RE: আমার ছোট বোনের ছেলের কিছু সমস্যা
তোমার পোস্টটা পুরোটা পড়লাম। তুমি তোমার পোস্টটিতে লিখেছ তোমার এক দিদির ছেলে এবং তার ছোট মেয়েটিও এখন তোমাদের বাড়িতেই থাকে এবং দিদির মেয়ে হওয়ার পর থেকেই তোমার দিদির ছেলে একটু বেশি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছে , পড়াশোনা করতে চাইছে না। এমনকি সে তার নয় মাসের ছোটো বোনকে কিছু দিলে অভিযোগ জানাচ্ছে ও কেড়ে নিচ্ছে এবং ছোট বোনকে মারছে ।শুধু তাই নয় সে এখন বড়োদের গায়েও হাত দিচ্ছে এবং একেবারেই পড়াশোনা করতে চায়ছেনা।
সত্যিই এটা একটা চিন্তার বিষয় তো বটেই। তবে আমার মনে হয় বাচ্চারা একটু বেশি সেনসিটিভ হয় আর তার সাথে তারা অনেক বেশি অ্যাটেনশন চায়। অনেক সময় দেখা যায় দ্বিতীয় সন্তান জন্মানোর পর থেকেই বাড়ির সদস্যরা ছোটো সন্তানের প্রতি একটু বেশি নজর দেয় এবং ছোটো সন্তানকে একটু বেশি ভালোবাসে , সেটা দেখে বড়ো সন্তানের অনেক বেশি হিংসা হয় এবং মনে মনে রাগও করে কারণ এতদিন পর্যন্ত এই সমস্ত ভালোবাসা ,আদর সমস্ত কিছু শুধুমাত্র তার জন্যই বরাদ্দ ছিল। আর এই বিষয়টা বেশি দেখা যায় যখন দুটি বাচ্চার মধ্যে বয়সের ফারাক খুব কম থাকে।
তাই দ্বিতীয় সন্তান জন্মানোর পর বাড়ির অন্যান্য মেম্বারদের অনেক বেশি সচেতন হতে হয় যাতে বড়ো সন্তান নিজেকে অবহেলিত মনে না করে। যখন ছোট সন্তানকে আদর করা হয় তখন মা কিংবা বাড়ির যেগুলো সদস্যের উচিত বড়ো সন্তানটিকেও কাছে ডেকে সমানভাবে আদর করা। আর বাড়ির সকল মেম্বারদের দায়িত্ব অনেকগুন বেড়ে যায় যখন বাড়িতে ছোটো আরেকটি সন্তানের আগমন ঘটে। বাড়ির সদস্যরাই সেই ছোট্ট সন্তানটির সাথে বড় সন্তানকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
আমার মনে হয় তোমার দিদির ছেলে কোনো ভাবে নিজেকে অবহেলিত মনে করছে। হয়তো মনে করছে সকলে তার বুনুকেই তার চেয়ে বেশি ভালবাসছে। তাই চেষ্টা করো তার এই সমস্ত আচরণে রেগে না গিয়ে তাকে ভালোভাবে বোঝানোর এবং তাকেও সমান ভাবে আদর করার। ছোট বাচ্চাদের ভাবনা চিন্তা বড়দের থেকে যেহেতু অনেকটাই আলাদা হয় তাই ওরা নিজেদের মতো করেই সমস্ত বিষয়কে বোঝার চেষ্টা করে। আমি জানি অবশ্যই তোমরা সকলে তোমার দিদির ছেলেকেও ভালোবাসো। তবে সে হয়তো এটা বুঝতে পারছে না। তাই যতটা ভালোবেসে বুঝিয়ে বলা সম্ভব হয় সেটাই করো।
আমি একান্তই নিজস্ব মতামত জানালাম। আশা করছি আমি কি বলতে চেয়েছি তুমি বুঝতে পেরেছো।
Thank you so much
অনেক ধন্যবাদ ।আমি তোমার কথাটা মেনে চলবো।