বরের সাথে ঠাকুর দেখতে যাওয়া

in Incredible India8 months ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করি সকলেরই ভালো।

IMG20251021011127.jpg

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শহর কৃষ্ণনগর। কৃষ্ণনগরে না আসলে বোঝা যাবে না কৃষ্ণনগর বাসীরা ঠিক কতটা পরিমাণে পূজো নিয়ে মাতামাতি করে। কালীপুজো দুদিনের পুজো হলেও এখানে প্রায় তিন চার দিন ধরে মাতামাতি করে কৃষ্ণনগরের মানুষজন। পূজোর দিন রাত্রি এগারোটার পর গিয়েছিলাম বরের সাথে ঠাকুর দেখতে। সন্ধ্যাবেলায় গিয়েছিলাম ঠাকুর দেখতে সেই পর্ব অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব। বাড়িতে এসে শশুর শাশুড়ি কে বাড়ির সামনে পুজো হচ্ছে মায়ের মুখটা দেখে আসবার জন্য বকাবকি করেছিলাম। যাইহোক আমার বকা শুনে শাশুড়ি মা শ্বশুরমশাই দুজনেই গিয়েছিল সামনে পরপর দুটো পুজো হয় সেই ঠাকুর দেখতে গিয়েছিল। এদিকে আমরা রেডি হয়েছিলাম ঠাকুর দেখতে বের হব বলে। আমি এর আগের পোস্টে বলেছিলাম আমার বর পূজো নিয়ে ভীষণ মাতামাতি করে।

IMG-20251021-WA0027.jpg

পূজো নিয়ে মাতামাতি বলতে শুধু ঠাকুর দেখা নয় ও নিজে উদ্যোগ নিয়ে পুজো করতে ভালোবাসে। এবারও তার পিসির ছেলের সাথে জোট বেঁধে এক বিরাট কালি ঠাকুর পূজা করছে। ওই দাদাও আমার বরের মত পূজা অর্চনা করতে পছন্দ করে। সেদিন রাতের বেলায় বাড়ির কাছ থেকেই টোটো ধরে চলে গিয়েছিলাম দাদাদের বাড়িতে। তখন মায়ের পূজা, পুরো শেষের দিকে গিয়ে দেখি ঠাকুর মশাই হোম করছে। প্রচুর লোকজন বসে রয়েছে সকলেই পূজোর উপোস করেছিল অঞ্জলি দেওয়ার পর বসে রয়েছে।এই প্রথমবার পিসির বাড়ি গিয়েছিলাম তাই পিসি, পিসেমশাই, বৌদি সকলেই ভীষণ খুশি আমাকে দেখে আনন্দে আত্মহারা। আসলে পুরো পরিবারের কাছে আমার বর যেমন ভীষণ আদরের ঠিক তেমনি আমি তার বউ হয়ে সকলের কাছে ভীষণ আদরের।

IMG20251021012148.jpg

যাওয়া মাত্র কিছুক্ষণ বসার পর পূজা শেষ হয়ে গেল। এরপর ওখানে যে আমাকে দেখছে সেই জিজ্ঞেস করছে আমি ওদেরকে হয় । সকলের ভীষণ কৌতুহল আমাকে নিয়ে।এছাড়াও প্রচুর লোকজন দেখছি আমার চেনা জানা। সকলেই বলছে চলো আমাদের বাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যায়। ওদের কে এড়িয়ে ওখানে খানিকক্ষণ বসে ছিলাম ।এরপর খানিকক্ষণ পর মায়ের পূজা শেষ হল। সকলের কপালে একটা করে হোমের টিকা দেওয়া হল ।দেওয়ার পর প্রসাদ বিতরণী চলছিল। সকলকে প্রসাদ দেওয়ার পর এত পরিমানে প্রসাদ যে দেওয়ার লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু আমরা এতদূর রাস্তা থেকে গিয়েছি, কিভাবে প্রসাদ নিয়ে আসব তাই নিয়ে আসা হয়নি। বাড়ি থেকে রাতের সমস্ত খাবার দাবার খেয়ে গিয়েছিলাম ।তাই প্রসাদ খাওয়া হয়ে ওঠেনি ।

এরপর সকলে মিলে রাত একটা পর্যন্ত মায়ের সামনে বসে ছিলাম ।এই ঠাকুরটি বিরাট বড় করেই তৈরি করা হয়েছে। এই মায়ের নাম মা মহামায়া। কালী ঠাকুরের ও খুব সুন্দর মিষ্টি মিষ্টি নাম রয়েছে। এরপর সকলে যে যার বাড়িতে মায়ের সামনে সমস্ত কাজকর্ম করে ফিরে গেল। আমরা দুজনে আবার রাতের বেলায় হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে ।কারণ রাস্তায় বেশ কয়েকটা ঠাকুর পড়বে। সেগুলোই দেখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তখন বেশ কিছু মণ্ডপে পূজা চলছিল। বেশিরভাগ মন্ডপে মাকে ভোগ বিতরন করা হচ্ছিল ।তাই সেখানে আর অপেক্ষা করিনি। অপেক্ষা করে আর মায়ের মুখ দর্শন করা হয়নি। শেষে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম।


আজ এই পর্যন্তই ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.083
BTC 60184.04
ETH 1615.08
USDT 1.00
SBD 0.42