Sittong এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য
নমস্কার বন্ধুরা,
আপনারা অনেকেই জানেন কয়েক মাস আগেই আমরা মানে আমি আর আমার হাসব্যান্ড ঘুরতে গিয়েছিলাম। বাড়ি থেকে Sittong যাওয়ার পথে কি কি বিপর্যয় এর মধ্যে আমাদের পড়তে হয়েছিল, সে কথা তো আগেই জানিয়েছি। তবে কথাতেই আছে, "সব ভালো তার, শেষ ভালো যার।" তাই আমাদের শুরু টা একটু সমস্যার মধ্যে দিয়ে শুরু হলেও, শেষ টা কিন্তু খুব ভালোভাবেই হয়েছে। চলুন তাহলে আজ সেই গল্পটাই শেয়ার করা যাক।
আমাদের Sittong পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। সারাদিনের এত ধকল এর পর রুম কিংবা ব্যালকনি কোনাটাই খুব ভালো ভাবে explore না করে আমরা চটজলদি ফ্রেশ হয়েছিলাম।তারপর আমরা আমাদের দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম কারণ আমাদের বড্ড খিদে পেয়ে গিয়েছিল। খাবার খাওয়ার পর আমরা আবার রুমে ফিরে আসি। কিছুক্ষণ বসে আমরা ব্যালকনিতে যাই। ব্যালকনিটা ঘরের সাথেই attach ছিল। ব্যালকনি থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এতটা অনবদ্য লাগছিল তাই হয়তো লিখে প্রকাশ করা যাবে না। যদিও ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসছিল। তবুও প্রকৃতি প্রেমিক মানুষ দের কাছে এই সৌন্দর্য্যও অসাধারণ বলে মনে হয়। আমাদের হোম স্টে টা ছিল দুইতলা। খুব বিলাস বহুল না হলেও প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসই ঘরে ছিল। তাই আমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি।
এরপরে আমি আর আমার বর দুই ব্যালকনিতে থাকা একটা বেঞ্চে বসে গল্প করছিলাম। তারপর এই সুন্দর মুহূর্ত গুলোকে স্মরণীয় করে রাখতে কিছু ফটো তুলেছিলাম, যেটা ছাড়া ঘুরতে যাওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়।যখন আরও একটু সন্ধ্যা নেমে এলো তখন হোম স্টের একজন এসে আমাদের গরম গরম চা আর পকোড়া দিয়ে গিয়েছিল। চা টা তো অসাধারণ হয়েছিল। চা- এর গন্ধ টা সত্যিই দারুণ ছিল। আর সাথে পকোড়াটাও ভালো ছিল। পাহাড়ের বুকে ধীরে ধীরে নেমে আসা সন্ধ্যা উপভোগ করতে করতে আমরা চা-পকোড়া খাচ্ছিলাম আর গল্প করছিলাম। এরপর কিছুক্ষণ বাদে পাশের ঘর থেকে দুইজন বেড়িয়ে এসে তাদের ঘরের সামনে রাখা বেঞ্চে বসল। তাদের আর আমাদের ব্যালকনি টা একটাই। আমি কৌতুহল বশত জিজ্ঞাসা করলাম, "আপনারা কি Mahakal Travel Agency র পক্ষ থেকেই এসেছেন?" । ওনারা উত্তর দিল, "হ্যাঁ"। আমাদের বাস লেট করে পৌঁছানোর ফলে আমাদের গ্রুপের কারোর সাথেই আমাদের আগে সাক্ষাৎ হয়নি। এই প্রথম বারের জন্য দুইজনের সাথে দেখা হলো। এখন ৫ জনের সাথে দেখা করা বাকি ছিল।
এরপর পাহাড়ের বুকে গাঢ় অন্ধকার নেমে এলে হোমস্টের owner হিন্দি তে বললেন,"আপনারা ঘরে চলে যান। পাহাড়ি এলাকা তো, তাই বিভিন্ন কীটপতঙ্গের উপদ্রব। রাতে একটু বেশিই থাকে।" তাই আমরা আবার ঘরে চলে গিয়েছিলাম। হোম স্টে টা ছিল একটা নির্জন এলাকায়। সেখানে আর অন্য কোনো মানুষজনের বসবাস নেই। এমনকি চোখ যতদূর যাই, অন্য কোনো হোম স্টেও নেই। ভাবতে লাগলাম কীভাবে যে এনারা এই নির্জন এলাকায় থাকেন কে জানে। Emergency পরিস্থিতিতে এই মানুষগুলোকে কতটা কষ্ট করতে হয়। যাইহোক এইসব ভাবতে ভাবতেই রাত আরও খানিকটা বাড়তে লাগলো। অবশেষে একজন এসে রাতের খাবার খেয়ে আসতে বললেন। রাতের খাবার খেতে গিয়ে বাকি গ্রুপ মেম্বার দের সাথে আমাদের পরিচয় হলো।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
0.00 SBD,
0.10 STEEM,
0.10 SP
Thank you so much for upvoting my post