জোনাকি
আপনারা সকলে কেমন আছেন ?আশা করি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি ।সুস্থ আছি। আজ আমি আপনাদের কাছে নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করতে চলেছি।
আমি কিছুদিন আগে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম জেঠুর বাড়ি যাওয়ার গল্প। অর্থাৎ আমার জেঠু শ্বশুর। সেদিন আমি জেঠুর বাড়িতে আমার জামাটা আনতে ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু দিদি একদিন কে ফোন করে বলল চল ,একদিন বাইরে দেখা করি ।তোর জামাটাও দেওয়া হবে আমাদের দেখা করা হবে।
আমি দিদির কথা মতো রাজি হয়ে গেলাম। আসলে আমার তো তেমন কোথাও বেড়ানো হয় না। খুব কম বেরোই বাইরে। শুধু ঈশার সাথেই বেরোনো হয় । তাছাড়া আমি কারো সাথে তেমন বেরোয় না। ঝড় বৃষ্টির কারণে আমাদের বেরোনোটা পিছিয়ে গিয়েছিল ।কিন্তু আমরা ঠিক করলাম যতই ঝড়, বৃষ্টি হোক না কেন আজকে বেরোব।
আসলে সারাদিন রোদের যা তাপ থাকে ।বিকেলের পর মনে হয় একটু বাইরে বেরোলে মনটা একটু ভালো লাগে।দিদির কথামতো সেদিন বিকেলে রেডি হয়ে বসে ছিলাম । প্রায় সাতটা নাগাদ দিদি ফোন করল চলে আয়। দিদিও দিদির বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল। আমি আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম।
দিদি বলল চল একটা ক্যাফেতে যাই। আমি বাইরের খাবার খেতে খুব একটা অভ্যস্ত নই। আমি কোনদিন সেভাবে বাইরে কোন রেস্টুরেন্ট খেতে যায়নি। যতটুকুনি যাই ঈশার সাথেই ।হয়তো এই বাড়িতে এসে ঈশার সাথে বাইরে খাওয়া শিখেছি।
দিদির ওই ক্যাফে টা খুব পছন্দ ।যতবার আসে ওই ক্যাফেতেই যায় ।কিন্তু আমি কোনদিন যাইনি। এই প্রথমবার গেলাম। যাই হোক গিয়ে বেশ ভালোই লাগলো। ছোটখাটোর উপরে ক্যাফেটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছে। মনে হচ্ছে একটা ছোট্ট বাড়ি।
আমি তো ওখান দিয়ে অনেক যাতায়াত করেছি। কিন্তু জানতাম না ওটা একটা ক্যাফে। যাই হোক আমি বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দিদি আমার আগে এসেছিল।বাইরে খুব গরম তাই ভিতরে এসি তে ঢুকে গিয়েছিল। আসলে দিদি এসি ছাড়া থাকতে পারে না । আমি তো ক্যাফেটা চিনি না। তাই আমি পৌঁছে ফোন করলাম।ফোন করাতে দিদি আবার বাইরে বেরিয়ে এসে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেল ।
সামনে বেশ একটা জিম করার জন্য খুলেছে জিম করার জায়গা। আর ভিতরটা খাবার জন্য ছোটখাটো ক্যাফে দেখলাম ।ভালই ভিড় হয়েছে। যাইহোক দিদি গিয়ে অনেকক্ষণ বসে ছিল। তারপর খাবার অর্ডার করল। দিদি তো বুঝতেই পারছে না। আমি কি খাবো । আমি কি পছন্দ করি না করি দিদি জানে না। আর দিদি যেহেতু এসব খাবার খায় না ।সবসময় ডায়েটে চলে। আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছিল তুই কি খাবি বল ।
কিন্তু আমি তো অতসব খাবারের নামই জানিনা। আমি বারবার বলছিলাম তুমি অর্ডার করো
তুমি যা অর্ডার করবে, আমি তাই খাব। আসলে আমি ঈশার সাথে গিয়েও তাই করি। ঈশা কে বলি তুমি অর্ডার করো আমি খাব। সেটা যেমনই হোক না কেন আমি খাই।
দিদি তো আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছে। তাই পছন্দমত গরম থেকে গিয়েছি বলে একটা শরবত অর্ডার করলো। শরবতটা খেয়ে বেশ ভালোই লাগলো। শরবত খেতে খেতে অনেক গল্প করলাম। গল্প করতে করতে বলছে দেখ তোর জামাটা আমি আজকেও আনতে ভুলে গেছি। বাড়িতে প্যাকেটে করে তুলে রাখলাম ।কিন্তু আনতে ভুলে গিয়েছি।
যাইহোক দিদি একের পর আর খাবার অর্ডার করলো। বলছে রাতের খাবারটা এখান থেকেই খেয়ে যাবি। আমি তো সেই কথা মত বাড়িতে মাকে ফোন করে বললাম মা বাড়িতে ভাত খাব না আজকে। শেষে মোমো খাওয়ার পর পেটটা ভরে গেল। আমি বললাম আর কিছু অর্ডার করতে হবে না। আর পারছি না খেতে।দিদি তো দেখে হাসছে বলছে আর কিছু খাবি না ।তাও শেষে একটা আইসক্রিম অর্ডার করলো। কিন্তু সে আইসক্রিমও আমি পুরোটা শেষ করতে পারলাম না
