সাধ্যের মধ্যে সাধ পূরণ

in Incredible Indiayesterday

নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? অনেকদিন পর আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন কিছু গল্প শেয়ার করার জন্য। আর প্রথমেই সকলের কাছে অনেক অনেক দুঃখিত যে গত এক মাস বিভিন্ন কারণবশত আমি কিছু পোস্ট করতে পারিনি। তবে এবার থেকে চেষ্টা করবো প্রতিদিন আপনাদের সাথে জীবনের নানা গল্প শেয়ার করার।

বহুদিন ধরেই একটা জিনিস কেনার খুব ইচ্ছে ছিল। ইচ্ছেটা ছিল চার মাস আগে মানে আমার বিয়ের আগেই। ইচ্ছাটা আর কিছুই নয়, হালকা ওজনের একটা সোনার নেকলেস বানানোর আর একটা কানের দুল বানানোর। তবে বিয়ের আগে সেটা কোনভাবেই সম্ভব হয়নি কারণ তখন আরো অনেক খরচ ছিল। তাই মা একেবারেই রাজি হয়নি। আর সোনার দাম দিন দিন এতই বেড়ে চলেছে যে তা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের কাছে কেনা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠছে।

1000443073.jpg

তবুও শখের দাম লাখ টাকা। সারা মাস পড়িয়ে যা উপার্জন করি তার সিংহ ভাগটা জমিয়ে রাখলেও মাঝে মাঝে ভাবি এই বয়সে যে সাধ/শখ মনে জেগেছে তা হয়তো আর দশ বছর পরে থাকবে না। এই বয়সে যা পরলে আমাকে ভালো লাগবে ১০ বছর পরে হয়তো সেটা পরলে আমাকে ভালো লাগবে না। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে সঞ্চয়ের পাশাপাশি বর্তমানটাকেও উপভোগ করা উচিত। তাই বিয়ের পর থেকেই অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে রাখছিলাম একটা সোনার গহনা বানাবো বলে। এই চার মাসে বেশ কিছু টাকা জমিয়েছিলাম। আর তাছাড়া আমাদের রাজ্যে ১৮ বছরের উর্ধ্বে মেয়েরা বিয়ে করলে বিয়ের সময় সরকারি তরফে 'রূপশ্রী' প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করলে এককালীন ২৫০০০ টাকা পায় বিয়ের জন্য। আমিও বিয়ের আগে এই ফর্মটি ফিলাপ করেছিলাম। যদিও বিয়ের আগে আমি টাকাটা পাইনি। তবে বিয়ের এক মাস পরে আমি টাকাটা পেয়েছিলাম। সেই টাকাটাও আমার কাছে জমানো ছিল।

1000444728.jpg

অনেকবার ভেবেছিলাম টাকাটা জমিয়ে রাখি পরে কাজে লাগবে। আবার এটাও ভাবলাম যে কোনো ফ্যামিলি প্রোগ্রামে গিয়ে যখন দেখি সবাই গলায় সোনার গহনা পরে আছে, তখন নিজের কাছে না থাকার জন্য একটু হলেও খারাপ লাগে। তাই ভাবলাম টাকাটা যখন জমেছে তাহলে সাধ্যের মধ্যে হালকা ওজনের একটা গহনা তো বানানোই যায়। জমানো তো সারা জীবন ধরেই রয়েছে।আর সোনার জিনিস তো প্রয়োজনের সময়ও কাজে লাগবে।তাই অনেক দ্বিধা-দন্দ্ব পেড়িয়ে অবশেষে মনস্থির করেই নিলাম যে সেদিনই যাব জিনিসটা কিনতে।

আমাদের বাড়ি কৃষ্ণনগর। এখানেই সোনা পট্টি বলে একটা জায়গা আছে যেখানে প্রচুর সোনার দোকান রয়েছে। তবে আমি একটু লাইট ওয়েট এর মধ্যে চাইছিলাম। তাই আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩৭-৩৮ কিলোমিটার দূরে রানাঘাট এ গিয়েছিলাম বরের সাথে। রানাঘাটের রাণী জুয়েলার্স এখন ভীষণই ভাইরাল। ফেসবুক খুললেই এই জুয়েলারী শপটার ভিডিও আসে। এখানে প্রচন্ড লাইট ওয়েটে সুন্দর সুন্দর ডিজাইন এর গহনা পাওয়া যায়। সময় বাঁচাতে আমরা ট্রেনে করে না গিয়ে জাতীয় সড়ক পথ ধরে বাইকে করেই গিয়েছিলাম।৪০ মিনিট মতো সময় লেগেছিল পৌঁছতে। আর যাওয়ার আগে আমরা কল করে জেনে নিয়েছিলাম তাদের শপ সেদিন ওপেন থাকবে কিনা।

1000443040.jpg

সেখানে গিয়ে প্রথমেই দেখে নিয়েছিলাম তেঁতুল পাতা নেকলেস যেটা আমি বাড়ির থেকেই ভেবে গিয়েছিলাম। এই তেঁতুল পাতা নেকলেস এখন ভীষণ ভাইরাল। তাই অন্য কোন দিকে না তাকিয়ে প্রথমেই একটা লাইট ওয়েটের তেঁতুল পাতা নিয়ে নিয়েছিলাম। যার ওজন ছিল ২.৫০০ গ্রাম। দাম পড়েছিল ৪৬০০০ টাকা মতো, মানে ১০,৯৫০ স্টিম এর কাছাকাছি।

1000443073.jpg
আরো কয়েকটি জিনিস কেনা হয়েছিল। সেগুলো আমি আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করব। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  

TEAM 7

Congratulations! This post has been voted through steemcurator09. We support quality posts, good comments anywhere and any tags.


1000246802.png

Curated by : @ memamun

 yesterday 

Thank you so much

Loading...
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.078
BTC 62707.17
ETH 1653.06
USDT 1.00
SBD 0.41