বোনের মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে দুপুরের আয়োজন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে শেয়ার করব বোনের মেয়ের জন্মদিনে দুপুরে আয়োজনের সুন্দর মুহূর্ত ।সেদিন আমরা পৌঁছানোর পর মায়ের হাতে হাতে সাহায্য করে দিয়েছিলাম ।যাতে সমস্ত রান্না খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায় ।এদিকে সকাল থেকেই ছিল আকাশ মেঘলা। খানিকক্ষণ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। গ্রামের দিকে বৃষ্টির সময় ভীষণ অসুবিধা হয় ।উঠান কাঁদা প্যাঁচ প্যাঁচে হয়ে যায়। কিন্তু বৃষ্টি কে তো আমরা আটকাতে পারবো না। তার যখন সময় হবে সে তখন নির্দ্বিধায় চলে আসবে। যাই হোক চার বোন এক জায়গায় হলে হাসি ,মজা ,আনন্দ করতে করতেই সময় পার হয়ে যায়। মা এদিকে বকাবকি শুরু করে দিয়েছিল দুপুর দুটো বেজে গেছে ।বোনের মেয়েকে খেতে দেওয়ার জন্য। এখনকার দিনে ছোট হোক কিংবা বড় সকলে জন্মদিনে সাজানো-গোজানোর একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসলে মানুষ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চলতে এই সব কিছু হয় ।ছোটবেলায় দিদা আমাদের শুধু পাঁচ রকমের ভাজা,তরকারি, ভাত রান্না করে খাওয়াতেন ।কিন্তু এখন প্রত্যেকটা মানুষই ফোন দেখে দেখে অনেক এডভ্যান্স হয়ে গেছে। আমি বাড়ি থেকে যাবার সময় একটা গাঁদা ফুলের মালা কিনে নিয়ে গিয়ে ছিলাম ।মা প্রচুর রকমের রান্নাবান্না করেছিল। সেগুলো সাজাতে সাজাতে প্রায় পৌনে ৩টের কাছাকাছি বেজে গিয়েছিলাম। যাই হোক সমস্ত সাজানো কমপ্লিট করে ফেলেছিলাম ।এরপর সকলে একে একে আশীর্বাদের পালা ছিল ।মানুষটা ছোট হলেও আশীর্বাদ করার লোক প্রচুর ছিল। আসলে বাড়ির প্রথম নাতনি বলে কথা। তার আদরই আলাদা। বোন আগে শ্বশুরবাড়িতেই তার মেয়ের জন্মদিন পালন করত ।কিন্তু কয়েক বছর ধরে বাপের বাড়িতেই পালন করে। এতে মা ও ভীষণ খুশি হয়।
প্রথমেই আমার মা আশীর্বাদ করেছিল। এরপর আমার দিদা, বড়মামা সকলে আশীর্বাদ করার পর আমার আশীর্বাদের পালা ছিল। আমি তার বড় মিমি হই ।ছোট থেকেই সকলকে মিমি বলেই ডাকে। বড় মিমির কাছে তার বায়না ছিল মিমি এ বছরে আমার 9 বছরের জন্মদিন। তাই আমাকে নটা গিফট দেবে। ছোটরা গিফট পেতে ভীষণ ভালবাসে ।তারা গিফটের পরিমাণটা দেখে না। কিন্তু ছোট ছোট খাবার জিনিস পেলেই ভীষণ খুশি হয়। যাই হোক আমি একটা একটা করে প্রায় নরকমের জিনিস নিয়ে গিয়েছিলাম। সে নটা গিফট পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছিল। অনেকদিন আগে আমার সাথে একটা মাটির ভাঁড় চেয়েছিল ।যেখানে সে টাকা জমাবে ।কিন্তু সেটা দেওয়া হয়নি ।তাই প্রথম থেকেই ভেবে রেখেছিলাম জন্মদিনে দেব। তাই জন্মদিনের দিন মা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়ে শুরু করেছিলাম।
লক্ষীর ভান্ডার দেওয়ার পর চিপসের প্যাকেট, কুরকুরের প্যাকেট ,চকলেট ,পেন, ফুটি ,বিস্কিটের প্যাকেট, আর দিয়েছিলাম একটা সোনার নাকছাবি এগুলো পেয়ে তো প্রথমেই ভীষণ খুশি হয়েছিল। যাইহোক সকলের মিলে এভাবেই যে যার গিফট দিয়ে আশীর্বাদ পর্ব সেরে ফেলেছিল। প্রথমেই তো আমরা যাওয়াতে ও ভীষণ খুশি হয়েছিল। এরপর ছিল ফটো তোলার পর্ব এখনকার দিনে যে কোন মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করতে ক্যামেরাম্যান রেডি থাকে। প্রত্যেকে হাতে একটা করে ফোন নিয়ে ছবি তোলার জন্য রেডি ছিল। ছবি তোলার পর শুরু করে দিয়েছিল দুপুরের খাওয়া দাওয়া। এদিকে আশেপাশে কয়েকজনের নেমন্তন্ন ছিল কয়েকটা বাচ্চা কে মা নিমন্তন্ন করেছিল। তাদেরও সকলকে খেতে দেওয়া হয়েছিল।
সেদিন সকলে মিলে একসাথে জমিয়ে খাওয়া দাওয়া করেছিলাম । দিদার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল মেয়ের বাড়ি যাওয়া। তার ও ইচ্ছে পূরণ হয়েছিল ।আসলে মায়ের হাতে কাঠের জালে রান্নার স্বাদ একেবারেই আলাদা। খেতে খেতে প্রচুর গল্প মজা আনন্দ করে সময়টা কাটিয়েছিলাম। আসলে চার বোন এক জায়গায় হলে গল্পের শেষ থাকে না গল্প যেন আমাদের ফুরায় না। যাইহোক পরের মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।
"আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।*
Curated by: @ahsansharif
Thank you 🙏