যেহেতু দিদি নিয়ে গিয়েছে তাই দিদি বিলটা পেমেন্ট করল ।করে একটুখানি দুজনে মিলে একটু ছবি তুললাম। তুলে বাড়ি ফেরার পালা। কারণ আসলে ওখান থেকে দিদির বাড়িটা একটুখানি বলে, বলল চল আমার বাড়িতে জামাটা নিয়ে তারপর বাড়ি যাস। দিদির ফোনে যেহেতু ছবিগুলো ভালো ওঠে তাই দিদির ফোনে ছবিগুলো তুললো।
ওখান থেকে আবার দিদির বাড়ি গিয়ে গল্প করতে করতে তখন বেজে গেছে প্রায় পৌনে দশটা। আগের দিনই বলেছি ওখান থেকে টোটো পাওয়া যায় না। দিদি অনেকটা এগিয়ে দিল। কিন্তু কোন টোটো আসবেনা। দিদিকে আমি বললাম তুমি চলে যাও। আমি এগিয়ে গিয়ে টোটো ধরে নেব ।খানিকটা এগিয়ে গিয়ে তখন টোটো পেলাম ।যাইহোক বাড়ি ফিরতে ফিরতে দশটা বেজে গেছিল ।দুজনে দেখা করতে খুব ভালই লাগলো । ক্যাফেটার নাম হলো জোনাকি।
আসলে বাইরে দেখা করতে, বাইরে খেতে বেশ ভালোই লাগে ।আবার দুদিন বাদে দিদি চলে যাবে ব্যাঙ্গালোর ।যেখানে দিদি চাকরি করে ।এসেছিল কয়েকদিনের ছুটিতে। আবার জানিনা কবে দেখা হবে। আজ এই পর্যন্তই থাক আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। ভালো থাকবেন সবাই।
আপনার যতটুকু পোস্ট করে বুঝতে পারলাম আপনি বাইরে ঘোরাফরা তেমন একটা পছন্দ করেন না। আর বাইরে ঘুরতে গেলে বেশিরভাগ সময় ইশা আপুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছেন। যাইহোক, আজকে একটু ভিন্নভাবে দিদির সাথে ঘুরতে বেরিয়েছে। ঠিকই বলেছেন বর্তমানে যে রোদের তাপমাত্রা দিনের বেলা বের না হয়ে, সন্ধ্যার পর বের হওয়াটাই বেশি ভালো।
আপনার পোষ্টের ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছে বেশ ভালই খাওয়া দাওয়া করেছেন।
সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনি ঠিকই বলেছেন আমি বাইরে ঘোরাফেরা একদমই পছন্দ করি না। হ্যাঁ সেদিন ভালোই খাওয়া-দাওয়া করেছিলাম ।আমার পোস্টটি পড়ে এত ভালো কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আসলে আমি যতটুকু জানি আপনি বর্তমানে সংসার জীবনে আছেন এবং মেয়েরা যখন একবার সংসার জীবনে ঢুকে যায় তখন বাহিরে ঘোরাফেরা করা তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। যাই হোক আপনার গত পোস্ট আমি পড়েছিলাম এবং আপনি অনেক আবেগমূলক কথা সেখানে লিখেছিলেন কারণ আপনার দিদিকে নিয়ে সেখানে আপনি লিখেছিলেন।
সেখানে আপনি জামা রেখে আসার জন্য দিদি আপনাকে বাহিরে দেখা করতে বলেছিল কিন্তু বৃষ্টি হওয়ার কারণে আপনারা দেখা করতে পারেননি কিন্তু আজকে আপনি ভেবেছিলেন ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক না কেন দেখা আপনারা করবেন এবং খুবই আনন্দ করেছেন বাহিরে গিয়ে আপনার পোস্ট পড়ে বোঝা যাচ্ছে। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি আনন্দ মুহূর্ত আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
সেদিন আমরা সত্যিই খুব আনন্দ করেছিলাম। আমার পোস্টটি পড়ে এত ভাল কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বাহিরে ঘোরাঘুরি করার মুহূর্তগুলো সত্যিই অসাধারণ হয়ে থাকে। আজকে আপনি আপনার দিদির সাথে ঘুরতে গিয়েছেন। আসলে বাহিরের খাবার দেখতে যতটা লোভনীয় দেখায়। মাঝে মাঝে দেখা যায় ততটা স্বাদ আমরা পাইনা। কিন্তু অনেকেই বাইরের খাবার খেতে অনেক বেশি পছন্দ করে। আপনার কাছে শরবত বেশ ভালো লেগেছে জানতে পেরে ভালো লাগলো। প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
আপনি ঠিকই বলেছেন বাইরে ঘোরাঘুরি করতে সত্যি খুব ভালো লাগে । বাইরের খাবার গুলো খেতে ভালো না হলেও দেখতে খুব সুন্দর লাগে। আমি তো বাইরের খাবার খেতে একদমই অপছন্দ করি। কিন্তু কি করব সময় খেতে হয়। পোস্টটি পড়ে কমেন্ট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।