ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটি রান্না রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে নতুন একটা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
বেশ অনেকদিন পর আবার একটা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। এর আগে কচুর রেসিপি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম। আজকে ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটা তৈরি রেসিপি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। এর আগেও আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি আমাদের বাড়িতে শাকসবজি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়। কারণ এইসব শাকসবজি খেলে শরীর অনেকটাই ভালো থাকে ।
এমনকি অনেক পুষ্টিকর জিনিসও পাওয়া যায়। শরীরের পক্ষে অনেকটাই স্বাস্থ্যকর হয়। এইসব কচু সাধারনত বাড়ির আশেপাশেই বেড়ে ওঠে। তাই এইগুলো একদমই সার ছাড়া বেড়ে ওঠে তাই খেতেও অনেক সুস্বাদু হয়।
কচুর ডাটাতে ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। সব রকমই ভিটামিন কচুর ডাটাতে রয়েছে। এছাড়াও প্রচুর রোগ প্রতিরোধেও আমাদের সাহায্য করে। তবে জলের ধারে যে কচু গুলো হয় সেগুলো খেলে অনেক সময় আমাদের মুখ চুলকায়। কিন্তু বাড়ির আশেপাশে যেগুলো হয় সেগুলো খেলে অতটা অসুবিধা হয় না। চলুন তাহলে শুরু করি কচুর ডাটা রান্নার রেসিপি।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | কালো কচুর ডাটি | ১ আঁটি |
| ২ | ইলিশ মাছের মাথা | ১ টা |
| ৩ | সাদা তেল | ২৫ গ্ৰাম |
| ৪ | শুকনো লঙ্কা | ২ টো |
| ৫ | কালো জিরে | ১ চামচ |
| ৬ | আদা | ১৫ গ্ৰাম |
| ৭ | জিরে | ১ চামচ |
| ৮ | কাঁচা লঙ্কা | ৬ টা |
| ৯ | পাতিলেবু | হাফ |
| ১০ | লবণ | ১ চামচ |
| ১১ | হলুদ | হাফ চামচ |
প্রথম ধাপ
প্রথমেই আমি এক আঁটি কালো কচুর ডাটি নিয়েছি। এরপরে কচুর ডাটি ভালো করে ছোট ছোট আকারে খোসা ছাড়িয়ে কেটে নিয়েছি। খোসা ছাড়ানো হয়ে গেলে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ
এর পরে কচু ডাটি ভালো করে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এর জন্য আমি একটা পাত্রে ডাটি গুলো জল দিয়ে সিদ্ধ করার জন্য বসিয়ে দিয়েছিলাম। সিদ্ধ করার সময় সামান্য পরিমাণে লবণ দিতে হবে।
তৃতীয় ধাপ
ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে গেলে আমি একটা পাত্রে কচুর ডাটা রেখে দিয়ে খানিকটা ঠান্ডা জল ঢেলে দিয়েছি।
চতুর্থ ধাপ
এরপর একটা চামচের সাহায্যে চেপে চেপে কচু থেকে জল বের করে নিতে হবে।
পঞ্চম ধাপ
আমি আগে থেকেই ইলিশ মাছের মাথা কেটে ধুয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে রেখে দিয়েছিলাম। এরপরে ইলিশ মাছের মাথাটাই ভালোভাবে লবণ ,হলুদ মাখিয়ে রেখে দিতে হবে। এবারে গ্যাস অন করে কড়াই বসিয়ে দিতে হবে। কড়াই ভালো ভাবে গরম হয়ে গেলে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে দিতে হবে। কড়াইতে ভালোভাবে তেল গরম হয়ে গেলে ইলিশ মাছের মাথাটা ভালো করে ভেজে নিতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপ
এবারে আর কিছুটা পরিমাণ তেল এড করে নিয়েছি। তেল গরম হলে তেলের মধ্যে শুকনো লঙ্কা আর কালোজিরে দিয়ে দিতে হবে।
সপ্তম ধাপ
এরপরে তেলের মধ্যে বেটে রাখা কাঁচালঙ্কা, জিরে ,আদা ,সমস্ত কিছু মসলা দিয়ে দিতে হবে।
অষ্টম ধাপ
এবারে পরিমাণ মতো লবণ হলুদ দিয়ে দিতে হবে।
নবম ধাপ
এবারে ভালো করে মশলাটা কষিয়ে নিতে হবে।
দশম ধাপ
মশলা ভালো করে কষানোর পর সিদ্ধ করে রাখা কচুর ডাটি গুলো কড়াইতে দিয়ে দিতে হবে।
একাদশ ধাপ
