গরমকালের বিয়ের প্রথম নিমন্ত্রণ

in Incredible Indialast month

নমস্কার বন্ধুরা,

আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি দিনের গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আমার ভাইজির ( দিদির মেয়ে) বিয়ের দিনের কিছু গল্প। যার বিয়ে ছিল তার নাম স্বপ্না। আমার নিজের মোট ছয়টা মামা। আমার মায়েরা আট ভাইবোন। মা সবার থেকে ছোট। স্বপ্না হলো আমার সেজো মামার বড়ো মেয়ের মেয়ে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মামার বাড়ি খুব কম যেতাম। তাই মামা বাড়ির কারো সাথে খুব বেশি attachment আমার নেই। আর সেই দিক থেকে স্বপ্না আমার দিদির মেয়ে। তাই ওর সাথেও আমার খুব বেশি বার সাক্ষাৎ হয়নি। হাতে গোনা কয়েকবারই হয়েছে।

1000428366.jpg

তবে কয়েক বছর আগে ও জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় আমাদের বাড়িতে এসেছিল ওর দিদার সাথে, মানে আমার সেজো মামির সাথে। তখন আমাদের সাথে ওর ভালোভাবে সাক্ষাৎ হয়েছিল। আমার বিয়েতেও ওদের সকলকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল এবং ওরা এসেছিল। তাই ওর বিয়েতেও আমাদের সকলের নিমন্ত্রণ ছিল। আমাকে ও আমার ও আমার বরকেও নিমন্ত্রণ করেছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো যাওয়া হবে না কারণ ওদের বাড়ির বেশ অনেকটাই দূরে আর সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি আগে কখনো যাইনি। তবে ওদের বাড়ির ক্যামেরার কাজ ছিল আমার দাদার। তাই দাদা সকাল থেকেই ওদের বাড়িতে ছিল। বৌদি একবারে রেডি হয়ে রাতে যাবে বলেছিল। তাই অনেক ভাবনা চিন্তা করে আমিও ভাবলাম অনেকদিন বিয়ে বাড়ি যাওয়া হয়নি, সেখানে গেলে অনেক আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা হবে। তাই শেষমেশ যাবো বলেই ঠিক করেছিলাম।

1000428370.jpg

বিয়ের দিন প্রচন্ড গরম পড়েছিল। তাই আমি খুব সাধারণভাবে সেজেছিলাম। আমার বরের বন্ধুরও বিয়ে ছিল তাই ও সেখানেই যাবে বলে ঠিক করেছিল। তাই বলেছিল আমাকে দিদির বাড়ি দিয়ে আসবে তারপর ওর বন্ধুর বাড়ি যাবে। তাই সন্ধ্যেবেলায় আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম। যাওয়ার পথে বৌদিদের সঙ্গে দেখা করে নিয়েছিলাম। দাদা বৌদি কে নিতে এসেছিল। যেহেতু আমি আগে কখনো যাইনি তাই আমাকে দাদার সাথেই যেতে হতো। আমি আমার বরের বাইকে আর বৌদি, দাদার স্কুটিতে করে গিয়েছিল। ওখানে পৌঁছে প্রথমেই দিদির সঙ্গে দেখা করলাম। তারপর যে গিফ্ট নিয়ে গিয়েছিলাম সেটা দিলাম। আর অনেক আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ছয় মামার বাড়ি থেকেই অনেকে এসেছিল। সকলের সাথে কথা বলছিলাম। তবে তখনো ব্রাইড সেজে বেরোয়নি। যেহেতু লগ্ন অনেক রাতে ছিল তাই দেরি করেই সাজতে বসে ছিল। তাই আমরা বোনেরা ফটো তুলছিলাম।

1000428371.jpg
আমার বিয়ের সময়ও সকলে গিয়েছিল কিন্তু বিয়ের দিনের ব্যস্ততাই আমি সকলের সাথে বেশি কথা বলতে পারিনি। তাই এই বিয়েতে গিয়ে সকলের সাথে গল্প করছিলাম। আর ধীরে ধীরে রাত এগোতে থাকলেও কনে তখনো সেজে বেরোতে পারেনি। অর্ধেক মানুষ খাওয়া-দাওয়া করে বিয়ের কনেকে না দেখেই চলে গিয়েছিল। অনেক টাইম যাওয়ার পর অবশেষে আমার ভাইজি সেজে বেরিয়েছিল। ওকে অপূর্ব সুন্দর দেখতে লাগছিল। আমার নিজের বিয়ের সাজ নিয়ে আমার খানিকটা আক্ষেপ ছিল তাই ওর সাজটা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছিল। ও আসার পর ফটো তুলছিল। সেই ফাঁকে আমিও ওর সাথে কয়েকটা ফটো তুলে নিয়েছিলাম। খুবই মিষ্টি দেখতে লাগছিল।

1000428368.jpg
তখনো বর এসে পৌঁছায়নি। আমরা রাত দশটার দিকে খাওয়ার জায়গায় গিয়েছিলাম। তবে সেখানে তো বিশ্রী কান্ড। বিয়ে বাড়ি কিংবা যে কোন অনুষ্ঠান বাড়িতে খাওয়ার জায়গাটা বড় না হলে এই সমস্যা হয়ই। প্রায় দুই ঘন্টা অপেক্ষা করার পর অবশেষে সিট পেয়েছিলাম। তখন ঘড়ির কাটায় প্রায় ১২:০৫। টেবিলে বসেও প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছিল খাবার আসার জন্য। যাই হোক, এইসব বিষয়ে আমি তেমন কিছু মনে করি না কারণ অনুষ্ঠান বাড়িতে এটা হতেই পারে। তবে অত রাতে আর তেমন কিছু খেতে পারিনি। যাই হোক, অল্প কিছু খেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ওখানে থেকে যাব তবে আমার প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছিল। তাই ভাবলাম বিয়ে বাড়িতে এসে এখানে ঘুমোনোর থেকে বাড়ি গিয়ে ঘুমোনোই ভালো। তাই প্রায় রাত দেড়টার দিকে দাদা আমাকে, বৌদিকে আর ভাইপোকে বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিল।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Sort:  
Loading...
 last month 

Thank you so much.

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.080
BTC 62044.33
ETH 1652.47
USDT 1.00
SBD 0.42