বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন? আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে ৫ জুলাই রবিবার। আজ ছিল আমার মেজ বোনের মেয়ের জন্মদিন। সেই উদ্দেশ্যেই আজকে বাপের বাড়ি রওনা দিয়েছিলাম। প্রথম থেকেই আমি যাব সেটা আগে থেকেই ঠিক ছিল । অন্যান্য বারের মতো যাব না একথা বলিনি। কারণ যেখানেই যাব না বলব সেখানেই আগে ছুটতে হয়।কিন্তু কোথাও যাওয়ার আগে থেকেই আমার মনের ভিতর অস্বস্তি বোধ হয়। আবারও কখনো কখনো শরীরটাও খারাপ করে। আমারও কিছু দরকারি কাজ ছিল বাড়িতে ।সেই জন্য বিশেষ করেই যাওয়া। গতকাল রাতে হঠাৎ করেই ঠিক হলো বড়ো মামা, দিদা, মামার মেয়ে সকলেই যাবে মেজো বোনের মেয়ের জন্মদিনে। তাই মনে একটু সাহস হয়েছিল। একা একা আর যেতে হবে না। সাথে আমার প্রিয়জনেরা যাবে ।মামা গতকালকে রাতে একটা গাড়ি ঠিক করেছিল। আমি প্রথমে বলেছিলাম বাসে করে যেতে ।যাতে অল্প খরচে হয়ে যায় ।কিন্তু দিদা অসুস্থ তাই বাসে করে নিয়ে যেতে মামা রিক্স নেয়নি।
দিদার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল মেয়ের বাড়িতে ঘোরার । অনেক বছর আগে দিদা নিজের মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিল। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন দিদা আমাকে রেখে মাসে দুই বার করে নিজের মেয়ের বাড়িতে যেতে।মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা সম্পূর্ন করার জন্যই বড়মামা গাড়ি ভাড়া করেছিল। যাইহোক আজকে সকাল থেকেই ওয়েদারটা ভালোই ছিল। সকাল থেকেই আকাশে ঘন কালো মেঘে ঢাকা ছিল ।আবার কখনো কখনো মেঘ সরিয়ে সূর্যের আলো উঁকি দিচ্ছিল। যাই হোক আমরা সকলে রেডি হয়ে বেলা এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে পড়েছিলাম বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে। সাথে শাশুড়ি মাকে নিয়ে নিয়েছিলাম। শাশুড়ি মা তরণী পুরে অর্থাৎ আমার শ্বশুর বাড়িতে উনার কিছু কাজ ছিল ।তাই ওনাকে ওই বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের গাড়ি তে তুলে নিয়েছিলাম। বাপের বাড়ি যাব আর শ্বশুর বাড়িতে ঢুকবো না এমনটা তো হয় না। আমরা সচরাচর ওই রাস্তাতে গেলে এক পাক করে শ্বশুর বাড়িতে ঢোকা হয় । এতে ঠাকুমা ভীষণ খুশি হন।যাই হোক পুরো রাস্তা খুব ভালোভাবে গিয়েই শাশুড়ি মাকে শ্বশুর বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে ভেবেছিলাম সোজা বাড়ি চলে যাব।
কিন্তু কাকু ছাদ থেকে দেখে সকলকে আবার জোর করে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেল ।ঠাকুর মার সাথে আর সকলের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে আবারো বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়ি যেতে গাড়িতে ২০ মিনিট সময় লাগে। এরপরে আমরা সকলে খুব তাড়াতাড়ি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলাম। গাড়িতে করে গেলে খুব একটা অসুবিধা হয় না ।আমার বাপের বাড়ি একেবারে সোজা রাস্তাতে যাতায়াত করি। যতবার যাওয়া হয় চেনাশোনা ড্রাইভার নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা যখন বাড়িতে পৌঁছেছিলাম তখনও কেউ এসে পৌঁছায়নি। আমরাই প্রথমে চলে গিয়েছিলাম। গ তখন দেখি মা একা হাতে সমস্ত কাজকর্ম করছে। আমরাও সাথে সাথে গিয়ে মায়ের হাতে হাতে কিছু কাজ করে দিয়েছিলাম।
এই গরমের মধ্যে কাঠের উনুনে রান্না করা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। আমার মা গ্যাসে একদমই রান্না করতে চান না ।মায়ের নাকি কাঠের জ্বালে রান্না ছাড়া গ্যাসে রান্না খেতে ইচ্ছে করে না। কাঠের রান্নায় স্বাদ একেবারেই আলাদা। জন্মদিনের বিভিন্ন রকমের পদ আয়োজন ছিল অর্ধেকের বেশি রান্নাবান্না হয়ে গিয়েছিল। যাই হোক সমস্ত কিছু অ্যারেঞ্জ আমার মা আর বোনের বর দুজন মিলেই করেছিল এর পরের সমস্ত জন্মদিনের মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবার ও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
Thank you 🙏