কচুর ডাটি গুলো কড়াইতে দেওয়ার পর ভালো করেই নাড়াচাড়া করতে হবে। কচুর ডাটা থেকে জল বের হবে। তাই কোন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
শেষ ধাপ
জল শুকিয়ে আসলে ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে।
তৈরি
সবশেষে সামান্য লেবুর রস চিপে দিয়ে নামিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডাটি রেসিপি।
এভাবে কালো কচুর ডাটা রান্না করলে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়। আমি বাড়িতে খুব সহজেই রেসিপি দিয়ে তৈরি করেছিলাম। আপনারা চাইলেও এইভাবে খুব সহজেই রেসিপিটি তৈরি করতে পারেন। রেসিপিটি তৈরি করতে তেমন কিছু খরচ হয় না। এরকম ধরনের রেসিপি বাড়িতে তৈরি করে খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী।
আজ এখানে শেষ করছি ।আবার পরবর্তী কোনো রেসিপি নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
ইলিশ মাছ দিয়ে কচুর ডাটা দি রেসিপি এর আগে কখনোই দেখা হয় নাই। আমাদের দিকে কচুর পাতা দিয়ে ইলিশ মাছ দিয়ে বা বিভিন্ন বড় মাছ দিয়ে রান্না করে সেটা অনেক টেস্টি হয়।
আপনার সবগুলো ধাপে ধাপে কাঁদবো দেখে মনে হয় খাবারটি মনে অনেক টেস্ট হবে দেখতেও তা বোঝা যাচ্ছে।
ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার পোস্টে কমেন্ট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুর ডেটা ঘন্টো খেতে দারুন স্বাদ। আমি যখন বাড়িতে ছিলাম তখন আমার আম্মা নুনা ইলিশ কিনে এভাবেই মাছের মাথাগুলো দিয়ে বিভিন্ন স্বাদের তরকারি বানাতেন । বিশেষ কচু ঘন্টোর ভিতরে ইলিশ মাছের মাথা দিলে তার স্বাদ জীবন বেড়ে যায়।
আপনি এই রেসিপিটা আমাদের মাঝে খুব ভালোভাবে উপস্থাপনা করেছেন । সহজে যে কেউ আপনার এই রেসিপি দেখে সুস্বাদু এই রান্না তৈরি করতে পারবে।
আমার পোস্টে কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ইলিশ মাছ দিয়ে কচুর ডাটা রেসিপি টি খেতে অসাধারণ লাগে। আমি অনেক বার খেয়েছি এর স্বাদ কখনো ভোলার না। শুধু ইলিশ মাছ না কচুর পাতা বা কচুর ডাটা দিয়ে বড় বড় মাছ এবং চিংড়ি মাছ রান্না করলে ও অনেক স্বাদ হয়।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার এই ইলিশ মাছ ও কচুর ডাটা রেসিপিটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
আমার পোস্টে কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
গ্রামের দিকে কচুর ডাটা সবজায়গায় পাওয়া যায়। তবে আমি যখন এসব খেতে চাই না তখন মা বলে, কচুর ডাটা খেলে চোখ ভালো থাকে। আর তাছাড়া সবুজ শাক সবজিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন পাওয়া যায় যেটা আমাদের শরীরের জন্য অনেক বেশি জরুরি।
আজ আপনি ইলিশ মাছ দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করেছেন। আজ প্রথম দেখলাম ইলিশ মাছ দিয়ে কচুর ডাটা রান্না করতে। ভালো লাগলো আপনার রেসিপিটা। ভালো থাকবেন।
আমার পোস্টে কমেন্ট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কচুর ডাটি বাড়ি থাকতে অনেক বার খেয়েছি এবং তাতে আমার মা অনেক কিছু দিতো এটা খেতে অনেক ভালো লাগে। কিন্তু ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কখনো কচুর ডাটি খাওয়া হয়নি। এবং আপনার পোস্ট পড়ে বোঝা যাচ্ছে এটা খেতে অনেক সুস্বাদু ছিলো। যেহেতু এখানে কচুর ডাটি আমি দেখতে পাই না। যদি কখনো বাংলাদেশে যেতে পারি তাহলে এক বার চেষ্টা করবো কচুর ডাটি এবং ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে খাওয়ার জন্য। সুন্দর একটি পদ্ধতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ রেসিপিটি অনেক সুন্দর ছিল।
আমার পোস্টে কমেন্ট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।