এই প্রভাত ফেরিতে অংশগ্রহণ করতাম। শহীদের স্মরণে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে আসতাম, খালি পায়ে যেতাম খুব ভোরে। কিন্তু এখন অনেক মিস করি সেই দিনগুলোকে।
আপনার পোস্ট পড়ে খুবই ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ এবং তার সাথে অনেক ফটোগ্রাফি, আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভালো থাকবেন।
এই গানটি শুনলে কেমন যেন বুকের ভেতর নড়েচড়ে ওঠে। এই গানটি প্রতিটি হৃদয়ে গেথে নিয়েছে। ছোটবেলায় যখন এই দিনে সকালবেলা, স্কুলের ঐ প্রান্ত থেকে কর্নধারে হরেনের আওয়াজে গানটি শুনতে পাই। দৌড়ে সেখাবে গিয়ে শুনতাম। কেমন যেন অনেক ভালো লাগতো। সাথে সাথে আমিও গাইতাম।
ভালো লাগলো আপনার পোস্ট পড়ে, ভালো থাকবেন।
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আমরা সকলেই এই দিনে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে আসি।
আসলে আমার অনেক ইচ্ছা ছিল সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে শহীদ মিনারে যাব একসাথে মিছিল করব আপন মনে দেশের ভালোবাসা প্রকাশ করব কিন্তু পারিনি আমার নানু ওনি অনেক অসুস্থ ছিলেন হসপিটাল ওপর তলায় বসে মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং মিছিল দেখেছিলাম।