নিমন্ত্রণ উপলক্ষে বোনের বাড়িতে পৌঁছানোর সময়

in Incredible India20 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলের ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।

IMG20260514132212.jpg

গতকালকে নিমন্তন্ন বাড়িতে যাবার পথে যে ভোগান্তি হয়েছিল সেই মুহূর্তই কিছুটা শেয়ার করে নিয়েছিলাম। আজকে তারপর থেকে কিছুটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। সেদিন সমস্ত ভোগান্তি অতিক্রম করে যখন মেইন রোডে উঠেছিলাম তখন বেশ ভালোই লাগছিল । গাড়ি দ্রুত গতিতে চলছিল।যাইহোক সেই মেইন রোড থেকে প্রায় তিন চার কিলোমিটার গেলে তবে গন্তব্যে কিছুটা হলেও পৌঁছানো যাবে। সেদিন তবুও যেন রাস্তা শেষ হতেই চাইছিল না। গাড়ির মধ্যে বেশ বিরক্তিকর লাগছিল। এদিকে বোনের বর বারবার ফোন করে খোঁজ নিচ্ছিল। যেহেতু আমরা চিনি না তাই আমাদের রাস্তা চেনানোর জন্য শেষে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম কাটোয়া গঙ্গার ঘাটের ধারে ।সেখানে একধারে গাড়িটা পার্কিং করা হয়েছিল। কারণ গাড়ি নিয়ে আর ওপারে যাওয়া যাবে না।এখানেই মজার বিষয় হলো যখনই আমরা কাটোয়া বাসস্ট্যান্ডে ঢুকেছিলাম তখনই হঠাৎ করেই আমার জায়গাটা চেনা চেনা লাগছিল।

IMG-20260514-WA0017.jpg

কারণ কিছুদিন আগেই আমি মামাশ্বশুরের মেয়েকে নিয়ে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম। সেখানেও যাবার পথে প্রচুর ভোগান্তি হয়েছিল। সেই মুহূর্তই আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিয়েছিলাম। হয়তো আপনাদের মনে নাও থাকতে পারে। সেই রাস্তা ধরেই আমরা কাটোয়া ঘাটের দিকে পৌঁছে গিয়েছিলাম। পৌঁছানোর পথে দিদা ,মামা-মামীকে সকলকেই আমার শান্তিনিকেতন যাবার গল্প করছিলাম। আর বারবার বলছিলাম আমি তোর এই রাস্তা চিনি।তারপর থেকে আর রাস্তা চিনতে অসুবিধা হয়নি। কারণ ওই রাস্তাটা পুরোটাই আমার নখদর্পণে ছিল। কারণ একদিনে যে ভোগান্তি হয়েছিল সেই ভোগান্তিতে আমাকে রাস্তা চিনিয়ে দিয়েছিল। যাইহোক এবারে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আমাদের লঞ্চ পার হতে হবে আমরা পৌঁছানো মাত্রই একটা লঞ্চ ছেড়ে দিয়েছিল।

আমরা তাড়াহুড়ো করিনি কারণ জল দেখে আমার এমনিতেই ভীষণ ভয় লাগে ।তাই ধীরে সুস্থে নদী পার হওয়ায় ভালো। সকলের কাঠফাটা রোদের মধ্যে নদী পার হতে ভীষণই অস্বস্তি হচ্ছিল । ফাঁকা জায়গায় রোদ বেশি লাগে।এদিকে নদীর ধারে থেকে বড় মামা আমাকে আর বোনকে বরফের ঠান্ডা সুরসুরি কিনে দিয়েছিল ।যেটা খেলে একটু হলেও স্বস্তি পেয়েছিলাম। দিদা ভীষণ অসুস্থ। প্রথমবার নাতনির বাড়ি যাবে তাই ওনাকে খুব সাবধানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ।প্রচন্ড রোদের মধ্যে আমরা ছাতা নিয়ে যায়নি। উনাকে নিয়ে ভীষণ চিন্তা হচ্ছিল। কোনক্রমে নদী পার হয়ে নদীর ওপারে দেখি বোনের বর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য।আমাদের রাস্তা চিনিয়ে নিয়ে যাবে বলে। কাটোয়ার গঙ্গা পার হয়ে ওখান থেকে খানিকটা যেতে হয়। এদিকে দিদাকে বোনের বরের বাইকে তুলে দিয়েছিলাম ।যাতে দিদাকে হাঁটতে না হয়।

নদীর কাছে থেকে গিয়ে আবারো একটা টোটো ধরে নিয়েছিলাম গন্তব্য স্থলে পৌঁছানোর জন্য। এতটা জার্নি করে এত যানবাহন অতিক্রম করে একটা জায়গাতে যেতে সত্যিই কারোরই ভালো লাগেনা। সেই জায়গাতে গিয়ে কোনো আনন্দ থাকে না।কিছু কিছু জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও উপায় থাকে না ।বাধ্য হয়ে যেতে হয়। এরপরে টোটো করে সরাসরি পৌঁছে গিয়েছিলাম আমাদের গন্তব্যস্থলে। সেখানে তো আমাদের দেখে সকলেই ভীষণ খুশি হয়েছিল ।খুশির মুহূর্ত পরের পোস্টে শেয়ার করে নেব।


আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

Sort:  
 18 hours ago 

Thank you 🙏

Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64715.35
ETH 1920.72
USDT 1.00
SBD 0.38