বাপের বাড়ি থেকে ফেরার পথে

in Incredible India3 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20260705181055.jpg

আজকে আপনাদের মাঝে বাপের বাড়ি থেকে ফেরার মুহূর্ত শেয়ার করে নেব ।আমাদের মত প্রত্যেকটা মেয়েদেরই বাপের বাড়িতে ফেরার সময় যন্ত্রনা কিংবা কষ্ট হয়। সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মুখে একরাশ দুঃখ নিয়ে সেদিন বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ির পথে। তবে সেটা মায়ের সামনে প্রকাশ করলে মা ভীষণ কষ্ট পেতেন ।তাই হাসিমুখেই সবাইকে বিদায় জানিয়ে রওনা দিয়েছিলাম। ক্ষনিকের জন্য গিয়ে আবার ফিরে আসা সত্যিই খুব কষ্টকর ব্যাপার। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম সেদিন বিকেলের দিকে যাব গিয়ে সেদিন থাকার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু দিদা অনেক দিন তার মেয়ের বাড়িতে যায়নি। তাই অনেকদিন ধরে তার বায়না ছিল মেয়ের বাড়ি যাবার। বয়স হয়ে গেলে মানুষের বায়নাও বেড়ে যায়। সেজন্যই গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া হয়েছিল। আমাকে থাকার জন্য সকলেই প্রচুর বার রিকোয়েস্ট করেছিল ।কিন্তু বাড়িতে শাশুড়ি মা ছিল না ।তাই আমি থাকার জন্য রাজি হয়নি। আসলে সেজো বোনের বরের সাথে এই প্রথমবার সামনাসামনি দেখা হয়েছিল একসাথে থাকার সুযোগ ও হয়েছিল। তাই যাবার পর থেকেই ও বারবার বলছিল দিদিভাই আজকে দিনটা থেকে যাও। আমি পরের দিনকে গিয়ে তোমাকে রেখে আসবো।

IMG20260705182207.jpg

কারোরই কথা আমি একদমই রাখতে পারিনি ।কারণ আমাকে বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল। এদিকে বড়ো মামার মেয়ে তার সে তো আবার ভীষণ রেগে গিয়েছিল। কারণ সে পিসির বাড়িতে থেকে বোনের মেয়ের কেক কাটার অনুষ্ঠান দেখে তবেই ফিরবে। এটা নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেতো বারে বারে বলছিল আমি আগে জানলে কখনোই আসতাম না। যেটার জন্য আশা সেটা অসম্পূর্ণ রেখেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। সবাইকে বাড়ি যাওয়ার জন্য বলে আবারও গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেব। এদিকে মামার মেয়ের প্রচন্ড মন খারাপ কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলছিল না। এদিকে আকাশে ঘন কালো মেঘ। এই বুঝি বৃষ্টি নামবে এরকমই আবহাওয়া ছিল।

IMG20260705182219.jpg

এইরকম আবহাওয়াতে আনন্দ করতে করতেই বাড়ি ফিরছিলাম। আমাদের করিমপুরের রোডের রাস্তাটা ভীষণই খারাপ ।বেশি রাতে হয়ে গেলে আবার ভয়ের ব্যাপার থাকে। মানে দুর্ঘটনা।এদিকে আমাদের গাড়ি দ্রুত গতিতে চলছিল ।কোথাও থেকে এসে সামনে একটা টোটো পড়ে যায় । টোটোওয়ালাটার দোষ ছিল। কারণ সে দেখছিল সামনে একটা গাড়ি আসছে হঠাৎ করে তার টোটো নিয়ে সামনে চলে আসা উচিত হয়নি।আমাদের গাড়ির ড্রাইভার টা হঠাৎ করে ব্রেক কসেছিল নয়তো সেদিনকে তিনটে প্রাণ নিমেষের মধ্যে চলে যেত। টোটো তে তিন জন মানুষ ছিল।মানুষের কিছু কিছু ভুলের জন্য এই দুর্ঘটনাগুলি ঘটে। যাই হোক গাড়ির মধ্যে বোন পড়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছিল ।আসলে হঠাৎ করে ব্রেকটা কসেছিল তাই সামলে উঠতে পারিনি। সেদিনকে একটা দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। সেদিন আমাদের ও ক্ষতি হতে পারতো।

IMG20260705182252.jpg

এরপর আবারো গাড়ির মধ্যে গান শুনতে মজা আনন্দ করতে করতে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম ।কিন্তু প্রচন্ড মন খারাপ করছিল। সবার সাথে থেকে আনন্দ করে সময়টা কাটাতে পারতাম। মেয়েদের এটাই জীবন ইচ্ছে থাকলে ও উপায় থাকে না ।সেদিন থাকার মত পরিস্থিতিও ছিল না। বাড়ি ফেরার সময় মাঝ রাস্তা তে গুড়ি গুড়ি, বৃষ্টিও পড়ছিল ।বাড়িতে পৌঁছেও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। যাইহোক সেদিনকে সকলের সাথে সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছিল। আমরা চার বোন এক জায়গায় হলে সময় গুলো আনন্দ করেই কাটিয়ে দিই। জীবনের এই প্রত্যেকটা মুহূর্তই আমাদের মনে থাকবে। আসলে সময় গুলো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই যতদিন বাঁচবো এই ভাবেই সকলে মিলে আনন্দ করে কাটিয়ে দেবো।

IMG20260705182312.jpg


আজ এখানে শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

Curated by @ dove11

curator5.png

 2 days ago 

Thank you 🙏

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.103
BTC 64114.66
ETH 1798.48
USDT 1.00
SBD 0.38