বেশ কিছুদিন ধরে ব্যস্ততার কারণ
নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব আমার গোটা একটা মাস ধরে ব্যস্ততার কারণ। বেশ কিছুদিন ব্যস্ততা নিয়ে কেটে যাচ্ছে দিন গুলো।শরীর মন কোনটাই ভালো নেই।আমরা কৃষ্ণনগরে একটা পুরনো বাড়ি কিনেছিলাম আর সেখানেই আমি আমার বর আর শ্বশুর,শ্বাশুড়ি এই চারজন মিলে বসবাস করি। বেশ কিছু বছর হয়ে গেল আমাদের বিবাহিত জীবন। তবে প্রত্যেক বছরই বাড়িতে কোনো না কোনো কাজকর্ম লেগেই থাকে। যেহেতু কেনা বাড়ি। কোন কিছুই মনের মতো নয়।সবটা চাইলে ও মনের মতো হবে না। তবে যতটুকু সম্ভব মনের মতো করবার চেষ্টা করে চলেছি।প্রত্যেকটা মেয়েদেরই ঘরের একটা স্বপ্ন থাকে। মেয়েরা সবসময়ই সংসার সাজাতেই ভালোবাসে। আমার মধ্যেও ঠিক একই রকম স্বপ্ন ছিল। আমি একটা সুন্দর বাড়ি বানাবো। সেই বাড়িটা আমার স্বপ্নের বাড়ি হবে। আসলে কথাই বলে মেয়েদের নিজস্ব কোন বাড়ি হয় না ।যেখানে ছোট থেকে জন্মায় সেটা হয়ে যায় বাপের বাড়ি।আর যেখানে সারা জীবন থাকবো সেটা শ্বশুর বাড়ি।
বিয়ের পর মেয়েরা যখন বাপের বাড়িতে বেড়াতে যায় তখন সে অতিথি হিসেবেই যায়। আর শ্বশুরবাড়িতে সারা জীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করতে করতে জীবনটা কেটে যায়। এই হল মেয়েদের জীবনের কাহিনী। যাই হোক ছোট থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল আমার সুন্দর একটা বাড়ি হবে ।সেই ঘরটাকে আমি মনের মতো করে সাজাবো। কিন্তু আমরা যে বাড়িটা কিনেছিলাম সেটা একেবারেই মনের মতো ছিল না।অনেকটা বাধ্য হয়েও বাড়িটা আমাদের কিনতে হয়েছিল। শ্বশুর মশাই ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। আর আমাদের বাড়ি ভাড়া তখন ছাড়ার জন্য উনারা বাধ্য করেছিলেন। তাই কাছাকাছি এই বাড়িটি পেয়েছিলাম তাই কিনে নিয়েছিলাম। না হলে হয়তো আবার গ্রামে ফিরে যেতাম। যাইহোক আমার সাথে সাথে শাশুড়ি মায়ের ইচ্ছা বাড়ি করবার।
তাই গত এক মাস ধরে আমাদের দোতলার কাজ চলছে। নীচের তলাটা একেবারেই মন মত নাই। তবে ইচ্ছা আছে উপরের ঘর গুলো একটু মনের মত করে সাজিয়ে গুছিয়ে নেওয়ার। তবে নীচে ও যদি ঠিক ঠাক না থাকে তাহলে উপরে যে মনের মতো হবে এমন টা নয়। তবুও চেষ্টা করতে বাধা নেই।বেশ কিছুদিন ধরে মিস্ত্রির খোঁজ চলছিল। তবে ছোটবেলায় যারা আমাদের মামার বাড়িতে কাজ করেছিল। তাদের দিয়ে সেদিন হঠাৎ করেই বাড়িতে মিস্ত্রি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে চেয়েছিলাম বর্ষা ঢুকে যাবার আগেই বাড়ির কাজকর্মগুলো মিটিয়ে নেওয়া ।জানিনা কতদূর করে উঠতে পারবো। গত ৬ই জুন ছিল আমাদের বাড়ির ছাদ ঢালাই। ছোট থেকেই শুনে এসেছি বাড়ির ছাদ ঢালাই সময় নাকি ঝমঝম করে বৃষ্টি হয় আমাদের ক্ষেত্রেও বৃষ্টি হয়েছিল তবে সেভাবে হয়নি। ছাদ ঢালাইয়ের মুহূর্ত আপনাদের মাঝে অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।
তবে বেশিরভাগ দিন মিস্ত্রি কাজ করে বেরিয়ে যাবার পরে শুরু হয় বৃষ্টি। বর্ষার সময় বাড়িতে কাজ করা একদিকে ভীষণ ভালো। বৃষ্টির জলেই সমস্ত দেওয়ালে জল দেওয়া হয়ে যায়। তবে এখন প্রত্যেকটা দিন প্রচন্ড পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে কেটে যাচ্ছে। তবে বাড়িতে নতুন কিছু হলে ভীষণ আনন্দ হয়। পুরোপুরি সম্পূর্ণ হলে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
Thank you 🙏