হঠাৎ করেই বাপের বাড়িতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
এখন বেশ কিছুদিন ধরেই বৃষ্টি লেগেই রয়েছে। প্রত্যেকদিন কোনো না কোনো সময়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে যাচ্ছে। গতকালকে হঠাৎ বিশেষ এক দরকারে রওনা দিতে হয়েছিল বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে। মা বেশ কিছুদিন ধরেই যাওয়ার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু আমি সময় করে উঠতে পারছিলাম না বলে যাওয়া হচ্ছিল না । তাই গতকাল ভেবেছিলাম যাব।গতকালকে মিস্ত্রি কাজ শেষ হবার পর ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ি যাবার উদ্দেশ্যে। আমার বাপের দিকে টান একটু কম। গতকাল সারাদিন আকাশে ঘন কালো মেঘ ছিল।তবুও যেতেই হবে ।তাই বিকেল ছটার পর একা একাই বেরিয়ে পড়েছিলাম ।আসলে আমার কোথাও যাওয়ার কথা শুনলে ভীষণ অসস্তি করে।একথা প্রত্যেক টা পোস্টে শেয়ার করি।এছাড়াও অনেকটা দূরের রাস্তা আকাশে ঘন কালো মেঘ কখন বৃষ্টি নামবে, তা ঠিক নেই তবুও মনে সাহস রেখে বের হতে হয়েছিল। দরকারি কাজ আগে মিটিয়ে নেওয়ায় ভালো। এছাড়াও বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অশান্তিতে ভুগছি।
এইসব কিছু নিয়েই দিনগুলো কেটে যাচ্ছে। তবুও মানুষ তো সবকিছু নিয়েই চলতে হয়। বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানো সাথে সাথেই বাস পেয়ে গিয়েছিলাম । তবে বাসের কেবিনে জায়গা দিয়েছিল। যেখান থেকে বাসের একটা বাজে দুর্গন্ধ বের হয়ে। সেটা আমার একেবারেই সহ্য হয় না ।তবুও কিছু করার ছিল না। বাসে করে কোথাও যেতে ভীষণ কষ্ট হয়। আমাদের মত মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েরা বাসে, ট্রেনে ছাড়া সব সময় গাড়ি করে যাতায়াত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কিছুটা রাস্তা খুব ভালোভাবে যাওয়ার পর শুরু হয়েছিল ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি ।তবে বাসটা ফাঁকা ফাঁকায় ছিল ।যেহেতু রাতের বাস তাই লোক সংখ্যা কম ছিল। এদিকে বৃষ্টির জন্য সকলেই তো বাসের জানালা তুলতে বাধ্য হয়েছিল। তবে জানালা বন্ধ করার কারণে আমার শরীর যেন আরো বেশি খারাপ করছিল।
কোনোমতে বাড়ি কাছে পর্যন্ত পৌঁছে যাবার পর বাস থেকে নেমে তাড়াতাড়ি টোটো পেয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আবার রওনা দিয়েছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। রাতের বেলায় তাই ভাবছিলাম টোটো পাওয়া যাবে না। আমি যখন পৌঁছেছিলাম তখন বাজে রাত আটটা নাগাদ ।এরপর একেবারে বাড়ির কাছে পৌঁছে তখন মাকে ফোন করেছিলাম ।যাতে আমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।এর আগে কখনো রাতের বেলায় বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠেনি।কারণ গ্রামের রাস্তা অন্ধকার। একা একা যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা শহরের মেয়েরা বর্ষার সময় গ্রামে গিয়ে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয় ।এদিকে আবার বাড়ির উঠান পিছল। সব সময় বৃষ্টি লেগেই রয়েছে। গ্রামের মানুষের যাতায়াতের পক্ষেও ভীষণ অসুবিধা। বাড়িতে যাওয়া মাত্রই দরকারি কাজ সাড়ার জন্য চলে গিয়েছিলাম ।এখন সব জায়গায় আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য ছবি তোলা হচ্ছে। আমিও সেই কারণে বাড়ি গিয়েছিলাম। আসলে যখনই সরকার পাল্টাই তখনই নানান রকম নিয়ম বার করা হয়।
আর সাধারণ মানুষকে ছুটে ছুটে বেড়াতে হয়, যাই হোক অনেক রাত পর্যন্ত বসে থেকে আমার কোন কাজ সম্পন্ন হয়নি। শেষে রাত দশটা নাগাদ বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। কারণ সারাদিন ক্লান্তির পর বাসে করে কতদূর রাস্তা গিয়ে আবারো বাড়ি এসে একটু রেস্ট না নিয়ে নিজের দরকার মেটানোর জন্য গিয়েছিলাম। সেটা যখন সম্পূর্ণ হয় না। তখন নিজের উপর নিজেরই ভীষণ রাগ হয়।
আজ এখানে শেষ করছি ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।
Thank you 🙏
Thank you 🙏