বৃষ্টির রাতে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।
গতকালকের পোস্টে আপনাদের মাঝে আমাদের বাড়ির কিছু কাজ কর্মের কথা শেয়ার করে নিয়েছিলাম। বাড়ির কাজ মোটামুটি কাজকর্ম শেষ হবার পর বাড়ির ছাদ ঢালাইয়ের জন্য কিছু রিচুয়াল্স থাকে তার জন্যই কিছু কেনাকাটা করতে যাওয়ার মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। বাড়ির ছাদ ঢালাই এর আগের দিন বিকেল থেকেই তুমুল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। বাড়ির মাথায় ছাদ না থাকলে কি অবস্থা হয় সেটা এই কদিনে খুব ভালোভাবেই বুঝে গেছি ।আসলে সিঁড়ির ঘর থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই ভাঙ্গা হয়েছিল। এত বৃষ্টি হয়েছিল যে ত্রিপলে ও বৃষ্টি আটকাচ্ছিল না। সমস্ত বাড়িতে বৃষ্টির জলে ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর সেগুলো পরিষ্কার করতে করতে প্রায় অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। সারাদিন পরিশ্রম করার পর আবার আরেকটা কাজ যখন জুড়ে যায় তখন শারীরিকভাবে মানুষকে আরো ভেঙে পড়তে হয়।
তবে সেদিন সাথে মা ছিল তাই একটু হলেও পরিশ্রম কম হয়েছিল। সমস্ত বৃষ্টির জল বাইরে থেকে বের করার পর তখন ঘড়ির কাঁটা বাজে আটটা পনেরো। ঝড় বৃষ্টির রাতে প্রায় দোকানে বন্ধ থাকবে। কিন্তু পরের দিন সকালে যেহেতু সমস্ত কিছু দরকার রাতে না বেরোলে একেবারে চলছিল না। সাথে ছিল সেজ বোন সে বিয়ের পর প্রথম বার বেড়াতে এসেছিল।সে ও নিজের জন্য কিছু কিনতে চেয়েছিল। তাই দুই বোন মিলে সাড়ে আটটার সময় বেরিয়েছিলাম কেনাকাটা করার জন্য। যেহেতু রাস্তাঘাট সমস্ত কিছুই ফাঁকা ছিল ।তাই বাড়ির কাছ থেকেই টোটো নিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি সমস্ত দোকানে প্রায় বন্ধ ।বোন নিজের জন্য জামা কিনতে চেয়েছিল। তাই বোনকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম জামাকাপড়ের দোকানে ।আমি পুজোর জন্য কয়েকটা জিনিসপত্র একা একাই কিনেছিলাম।
আসলে দুজনেই যদি একদিকে সময় কাটাতাম তাহলে আরো অনেকটা সময় লাগতো ।এদিকে অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছিল ।আবারো যদি বৃষ্টি নেমে আসে তাই হুটোপাটা করছিলাম। প্রথমে নিয়েছিলাম দুটো গামছা। ঢালাইয়ের দিন নাকি মিস্ত্রিদের গামছা দিতে হয়। এরপর নিয়েছিলাম পুজোর কয়েকটা ফল ।বাড়ি আসবার চিন্তা মাথায় ছিল তাই ওখানে বুঝতে পারিনি। এছাড়াও হাজার টেনশনে ছিলাম।ফলের দোকানে যে টাকা চেয়েছিল সেই টাকা দিয়েছিলাম ।বাড়িতে এসে যখন হিসাব করে দেখেছিলাম তখন দেখেছিলাম যে লোকটা আমাকে পুরো ঠকিয়ে নিয়েছিল। হয়তো ফলের হাফ দাম আর হাফ দাম আমার সাথে বেশি নিয়েছিল। যাইহোক ফল কিনে বোন যে দোকান থেকে কেনাকাটা করছিল সেই দোকানে চলে গিয়েছিলাম।
বোনের জিনিস পছন্দ করা হয়ে গিয়েছিল সে তার পছন্দমত একটা জামা নিয়ে নিয়েছিল। এদিকে আমিও মামীর জন্য একটা উপহার কিনে নিয়েছিলাম। আসলে মামীর জন্মদিনে খাওয়া হয়ে ছিল ।তাকে কোন গিফট দেওয়া হয়নি ।তাই একটা গিফট কিনে নিয়েছিলাম। এরপর ওখান থেকে টোটো ধরে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। আরো কয়েকটা জিনিস কেনাকাটা ছিল। কিন্তু অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছে বলে দুটো মেয়ে আর ঘোরাঘুরি করিনি। এরপর বাড়িতে এসে মামীর জন্য কেনা ড্রেসটা মামির ভীষণ পছন্দ হয়েছিল ।যাইহোক এরপরে কেনা বাকি ছিল এক টুকরো সোনার জিনিস আর একটু রুপার জিনিস। এগুলো নাকি ঢালাইয়ের দিন লাগে। তাই আবারও বাড়িতে এসে বাড়ির কাছাকাছি একটি দোকানে ফোন করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল দোকান খোলা আছে কিনা।
রাতের বেলাতেই প্রায় রাত সাড়ে নটা বাজে তখন আমি আর মামা গিয়ে আবারো ওই দোকান থেকে এক টুকরো সোনা আর এক টুকরো রুপা নিয়ে এসেছিলাম। যাতে পরের দিন পুজোতে দেওয়া যায়। যাই হোক এই ছিল সেদিন আমাদের ঝড়-বৃষ্টির রাতে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা। আসলে একেক দিনের অভিজ্ঞতা একেক রকম হয়।
আজ এখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলের ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
Thank you 🙏